নিজস্ব প্রতিবেদক, মণিরামপুর : মণিরামপুরে অল্প সময়ে ও স্বল্প খরচে মামলা নিষ্পত্তিতে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে স্থানীয় গ্রাম আদালত। উচ্চ আদালতে বছরের পর বছর ঝুলে থাকা মামলা নিষ্পত্তির পাশাপাশি নতুন দায়েরকৃত মামলার ইতিবাচক সুরাহা দিয়ে উপজেলার গ্রাম আদালতগুলো বিচারপ্রার্থীদের কাছে ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছে। মামলা নিষ্পত্তি: কার্যক্রম শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ১,৪৭১টি মামলা দায়েরের মধ্যে ১,৪৬১টি মামলাই নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বর্তমানে চলমান রয়েছে মাত্র ১০টি মামলা। ক্ষতিপূরণ আদায়: গ্রাম আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মামলা থেকে এ পর্যন্ত মোট ৩ কোটি ৯৮ লাখ ৫৪ হাজার ৪০০ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করে ভুক্তভোগীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় মডেল: মনিরামপুর উপজেলা বর্তমানে শুধু যশোর জেলাতেই নয়, খুলনা বিভাগের মধ্যে গ্রাম আদালত কার্যক্রমে এক মডেল উপজেলায় পরিণত হয়েছে। বছরভিত্তিক অগ্রগতির বিবরণ: ২০২৪ (ডিসেম্বর পর্যন্ত): ৩১৪টি মামলার মধ্যে ২৯২টি নিষ্পত্তি (উচ্চ আদালত থেকে স্থানান্তরিত মামলা ছিল ৩৭টি)। অর্জিত ক্ষতিপূরণ ২৭ লাখ ৪৬ হাজার ৭০০ টাকা। ২০২৫ (ডিসেম্বর পর্যন্ত): ৬২৬টি মামলার মধ্যে ৫৯৫টি নিষ্পত্তি (উচ্চ আদালত থেকে এসেছে ৩১টি)। অর্জিত ক্ষতিপূরণ ১ কোটি ৮৭ লাখ ২২ হাজার ৫০০ টাকা। চলতি বছর: মোট ৫২৮টি মামলা নিষ্পত্তির মধ্য দিয়ে লক্ষ্যণীয় সফলতা অর্জিত হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিবদের তত্ত্বাবধানে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে তৈরি করা হয়েছে সুসজ্জিত এজলাস, যেখানে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে শপথের মাধ্যমে নিরপেক্ষ বিচার প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হয়। মনিরামপুর উপজেলার জালালপুর গ্রামের মুনজিলা খাতুন ও বাকোশপোল গ্রামের জোস্না বেগম জানান, আদালত বা থানা-পুলিশের দীর্ঘসূত্রতা এড়িয়ে মাত্র ২ থেকে ৪ দিনের মধ্যেই তারা বিচার ও ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ সম্রাট হোসেন জানান, ইউনিয়ন পরিষদের বিচারিক পরিবেশ নিশ্চিতের পাশাপাশি প্রতি মাসে ৩-৪টি গ্রাম আদালত নিজে তদারকি করছেন। গ্রাম আদালত তদারকিতে বিশেষ অবদানের জন্য গত বছর জেলার শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কারও পান এই কর্মকর্তা। ক্ষুদ্র পারিবারিক বিরোধ ও দেওয়ানি মামলা গ্রাম আদালতেই দ্রুত সমাধান হওয়ায় সময় ও বিপুল অর্থ বাঁচছে স্থানীয় জনগণের।