নিয়োগ বোর্ডের আগেই প্রার্থী চূড়ান্ত তিন পদে বাণিজ্য ৩০ লাখ টাকা !

এখন সময়: বুধবার, ৩০ নভেম্বর , ২০২২ ২২:৩৪:৩৬ pm

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার রঘুনাথ নগর মহাবিদ্যালয়ের ৩০ লাখ টাকা লেনদেনের নিয়োগ বোর্ড হবে আজ। যশোর সরকারি এমএম কলেজে এ নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হবে। রঘুনাথ নগর মহাবিদ্যালয়ের সভাপতি ও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ এনে স্থানীয় ১১৯জন ব্যক্তি সাক্ষরিত এক অভিযোগপত্র বিভিন্ন দপ্তরে জমা দেয়া হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খুলনা অঞ্চলের পরিচালক এব্যাপারে সভাপতি ও অধ্যক্ষকে ডেকে নিয়োগবোর্ড স্থগিত করেনি বলে অভিযোগ করেন আবেদনকারীরা।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রঘুনাথনগর কলেজে ৩ জন কর্মচারী নিয়োগের জন্য ২৯ জুলাই ২০২২ তারিখে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। এতে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে ১৫ জন, আয়া পদে ০৪ জন, পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে ১৩ জন প্রার্থী আবেদন করেছেন। সভাপতি কামরুজ্জামান কামাল ও অধ্যক্ষ আব্দুল ওহাব এবং সভাপতির চাচা মোসলেম আলী নিয়োগ পরীক্ষার আগেই ৩০ লাখ টাকা লেনদেন করে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছেন। নিয়োগ বোর্ডকে ম্যানেজ করে আজ ১৫ অক্টোবর নামমাত্র সাজানো নিয়োগ বোর্ড কর্তৃক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে রঘুনাথ নগর (উত্তরপাড়া) গ্রামের শাহাদত হোসেনের ছেলে সাজ্জাদুল হক অমির নিকট থেকে ১২ লাখ,  আয়া পদে একই গ্রামের মাহাবুল আলমের স্ত্রী রোজিনা খাতুনের নিকট থেকে ৮ লাখ এবং পরিছন্ন কর্মী পদে ই¯্রাফিল হোসেনের ছেলে শাখাওয়াত হোসেন মিঠুর নিকট থেকে ১০ লাখ টাকা নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, কলেজের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নেই, প্রতিনিয়ত ভুয়া বিল ভাউচার করে ফান্ডের টাকা উত্তোলন করা হয়। বিগত কয়েক বছরের আয়-ব্যয় যাচাই করলে সত্যতা পাওয়া যাবে। গত মাসে কলেজে অনুষ্ঠানের নামে ৫০ টাকার ভুয়া বিল ভাউচার করে সভাপতি ও অধ্যক্ষ আত্মসাত করেছেন। বিগত সময় নিয়োগকৃত শিক্ষক মাসুদ রানা এবং শফিকুল ইসলামের নিকট থেকে যথাক্রমে ৩ লাখ টাকা ও ১ লাখ ২০হাজার টাকা আদায় করেছেন।  
অভিযোগপত্রের পরিপ্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খুলনা অঞ্চলের পরিচালক  প্রফেসর শেখ হারুনর রশিদ রঘুনাথ নগর মহাবিদ্যালয়ের সভাপতি কামরুজ্জামান কামাল ও অধ্যক্ষ আব্দুল ওহাবকে তার কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য চিঠি দেন। যার স্মারক নং-৩৭.০২.৪৭০০.০০০.০১.০০১.১৭-১৪৫৭, তাদের সাথে কথা বলার পরেও কেন নিয়োগবোর্ড অনুষ্ঠিত হচ্ছে তা নিয়ে সংশয়ে আছেন অভিযোগকারীরা।
এব্যাপারে নিরাপত্তা কর্মী পদে আবেদনকারী আশিকুর রহমান দৈনিক স্পন্দনকে জানান, কলেজের তিনটি পদে ৩০ লাখ টাকা নিয়োগের বিষয়ে গ্রামের মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আমি নিজে প্রার্থী ছিলাম কিন্তু সভাপতি ও অধ্যক্ষ শাখাওয়াত হোসেন মিঠুর নিকট থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়েছে তাকে নিয়োগ দেবে বলে। যে কারণে আমি ও গ্রামবাসী এই বাণিজ্যিক নিয়োগবোর্ড বন্ধ করার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছি। এ অভিযোগ করার ফলে আমাকে বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে।
অভিযোগের অনুলিপি শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশন, জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে।
অধ্যক্ষ আব্দুল ওহাবের সাথে যোগাযোগ করা হলে জানান, ৩০ লাখ টাকা লেনদেনের বিষয়টি আমার জানা নেই। স্বচ্ছভাবেই পরীক্ষা হবে। ডিজির প্রতিনিধি এমএম কলেজের অধ্যক্ষ। তিনি যাদের চূড়ান্ত করবেন তাদের নিয়োগ দেয়া হবে।