Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

❒ঈদ বাজার

রূপচর্চায় পার্লারে, প্রসাধনীর দোকানে ভিড় তরুণীদের

এখন সময়: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ , ২০২৬, ১১:৪৬:১৪ পিএম

মারুফ কবীর : মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর কড়া নাড়ছে দরজায়। এরই মধ্যে ঈদের কেনাকাটা সেরে ফেলেছেন অনেকেই। বাকি রয়েছে রূপচর্চার কাজ। তাই দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে ভিড় বাড়ছে পার্লার ও প্রসাধনীর দোকোনে। আসন্ন ঈদে রূপচর্চায় ব্যস্ততা বেড়েছে বিউটি পার্লার ও প্রসাধনীর দোকানে। কারো চুলটা রাঙাতে হবে, ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়াতে কারও চাই ফেসিয়াল। মেহেদিতে হাত রাঙানো থেকে শুরু করে চুল ও পায়ের নখ পর্যন্ত চলছে পরিচর্যা। মঙ্গলবার সরেজমিনে শহরের পার্লার ও প্রসাধনীর দোকানে গিয়ে দেখা যায়, চলছে শেষ মুহূর্তে ব্যস্ততা। বিভিন্ন পার্লারের খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২৫ রমজানের পর থেকেই তরুণীরা নিজেদের পরিপাটি করতে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন। বিউটিশিয়ানরাও ব্যস্ত সময় কাটান তরুণীদের মনের মতো করে সাজাতে। সকাল ৯টা থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত খুব ব্যস্ততায় সময় কাটছে। বেশিরভাগ তরুণী চুলকাটা, রঙ করা, ভ্রু-প্লাক, ফেসিয়াল করছেন বলে জানান। তবে ঈদের আগের রাত আরও বেশি ব্যস্ততা বাড়বে বলে জানান। নিলুফা রহমান নামে এক সেবা গ্রহিতা বলেন. আমি হেয়ার ট্রিটমেন্ট, পেডিকিওর, মেনিকিওর করার উদ্দেশ্য পার্লারে এসেছি। দেখি ভালো লাগলে কালারও করাবো। সানন্দা বিউটি পার্লারের স্বত্বাধিকারী সুফিয়া মাহমুদ রেখা বলেন, ২০ রোজার পর থেকে ব্যস্ততা বেড়েছে পার্লারে। তিনি জানান পার্লারে ব্যবহারিত পোডাক্টের দাম বড়েছে অনেক। দোলা বিউটি পার্লারের স্বত্বাধিকারী লতিফা শওকত রূপা বলেন, অন্যান্যো সেবা গ্রহনের পাশাপাশি ফেসিয়াল ও চুলের কাটে কাস্টমার বেশি। এদিকে, কেউ কিনছেন পছন্দের চুড়ি, কানের দুল ও মেকআপ বক্স। কেউ কিনছেন পোশাকের সঙ্গে লিপস্টিক ও নেইলপলিশ। পিছিয়ে নেই তরুণরাও। ভিড় করছেন প্রসাধনী সামগ্রীর দোকানে। ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে শহরের প্রসাধনী দোকানের বিক্রেতাদের। শেষ সময়ে প্রয়োজনীয় সাজসজ্জার অনুসঙ্গ প্রসাধনী কিনতে ব্যস্ত তরুণ-তরুণীরা। ঈদের জন্য কেনা পোশাকটি যত আকর্ষণীয়ই হোক না কেন সেই পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে সাজসজ্জার পণ্যসামগ্রী না হলে ঈদের সাজগোজটাই যেন পরিপূর্ণতা পায় না। তাই ঈদের নতুন পোশাকের সঙ্গে নিজেকে সাজাতে সকলে ভিড় করছেন প্রসাধনী সামগ্রীর দোকানে। যশোরের মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন মার্কেট, সুপারশপ থেকে শুরু করে ফুটপাতেও পসরা সাজিয়ে চলছে প্রসাধনী বেচাকেনা। ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের সময় প্রসাধনীর চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ফেন্সি মার্কেটের কসমেটিকস ব্যবসায়ী রাসেল বলেন, সারা বছরের তুলনায় ঈদের আগে কসমেটিকসের বিক্রি অনেক বেশি থাকে। বিশেষ করে লিপস্টিক, ফাউন্ডেশন, ফেসওয়াশ, স্কিন কেয়ার ক্রিম ও পারফিউমের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর দোকানে দাঁড়ানোর জায়গা থাকে না। