রাজাপাকসে পালিয়ে মালদ্বীপে

এখন সময়: বুধবার, ৭ ডিসেম্বর , ২০২২ ০৮:৫৭:৩১ am

 নিউজ ডেস্ক : যেদিন পদত্যাগ করার কথা, তার কয়েক ঘণ্টা আগে সামরিক বিমানে চড়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে।

বিবিসি জানিয়েছে, ৭৩ বছর বয়সী গোটাবায়া বুধবার প্রথম প্রহরে দেশ ছাড়েন, স্থানীয় সময় রাত ৩টার দিকে তিনি মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে পৌঁছান বলে তারা জানতে পেরেছে।

চরম অর্থনৈতিক সংকটে জেরবার শ্রীলঙ্কার মানুষ গত কয়েক মাস ধরে প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল।

দেশ ছেড়ে পালানোর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার এই দ্বীপ দেশে মহা প্রতাপশালী রাজাপাকসে পরিবারের কয়েক দশকের কর্তৃত্বের লজ্জাজনক অবসান ঘটল।

একজন অভিবাসন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, গোটাবায়া রাজাপাকসে তার স্ত্রী এবং দুজন দেহরক্ষীকে সঙ্গে নিয়ে শ্রীলঙ্কার বিমান বাহিনীর একটি উড়োজাহাজে করে দেশ ছাড়েন।   

আপাতত মালেতে গেলেও সেখান থেকে তিনি এশিয়ারই অন্য একটি দেশে যাওয়ার চেষ্টা করবেন বলে ধারণা দিয়েছেন শ্রীলঙ্কা সরকারের এক কর্মকর্তা।  

কয়েক মাস ধরে টানা বিক্ষোভের মধ্যে গত মে মাসে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হয় গোটাবায়ার বড় ভাই মাহিন্দা রাজাপাকসেকে। বিক্ষোভকারীরা তাতে সন্তুষ্ট ছিলেন না, তাদের জনপ্রিয় স্লোগান হয়ে উঠেছিল ‘গোটা, গো হোম’। কিন্তু নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন গোটাবায়া রাজাপাকসে।

এরমধ্যে শনিবার রাজধানী কলম্বোতো রীতিমত লঙ্কাকাণ্ড ঘটে যায়। ঝড়ো বিক্ষোভে হাজারো মানুষ প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ টেম্পল ট্রি দখল করে নেয়, খবর আসে, পালিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।

তখন থেকেই গোটাবায়া রাজাপাকসে আত্মগোপনে ছিলেন। শোনা যাচ্ছিল, তিনি আছেন নৌবাহিনীর কোনো জাহাজে। প্রথমে স্পিকার এবং পরে প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে তিনি বার্তা দিয়েছিলেন, জনতার দাবি মেনে বুধবারই পদত্যাগ করবেন।

মঙ্গলবার শ্রীলঙ্কার সংবাদমাধ্যমে খবর আসে, গোটাবায়া রাজাপাকসে ১৩ জুলাই তারিখ দিয়ে তার পদত্যাগপত্রে সই করে ফেলেছেন, স্পিকার মাহিন্দা ইয়াপা আবেবর্ধনে বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি প্রকাশ করবেন। তার আগেই নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য ২০ জুলাই পার্লামেন্টে ভোটগ্রহণের তারিখ ঘোষণা করেন স্পিকার।

এর মধ্যেই মঙ্গলবার খবর আসে, গোটাবায়া দুই দফা চেষ্টা করলেও তার দেশ ছাড়ার চেষ্টা ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের বাধায় পণ্ড হয়ে গেছে। ‍যুক্তরাষ্ট্র তার ভিসার আবেদন নাকচ করেছে বলেও খবর আসে।

তবে শ্রীলঙ্কার ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের সংগঠনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্টের বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়ার কোনো আইনি ক্ষমতা ইমিগ্রেশনের নেই।

ধারণা করা হচ্ছে, আনুষ্ঠানিক পদত্যাগের পর নতুন প্রশাসন তাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এই ভয় থেকেই তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।

গোটাবায়ার আরেক ভাই, লঙ্কার সাবেক অর্থমন্ত্রী বাসিল রাজাপাকসেও দেশে ছেড়েছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। যাত্রী ও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের বাধায় এর আগে একদফা তার বিদেশযাত্রা আটকে গিয়েছিল।

বাসিল এখন যুক্তরাষ্ট্রের পথে রয়েছেন বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। গোটাবায়ার এই ছোট ভাই মার্কিন নাগরিক।

এদিকে গোটাবায়ার দেশ ছেড়ে পালানোতে নয়া দিল্লি সহায়তা করেছে বলে যে গুঞ্জন উঠেছে, তাকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে শ্রীলঙ্কার ভারতীয় হাইকমিশন।

টুইটারে দেওয়া বিবৃতিতে তারা বলেছে, “প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসের দেশ ছাড়ার যে খবর এসেছে, তাতে ভারত সহায়তা করেছে বলে গণমাধ্যমে যেসব ভিত্তিহীন ও অনুমাননির্ভর খবর এসেছে হাইকমিশন সুস্পষ্টভাবে তা অস্বীকার করছে।”