প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশ আজ মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণ : শেখ আফিল উদ্দিন এমপি

এখন সময়: বুধবার, ৫ অক্টোবর , ২০২২ ২১:০৩:০৫ pm

শেখ কাজিম উদ্দিন, বেনাপোল : যশোর-১ (শার্শা) আসনের এমপি আলহাজ শেখ আফিল উদ্দিন বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে গণভবন লেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাছের পোনা অবমুক্ত করে মৎস্য চাষকে সামাজিক আন্দোলনে রুপ দেয়ার শুভ সূচনা করেছিলেন। ওই সময় বঙ্গবন্ধু ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন-‘মাছ হবে এ দেশের দ্বিতীয় প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী সম্পদ’। জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী ও দৃঢ় নেতৃত্বে মৎস্য বান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের ফলে বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন আজ সফল হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন দেশ আজ মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ায় সাধারণ মানুষ স্বল্পমূল্যে মাছ ও পুষ্টি পাচ্ছে; অন্যদিকে দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব দূর হচ্ছে।

রোববার বেলা ১১টায় শার্শা উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২২ উদযাপনে সপ্তাহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন, বর্ণাঢ্য সড়ক র‌্যালি, পোনা মাছ অবমুক্তকরণ, স্থানীয় পর্যায়ে সফল মৎস্যচাষি, ব্যক্তি, উদ্যোক্তা, প্রতিষ্ঠানকে মৎস্য পুরস্কার প্রদান ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে একথা বলেন তিনি।

শার্শা উপজেলা কমপ্লেক্স অডিটোরিয়ামে আয়োজিত মৎস্য সপ্তাহের আলোচনা সভায় শেখ আফিল উদ্দিন আরো বলেন,  জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী বিগত ১০ বছরের হিসেবে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে দ্বিতীয়। ইলিশ উৎপাদনকারী ১১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে প্রথম, অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ আহরণে বাংলাদেশ তৃতীয়, মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে চতুর্থ এবং বদ্ধ জলাশয়ে মাছ উৎপাদনে পঞ্চম। তেলাপিয়া উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশে^ চতুর্থ এবং এশিয়ার মধ্যে তৃতীয়। মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুয়ায়ী, ২০২০-২১ অর্থ বছরে মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৫.৫২ লক্ষ মেট্রিক টন। উৎপাদন হয়েছে ৪৬.২১ লক্ষ মেট্রিক টন। দেশের মোট জনগোষ্ঠীর ১২শতাংশের অধিক এ সেক্টরের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিয়োজিত থেকে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছে। মৎসজাত উৎস থেকে প্রাণীজ আমিষের চাহিদা পূরণ, দারিদ্র্য বিমোচন ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে বর্তমান সরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

দেশে বিপুল পরিমাণ পাঙ্গাশ, তেলাপিয়া ও রুই জাতীয় মাছের উৎপাদন বেড়েছে। থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, চীনের উদ্ভাবিত মাছের জাত এখন বাংলাদেশের মৎস্য উৎপাদন বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন শিক্ষিত তরুণেরা চাকরির দিকে না ঝুঁকে মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছে। এছাড়া ব্যাংকগুলোও মাছ  এবং কৃষিকাজে সহজ শর্তে ঋণ দিয়েছে।

এসময় সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন নিজেকে শার্শা উপজেলার সবচেয়ে বড় মাছ চাষী দাবি করে বলেন, এ উপজেলায় তিনি প্রচুর পরিমাণে মাছের চাষ ও উৎপাদন করছেন। এছাড়া এ এলাকার মানুষকে তিনি মাছ চাষে উৎসাহিত করে এখানে মাছের বিপ্লব ঘটিয়েছেন। এখাত থেকে তিনি জাতীয় পর্যায়ে সরকারিভাবে গোল্ড মেডেল পেয়েছেন। তিনি বিপন্ন প্রায় মাছের প্রজাতি সংরক্ষণ, অবাধ প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে সার্বিক মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করেছেন। তার দেখাদেখি এবং এখানকার চৌকষ মৎস্য কর্মকর্তা আবুল হাসানের দূরদর্শী চিন্তা-চেতনা ও পারদর্শিতার আলোকে শার্শার বিপুল পরিমাণের মানুষ গত ১০ বছরে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য অভয়াশ্রম স্থাপন ও জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি হয়েছে। এ কর্মকর্তার ঐকান্তিক পরিশ্রম আর শেখ আফিল উদ্দিন এমপির বিভিন্ন দেশ থেকে মাছের উপর শিক্ষা লাভ, উভয় মিলেমিশে বিলুপ্ত প্রায় এবং বিপন্ন ও দুর্লভ প্রজাতির মাছ চাষ হচ্ছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে শার্শা হবে দেশের মাছ উৎপাদনকারী শ্রেষ্ঠ উপজেলা। সে লক্ষ্যে তিনি কাজ করছেন এবং মৎস্য কর্মকর্তাকে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, সংসদে বসে আমি মাছের উপজেলা খ্যাত শার্শার এমপি হিসেবে পরিচয় পেতে চাই। সেজন্য যা কিছু করণীয় করতে হবে। 

এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ও জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২২ উদযাপন সংক্রান্ত উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব আবুল হাসান বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও সারা দেশের সাথে ২৩ জুলাই হতে ২৯ জুলাই জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২২ উদযাপিত হচ্ছে। সপ্তাহব্যাপী এ আয়োজনে এবছরের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে “নিরাপদ মাছে ভরবো দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ”।

এ উপলক্ষে মৎস্য সেক্টরের সাথে জড়িত সকলের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,  বাংলাদেশ এখন মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। সারা বিশ্বে প্রাকৃতিক উৎস থেকে মোট ৯০ লাখ টন মাছ উৎপাদন হয়, যেখানে বাংলাদেশে উৎপাদন হয় ১০ লাখ মে.টন। 

তার মধ্যে শার্শা “উপজেলার ১৫টি বাঁওড়, ২৭১টি ঘের, ১০টি বিল ও ৭১৬৯ টি পুকুর মিলে মোট জলায়তন ৭৪১৮ হেক্টরে মাছের উৎপাদন হচ্ছে ২৬ হাজার ৭শ’ ৪২ মে.টন। কিন্তু স্থানীয় চাহিদা ৭ হাজার ৫শ’ ৭২ মে.টন। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর অতিরিক্ত মাছ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ হয়।

এখানে প্রতিনিয়ত মাছচাষি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন বেড়েছে। বাজারজাত করণ, পরিবহন ও বিপণন বিভাগে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। যা জাতীয় পর্যায়ে ১১-১২ শতাংশ। এখানে মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছে ৫ হাজারের অধিক পরিবার।

এ এলাকায় সাধারণত: দেশি রুই-কাতলার পাশাপাশি দ্রুত বর্ধনশীল কার্প জাতীয় সকল মাছ, জাপানি, কাতলা, মিরগেল,  সিং, মাগুর, কই, পাঙ্গাস, তেলাপিয়া, বাটা, পাবদা, শিং, মাগুর ও গুলশা মাছ উল্লেখযোগ্য হারে চাষ হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মৎস্য সপ্তাহে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক মঞ্জু, অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খলিল, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলেয়া ফেরদৌস, শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মামুন খান, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ইলিয়াছ হোসেন, বিআরডিবি কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন, সমবায় কর্মকর্তা আক্কাস আলীসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা।

এসময় স্থানীয় সূধীবৃন্দ, মৎস্যচাষি ও মৎস্যজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।