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বরাবরের ন্যায় বিদেশী নামি ব্রান্ডের পণ্যের চাহিদা বেশি। এর মধ্যে হুদা বিউটি, কিস বিউটি, পিংক ফ্লাশ, টেকনিক, ডাব্লিউ-সেভেন,মেবিলিন,রেভলনসহ অন্যান্য ব্যান্ডের কসমেটিকসগুলো চলছে তালমিলিয়ে। বিদেশি প্রসাধনীর সঙ্গে কঠিন প্রতিযোগিতায় রয়েছে দেশীয় প্রসাধনী। এসব পণ্যের চাহিদা তুলনামূলক কম। তবে পন্ডস, মডার্ন, চন্দন, জেসমিনসহ কিছু দেশীয় প্রসাধনী বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতা মুক্তা ইয়াসমিন বলেন,বাজারে প্রচন্ড ভিড়। পোশাকের সাথে মিল রেখে কসমেটিকস কিনতে এসেছি। ফেন্সি মার্কেটের কসমেটিকস ব্যবসায়ী রাসেল হোসেন বলেন, ঈদে লিপস্টিক, লিপ লাইনার, নেইলপলিশ, লিপ গ্লস, আইলাইনার, আই শ্যাডো, ব্লাশারসহ বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী কিনছেন ক্রেতারা। এর সাথে সবসময়ের প্রয়োজনীয় উপকরণ যেমন ফেস পাউডার, ফাউন্ডেশন, প্যানকেক, বডি স্প্রে, পারফিউম, প্যানস্টিক, শ্যাম্পু, সাবান এসবও কিনছেন অনেকে। তাছাড়া ঈদের আমেজ তৈরিতে ক্রেতাদের সবাই নিচ্ছেন মেহেদী। ভোলা সাহ মার্কেটের কসমেটিক ব্যবসায়ী সুমন বলেন, তরুণীদের পাশাপাশি ফ্যাশনপ্রিয় তরুণরাও ঈদ উপলক্ষে কিনছেন বিভিন্ন ধরনের পারফিউম, চুলের জেল, সেভিং কিট, স্ক্রাব, বডি স্প্রে, শাওয়ার জেল, ফেসপেক, ব্ল্যাক মাস্ক, হোয়াইটিনিং ক্রিম ইত্যাদি।
শহরের বিভিন্ন পার্লারে ভ্রু প্লাকে নেয়া হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০টাকা। বিভিন্ন ধরনের ফেসিয়াল ৫শ’ থেকে ৩ হাজার , চুলের রিবন্ডিং ৫ হাজার থেকে ১৫হাজার,হেয়ার কালার ৩শ’ থেকে ৪ হাজার , । হেয়ার কাট ১ থেকে ৮শ’ টাকা, বিভিন্ন ধরনের হেয়ারস্টাইল ২শ’ থেকে ৪ হাজার, হেয়ার স্টাইল ও হেয়ার ট্রিটমেন্ট ৩শ’ থেকে ৩ হাজার , মেহেদী পরানো ১শ থেকে ২ হাজার , ফেয়ার পলিশ ৫শ’ থেকে দেড় হাজার টাকা।
অপরদিকে, বিদেশি সকল ব্র্যান্ডের প্রসাধনীর দাম ২শ’ থেকে ২ হাজার টাকা। ব্র্যান্ডের লিপস্টিক বিক্রি হচ্ছে ১শ’ ২০ টাকা থেকে ৮শ’ টাকায়, ফাউন্ডেশন ৩শ’ থেকে ২ হাজার, ব্লাশন ৩শ’ থেকে ১ হাজপর, কাজল ৭০ থেকে ৩শ’, আই শ্যাডো ১শ’ থেকে ৮শ’, লিপ লাইনার ৫০ থেকে ২শ’, লিপ গ্লাস ১২০ থেকে ২শ’, কনসিলার ১৫০ থেকে ৮শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঈদের দিন মেকআপ করার পাশাপাশি নিজেদের হাত মেহেদীর রঙে সাজাতেও ভুলছেন না শিশু-কিশোরী ও তরুণীরা। হাত রাঙাতে মেহেদীর মধ্যে লিজান, রাঙাপরি, শাহাজাদী, মমতাজ এসব মেহেদীও ভাল বিক্রি হচ্ছে। এগুলো প্রতিটির দাম ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১৫০ টাকা পর্যন্ত। বাজারে মেহেদীর মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে লিজান, রাঙাপরি, শাহাজাদী, মমতাজ এসব মেহেদীও ভালই বিক্রি হচ্ছে। এগুলো প্রতিটির দাম ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০ টাকা পর্যন্ত।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)