Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ডেলিভারি কক্ষ পর্দাহীন, বিব্রত প্রসূতিরা

এখন সময়: শনিবার, ১৭ অক্টোবর , ২০২৬, ১০:৫০:৪৫ পিএম
যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ডেলিভারি কক্ষ পর্দাহীন, বিব্রত প্রসূতিরা

বিল্লাল হোসেন : যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের নরমাল ডেলিভারি কক্ষে প্রসূতিদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকার অভিযোগ উঠেছে। কক্ষের প্রবেশপথে একটি ছোট পর্দা থাকলেও ডেলিভারি টেবিলের চারপাশে নেই আড়াল করার ব্যবস্থা। ফলে সন্তান প্রসবের আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় অন্যদের সামনে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন প্রসূতিরা। অনেক সময় কক্ষে পুরুষ ইন্টার্ন চিকিৎসকের উপস্থিতিতে অস্বস্তিতে পড়ার কথাও জানিয়েছেন এক প্রসূতির স্বজন। রোগীদের অভিযোগ, সন্তান প্রসবের মতো স্পর্শকাতর সময়ে ন্যূনতম গোপনীয়তা নিশ্চিত না হওয়ায় তাদের মানসিক চাপের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডের এক পাশে অবস্থিত নরমাল ডেলিভারি কক্ষটিতে প্রবেশের মুখে একটি ছোট পর্দা রয়েছে। তবে রোগীকে যে টেবিলে শুইয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়, তার চারপাশে পর্দা না থাকায় কক্ষের ভেতরে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখা কঠিন বলে জানিয়েছেন রোগী ও স্বজনেরা। তাদের অভিযোগ, প্রবেশপথের পর্দাটিও সব সময় টানানো থাকে না। ফলে রোগীর চিকিৎসা চলাকালে অন্যদের দৃষ্টির আড়ালে থাকার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। প্রসূতির স্বজন জুলিয়া খাতুন জানান, সম্প্রতি তার অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর নরমাল ডেলিভারি কক্ষে নেওয়া হয়। সন্তান প্রসবের সম্ভাবনা যাচাই করতে সেবিকারা তাকে সেখানে নিয়ে যান। অনেক সময় কক্ষে পুরুষ ইন্টার্ন চিকিৎসক উপস্থিত থাকেন বলে দাবি করেন তিনি। পর্যাপ্ত পর্দা না থাকায় তার মেয়ে সেখানে শুয়ে থাকতে অস্বস্তি বোধ করেন। জুলিয়া খাতুন বলেন, সন্তান প্রসবের আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চিকিৎসারই অংশ। কিন্তু এ সময় একজন নারীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সম্মান রক্ষা করা জরুরি। ডেলিভারি টেবিলের চারপাশে পর্দা থাকলে রোগীরা স্বস্তি নিয়ে চিকিৎসা নিতে পারবেন। একই অভিযোগ করেন সালমা আক্তার ওরফে সুমি। তার ভাষ্য, কক্ষের প্রবেশপথে একটি পর্দা থাকলেও ভেতরে রোগীর শয্যার চারপাশে আড়াল করার ব্যবস্থা নেই। অনেক সময় রোগীর পুরুষ স্বজনেরা না বুঝেই কক্ষে প্রবেশ করেন। এতে রোগী ও স্বজন উভয়েই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন। তার মতে, কক্ষটি যথাযথভাবে সংরক্ষিত না থাকায় প্রসূতিদের অনাকাঙ্ক্ষিত অস্বস্তি সহ্য করতে হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই প্রসূতি অভিযোগ করেন, ডেলিভারি টেবিলে নেওয়ার পর তাদের শরীরের নিচের অংশ যথাযথভাবে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়নি। পুরুষ চিকিৎসকের উপস্থিতিতে এমন পরিস্থিতিতে তারা বিব্রত বোধ করেন বলে জানান। তাদের দাবি, সন্তান প্রসবের সময় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রোগীর শরীর যথাযথভাবে ঢেকে রাখা এবং চারপাশে পর্দার ব্যবস্থা করা উচিত। প্রসূতি ও তাদের স্বজনদের দাবি, ডেলিভারি কক্ষে পর্দা স্থাপন এবং প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হলে এ ধরনের অস্বস্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে চিকিৎসক, ইন্টার্ন চিকিৎসক, সেবিকা ও অন্যান্য কর্মীদের রোগীর গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়ে আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। শুক্রবার প্রসূতি ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালনরত এক সেবিকা জানান, তারা যথাসাধ্য রোগীর শরীর শাড়ি বা কাপড় দিয়ে ঢেকে রেখে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে নরমাল ডেলিভারি কক্ষটিকে সংরক্ষিত ও আধুনিক করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনিও। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত বলেন, নরমাল ডেলিভারি কক্ষে রোগীদের পর্দার বাইরে রাখার বিষয়টি তার জানা ছিল না। কক্ষটি সংরক্ষিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)