সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের কপোতাক্ষ নদের তীব্র জোয়ারের চাপে বেড়িবাঁধে নতুন করে ফাঁটল দেখা দেওয়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বালিয়া, শুভংকরকাঠি, তেঘরিয়া ও শ্রীমন্তকাঠি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। গত শনিবার রাতে বালিয়া অংশে বাঁধের একটি বড় অংশ ভেঙে গেলে স্থানীয়দের দ্রুত সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মাটি দিয়ে তা সাময়িকভাবে আটকানো সম্ভব হয়। কিন্ত গত মঙ্গলবার দুপুরে আরও দুটি স্থানে নতুন করে ফাটল দিয়ে পানি চুঁইয়ে ঢুকতে দেখা গেছে। গত ৪ দিন ধরে ঘের মালিক ও এলাকাবাসী রাত জেগে ঝুড়ি-কোদাল হাতে পালাক্রমে বাঁধ পাহারা দিচ্ছেন এবং স্বেচ্ছাশ্রমে তা মেরামতের চেষ্টা করছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় প্রশাসন বা রাজনৈতিক নেতাদের বারবার খবর দেওয়া হলেও কেউ সরেজমিনে পরিদর্শনে আসেননি। প্রায় ১২-১৩ বছর আগে কপোতাক্ষ খননকালে সিএস ম্যাপ অনুসরণ না করে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে খনন ও টিআরএম প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে নদ গতিপথ বদলে বালিয়া গ্রামের লোকালয়ের খুব কাছে চলে এসেছে এবং গভীরতা অস্বাভাবিক বেড়ে পানির চাপ মারাত্মক রূপ নিয়েছে। এলাকাবাসী জানান, প্রতিবছরই বাঁধ ভেঙে ঘরবাড়ি, মাছের ঘের ও ফসলি জমি লোনা পানিতে প্লাবিত হয়ে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হলেও বহু আবেদন ও প্রতিকার চেয়ে মানববন্ধন করলেও মেলেনি স্থায়ী সমাধান। খেশরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম লাল্টু বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরে দ্রুত স্থায়ী টেকসই বেড়িবাঁধ ও সিএস ম্যাপ অনুযায়ী পুনখননের দাবি জানিয়ে বলেন, প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও তারা কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া জানান, পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন। ইতোপূর্বে পরিদর্শন করলেও বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সারা দেশে জরুরি কাজ বন্ধ থাকায় বরাদ্দ না পাওয়া পর্যন্ত সেখানে কোনো মেরামতের কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।