Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

❒স্বঘোষিত গডফাদার মানিকের নিয়ন্ত্রণে মাদক ও জুয়া

বানীশান্তা যৌনপল্লীতে চরম অর্থনৈতিক সংকট ও আবাসন ঝুঁকি

এখন সময়: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর , ২০২৬, ১০:১৪:০০ পিএম

দাকোপ (খুলনা) প্রতিনিধি : খুলনার দাকোপ উপজেলার বানীশান্তা পশুর নদী তীরে অবস্থিত যৌনপল্লীর অধিবাসীদের জীবন এখন চরম দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। এক সময়ের চালনা বন্দরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই পল্লীতে বর্তমানে ১৩০ জন ভাগ্যবিড়ম্বিত নারী ও অন্তত অর্ধশত শিশু বসবাস করছে। সামাজিক অবহেলা, অর্থনৈতিক দৈন্যতা এবং পশুর নদীর অব্যাহত ভাঙনে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে তাদের। সামনে প্রমত্তা পশুর নদীর ভাঙন আর পেছনে চিংড়ির ঘের-দুয়ের মাঝখানে টোঙ ঘরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বাস করছেন এসব নারীরা। নদীর পানির চাপ সামান্য বাড়লেই তাদের নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়। একই সাথে পল্লীর অন্তত ৫০ জন শিশুর স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুযোগ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পল্লীর সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের অভিযোগ, চালনা বন্দর মোংলায় স্থানান্তরিত হওয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে কাষ্টমার কমে যাওয়ায় তারা এখন চরম আর্থিক কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। পল্লীর নারী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদিকা আনজুমা বেগম জানান, কাস্টমার সংকটে তাদের উপার্জন প্রায় বন্ধের পথে। অন্যদিকে পল্লীর সভানেত্রী লাভলী বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অধিকাংশ নারী কর্মী দিনে তিন বেলা ঠিকমতো খেতে পারেন না। প্রতি বছর নদী ভাঙনের কারণে তাদের বারবার ঘর স্থানান্তর করতে হয়। তারা মূলত মানবিক জীবনযাপন ও স্থায়ী বসবাসের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এই মানবিক সংকটের সুযোগ নিয়ে পল্লীতে গড়ে উঠেছে রমরমা মাদক ও জুয়ার আসর। স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় মানিক নামের এক চিহ্নিত ব্যবসায়ী সেখানে স্বঘোষিত ‘গডফাদার’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, মানিকের নিয়ন্ত্রণে পুরো পল্লীতে অবাধে মাদক সরবরাহ ও জুয়ার আড্ডা চলছে। মানিকের ইশারা ছাড়া সেখানে কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হতে পারে না। এমনকি পল্লীতে কর্মরত তিনটি এনজিওর কার্যক্রম নিয়েও নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। স্বাস্থ্য সেবার নামে নামমাত্র দায় সেরে নিজেদের জবাবদিহিতা এড়াতে এসব এনজিও কর্মীরা ওই গডফাদার মানিককে সন্তুষ্ট রেখে কার্যক্রম চালায় বলে অভিযোগ উঠে এসেছে। এনজিও ‘পিএইচডি’-র কর্মী অর্পিতা বিশ্বাস পূজার সাথে স্বাস্থ্য সেবার অনিয়ম নিয়ে কথা বলতে গেলে এই মানিক তাতে বাঁধা দেয় বলে জানা যায়। বিগত দিনের তুলনায় সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে; আগে কোনো কর্মী মারা গেলে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হলেও বর্তমানে পৃথক কবরস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে আজও স্থানীয়রা এদের দাফন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে অনীহা প্রকাশ করে। অবস্থা দৃষ্টে, বানীশান্তার যৌনকর্মীরা মানবিক অধিকার রক্ষা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। অন্যদিকে সচেতন মহল অনতিবিলম্বে পল্লীটিকে মাদকমুক্ত করতে প্রশাসনের বিশেষ অভিযান ও সার্বক্ষণিক নজরদারির জোর দাবি জানিয়েছেন।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)