বিল্লাল হোসেন : যশোরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ১৯৫ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২ হাজার ২৮ জন। মারা গেছেন দুজন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১২০ জন। উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র রেফার করা হয়েছে ৪৫ জনকে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) যশোর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ডেঙ্গু রোগীর প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সরকারি হাসপাতালে নতুন করে ৩৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে অভয়নগরে ছয়জন, বাঘারপাড়ায় পাঁচজন, চৌগাছায় একজন, ঝিকরগাছায় দুজন, কেশবপুরে চারজন, মনিরামপুরে তিনজন, শার্শায় ছয়জন এবং যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ছয়জন রয়েছেন। বেসরকারি হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তির সংখ্যা শূন্য। উপজেলা ও হাসপাতালভিত্তিক হিসাবে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত অভয়নগরে ৭৫৮ জন, বাঘারপাড়ায় ১৯০ জন, চৌগাছায় ৫৩ জন, ঝিকরগাছায় ৮৫ জন, কেশবপুরে ২৩৯ জন, মনিরামপুরে ১৬১ জন, শার্শায় ২৪০ জন এবং যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ৪৬৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। সব মিলিয়ে জেলায় মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ১৯৫ জন। এ সময়ে অভয়নগরে ৭৩৮ জন, বাঘারপাড়ায় ১৬৮ জন, চৌগাছায় ৫০ জন, ঝিকরগাছায় ৭৩ জন, কেশবপুরে ২১৭ জন, মনিরামপুরে ১৪৮ জন, শার্শায় ১৯৮ জন এবং যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ৪৩৬ জন চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন। জেলায় মোট ছাড়পত্র পেয়েছেন ২ হাজার ২৮ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে অভয়নগরে ১৬ জন, বাঘারপাড়ায় নয়জন, চৌগাছায় তিনজন, ঝিকরগাছায় ১০ জন, কেশবপুরে ১৩ জন, মনিরামপুরে ছয়জন, শার্শায় ৩২ জন এবং যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ৩১ জন রয়েছেন। সব মিলিয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ১২০ জন। প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, চলতি বছরে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সারিতে দুজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত রয়েছে। এ ছাড়া উন্নত চিকিৎসার জন্য অভয়নগর থেকে চারজন, বাঘারপাড়া থেকে ১৩ জন, ঝিকরগাছা থেকে দুজন, কেশবপুর থেকে নয়জন, মনিরামপুর থেকে সাতজন এবং শার্শা থেকে ১০ জনকে অন্যত্র রেফার করা হয়েছে। চৌগাছা ও যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল থেকে কাউকে রেফার করার তথ্য নেই। সব মিলিয়ে রেফার করা রোগীর সংখ্যা ৪৫ জন। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জমে থাকা পানি অপসারণ ও জনসচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল ও আশপাশের এলাকায় কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।