নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর শহরতলীর শেখহাটি তমালতলা এলাকার মেধাবী শিক্ষার্থী চাঞ্চল্যকর সামিনা আক্তার শাম্মী হত্যা মামলায় স্বামী সুজনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। মামলার তদন্ত শেষে আদালতে এই চার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই তানিম ইসলাম। অভিযুক্ত সুজন টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানার শান্তিনগর গ্রামের সিরাজুল শেখের ছেলে। মামলার অভিযোগে জানা গেছে, আসামি সুজনের মামাতো বোন শাম্মী। উভয় পরিবারের সম্মতিতে তারা ভালোবেসে চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি বিয়ে করেন। বিয়ের পর তারা নিজ বাড়িতে সংসার শুরু করেন। এর মধ্যে সুজন কাজের সন্ধানে বিদেশ গিয়ে হঠাৎ দেশে ফিরে আসেন। কয়েক দিনের মাথায় সুজন তার মায়ের সাথে যোগাযোগ করে স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি যশোরে চলে আসেন। কিছুদিন শ্বশুরবাড়িতে থাকার পর শাম্মীর ছোট চাচার বাড়িতে তারা নতুন সংসার শুরু করেন। সাংসারিক টুকিটাকি বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই মনোমালিন্য হতো। বিষয়টি শাম্মী তার মা-বাবাকেও জানিয়েছিল। গত জুনে একদিন রাতে রান্নাবান্না ও খাওয়াদাওয়া নিয়ে সুজন ও শাম্মীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতিও হয়। এরপর শাম্মী রাগ করে ঘুমিয়ে পড়ে। সুজন গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থেকে অন্ধকারের মধ্যে ঘরে থাকা ছুরি দিয়ে শাম্মীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। কিছুক্ষণ পর স্ত্রী মারা গেছে বুঝতে পেরে সুজন নিজের বুকে ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। সকালে দুজন ঘুম থেকে না ওঠায় ডাকাডাকির পর দরজা ভেঙে শাম্মীর মৃতদেহ ও সুজনকে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সংবাদ পেয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে এবং আহত সুজনকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের মা তাসলিমা বেগম বাদী হয়ে জামাই সুজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে আটক আসামির দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও সাক্ষীদের তথ্যের ভিত্তিতে আসামি সুজনের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। চার্জশিটে অভিযুক্ত সুজনকে আটক দেখানো হয়েছে।