বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে এক বৃদ্ধ

সালিশে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলে দুই বৃদ্ধকে শারীরিক নির্যাতন, জরিমানা

এখন সময়: বুধবার, ৫ অক্টোবর , ২০২২ ২১:১০:১২ pm

সিরাজুল ইসলাম, কেশবপুর : কেশবপুরে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলে গ্রাম্য সালিশী বৈঠকে ৮৪ বছরের বৃদ্ধ মুকুন্দ মজুমদার ও ফজর আলী বিশ্বাস (৭০) কে শারীরিক (পুরুষ অঙ্গের উপর) নির্যাতন করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। জরিমানার টাকা দিতে বিলম্ব হওয়ায় তাদের অব্যহত হুমকিতে বাড়ি ছেড়ে মেয়ে বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে বৃদ্ধ মুকুন্দ মজুমদার ও তার অসুস্থ স্ত্রী সরস্বতী মজুমদার (৭৫)। এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। 
বৃহস্পতিবার সকালে নারায়নপুর ও সন্যাসগাছা গ্রামে গিয়ে জানাগেছে, কেশবপুর উপজেলার সুফলাকাটী ইউনিয়নের নারায়নপুর গ্রামের মুকুন্দ মজুমদার (৮৪) শুধুমাত্র এক কন্যা সন্তানের জনক। তার বিরুদ্ধে গত ১৭ জুলায় এক অনার্স পড়ুয়া মেয়ের সাথে যৌন নিপীড়নের মিথ্যা অভিযোগ তুলে গত ৩১ জুলাই নারায়নপুর বাজার মোড়ে ইউপি মেম্বার মোঃ কালাম পাটোয়ারীর উপস্থিতিতে এক সালিশী বৈঠক বসে। বৈঠকে মুকুন্দ মজুমদার ও ফজর আলী বিশ্বাসকে অভিযুক্ত করে আত্মপক্ষের সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে তাদেরকে গ্রামের আমজাদ সানার পুত্র মোমিন সানা, মৃত এটিও আব্দুস সাত্তারের পুত্র কামরুল, ওসমানের পুত্র বিপুল, মজিদ শেখের পুত্র সোহাগ শারীরিক নির্যাতন করে আহত করে এবং মুকুন্দকে ১ লাখ ও ফজর আলীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করে। এ সময় তারা বিপুলের নামে সাদা স্ট্যাম্প ও সাদা দুটি কাগজে স্বাক্ষর করে নিয়েছে। বৃদ্ধকে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এদিকে জরিমানার টাকা দিতে না পারায় তাদের উপর অব্যহত হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে মুকুন্দ মজুমদার ও তার স্ত্রী সরস্বতী মজুমদার বাড়ি ছেড়ে সন্যাসগাছা গ্রামে একমাত্র মেয়ে জামাই বিধান চন্দ্র সিংহের বাড়িতে আশ্রয় নেন। বিষয়টি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম রুহুল আমিনকে জানিয়েছেন পরিবারটি। 
অশীতিপর বৃদ্ধ মুকুন্দ মজুমদার আরো জানান আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমাদের উপর নির্যাতনকারীরাসহ গ্রামের অনেকেই আমার কোনো পুত্র সন্তান না থাকায় জমিগুলো লিখে নেয়ার জন্য দীর্ঘদিন এই রকম নির্যাতন ও অত্যাচার করেছে আসছে। ওই দিন নির্য়াতনকারীরা তার গোপনাঙ্গ ধরে প্রচুর টানাহ্যাচড়া করে রক্তাক্ত ও ফোলা জখম করে আহত করে।
আহত ফরজ আলী বিশ্বাস বলেন এ ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। মুকুন্দ মজুমদারের সাথে তার দীর্ঘদিনে গভীর সম্পর্কের কারণে তাকে অভিযুক্ত করে নির্যাতন চালিয়ে তার হাতের একটি আঙুল ভেঙ্গে দিয়েছে। 
গ্রামের আওয়ামী লীগের নেতা তুহিন পাড় বলেন যৌন নিপীড়নের অভিযোগটি গ্রাম্য সালিশী বৈঠকে মীমাংসা যোগ্য নয়। ইউপি চেয়ারম্যান অথবা প্রশাসনের কাছে যাওয়া ঠিক ছিলো। 
এব্যাপারে ইউপি মেম্বার কালাম পাটোয়ারী সাংবাদিকদের জানান তাদের বিরুদ্ধে গ্রাম্য সালিশী বৈঠকে গ্রামবাসীরা ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে নির্যাতন করে জরিমানা ধার্য করেছে। 
মুকুন্দ মজুমদারের মেয়েজামাই বিধান চন্দ্র সিংহ বলেন তার শ্বশুরের উপর গ্রামবাসীরা অমানসিক নির্যাতন চালিয়েছে। তিনি সুস্থ হওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে তিনি জানান।