নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরে কলেজ শিক্ষকসহ তিনজনের বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। পৃথক এসব ঘটনায় চোরেরা ২১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, ৮ ভরি রূপার অলঙ্কার ও নগদ ২ লাখ ৫৭ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে। এর মধ্যে একটি চুরির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আহাদ আলী মনি নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অভিযোগে জানা গেছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর যশোর সদর উপজেলার বোলপুর গ্রামের বাসিন্দা ও যশোর বিএএফ শাহিন কলেজের সিনিয়র শিক্ষক গাজী আবুল কালাম আজাদের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। আগের দিন তার স্ত্রী পিতার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে ঘরে তালা দিয়ে তিনি ও তার ছেলে কলেজে যান। দুপুর ১টার দিকে বাড়িতে ফিরে প্রাচীরের গেট খুলতেই দেখতে পান, প্রধান দরজার তালা ভাঙা। ঘরে ঢুকে তিনি দেখনে পান চোরেরা আলমারির তালাও ভাঙ্গে নগদ ১ লাখ টাকা ও ১৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেছে। চোরেরা রান্নাঘর থেকে দা, বটি ও কোদাল বের করে ঘরের সোফার ওপর রেখে যায়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে সদর উপজেলার এড়েন্দা গ্রামের বাসিন্দা মদন রায় ও তার ভাই মাধব রায়ের পাশাপাশি বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। দুই পরিবারের সদস্যদের কৌশলে অচেতন করে দুর্বৃত্তরা নগদ ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা, ৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ৮ ভরি রূপার অলঙ্কার নিয়ে যায়। মামলার অভিযোগে হৃদয় রায় উল্লেখ করেন, তাদের বাড়ি ও তার কাকা মাধব রায়ের বাড়ি পাশাপাশি। ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে খাবার খেয়ে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে তিনি অসুস্থ বোধ করেন। পাশের কক্ষে গিয়ে দেখেন, তার বাবা-মা বেহুঁশ অবস্থায় ঘুমিয়ে আছেন। ঘরের স্টিলের আলমারি খোলা এবং মালামাল ছড়ানো ছিটানো অবস্থায় পড়ে আছে। বাবা-মাকে ঘুম থেকে তোলার পর আলমারি থেকে নগদ ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা, ৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ৫ ভরি রূপার অলঙ্কার চুরি যাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরে রান্নাঘরে গিয়ে জানালার গ্রিল ভাঙা দেখতে পান তিনি। এরপর পাশের বাড়িতে গিয়ে কাকা মাধব রায় ও কাকিকেও বেহুঁশ অবস্থায় দেখতে পান হৃদয়। তাদের সিঁড়িঘরের দরজা ভাঙা ছিল। ঘরের আলমারি খোলা এবং মালামাল ছড়ানো অবস্থায় পাওয়া যায়। মাধব রায় ও তার স্ত্রীকে ঘুম থেকে তোলার পর তারা জানান, আলমারিতে রাখা ৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ৩ ভরি রূপার অলঙ্কার চুরি হয়েছে। এ ঘটনায় একই গ্রামের আহাদ আলী মনি, কুলসুম বেগম, জিসান ও হাসিব জড়িত থাকতে পারেন বলে তারা সন্দেহ করছেন। পুলিশ জানায়, মদন রায় ও মাধব রায়ের বাড়িতে চুরির ঘটনায় সন্দেহভাজন আসামি আহাদ আলী মনিকে সোমবার দুপুরে চাঁচড়া মোড় থেকে আটক করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালি থানার এসআই শেখ আশরাফুল আলম তাকে আটক করেন। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।