রোগীর স্বজনদের ‘মেহমানদারিতে’চেয়ারের ব্যবস্থা

এখন সময়: বুধবার, ৩০ নভেম্বর , ২০২২ ২৩:২০:২০ pm

বিল্লাল হোসেন: হাসপাতালের আইসিইউতে রোগী চিকিৎসাধীন থাকলে সঙ্গে আসা আত্মীয়-স্বজনরা এমনিতেই মানসিক কষ্টের মধ্যে থাকেন। চিকিৎসায় রোগী সুস্থ হবে, নাকি মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরতে হবে; স্বজনদের মধ্য এমন দুশ্চিন্তা কাজ করে। এছাড়া রোগীর জন্য ওষুধ সামগ্রী কেনাসহ নানা প্রয়োজনে ছুটতে গিয়ে শারীরিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েন তারা। আর সেই ক্লান্ত শরীর নিয়ে ওয়ার্ডের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সত্যি খুব কষ্টের।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নিয়মিত রাউন্ডে গিয়ে ওয়ার্ডের সামনে রোগীর স্বজনদের দাঁড়িয়ে থাকার এমন দৃশ্য দেখে হতাশ হন। এরপর তিনি রোগীর সঙ্গে আসা স্বজনদের বসার জন্য চেয়ারের বন্দোবস্ত করেছেন। 

তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান জানান, হাসপাতালে রোগীর সাথে যারা আসেন তারা আমাদের মেহমান। চেয়ারের অভাবে রোগীর স্বজনরা ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকবেন এটা অবশ্যই অমানবিক। যে কারণে তিনি নিজ উদ্যোগে স্বজনদের বসার জন্য চেয়ারের ব্যবস্থা করেছেন।

হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের আইসিইউ ও এইচডিইউ এর সামনে রোগীদের বসার কোন ব্যবস্থা ছিলো না। ওয়ার্ডের দরজার সামনে স্বজনরা দাঁড়িয়ে থাকতেন। এভাবে তাদের ঘন্টার পর ঘন্টা পার হয়ে যেতো। এছাড়া হাসপাতালের অস্ত্রোপচার কক্ষ ও নাক কান গলা বহিঃবিভাগের সামনে চেয়ারের সংকট ছিলো। বহিঃবিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের চেয়ারের অভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বিষয়টি অবগত হয়ে নিজস্ব উদ্যোগে ২০ সেটের মোট ৬০ টি চেয়ারের ব্যবস্থা করেছেন। যে কারণে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা বসার সুযোগ পাচ্ছেন।

৬০ টি চেয়ারের মধ্যে ইতিমধ্যে আইসিইউ ও এইচডিইউর সামনে ১২ টি ও নাক কান গলা বিভাগের সামনে ৩০ টি বসানো হয়েছে। বাকি ১৮ টি চেয়ার দেয়া হবে অস্ত্রোপচার কক্ষের সামনে।

রোগীর স্বজন আব্দুল্লাহ আল মামুন, রাসেল আহমেদ ও রাবেয়া বেগম জানান, তাদের রোগী আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। ফলে কয়েকদিন ধরে তারা হাসপাতালে অবস্থান করছেন। রোগীর চিকিৎসার প্রয়োজনে ছোটাছুটির পর ক্লান্ত শরীর নিয়ে ওয়ার্ডের সামনে থাকা চেয়ারে বসার সুযোগ পাচ্ছেন।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান জানান, রোগী ও স্বজনদের বসার জন্য চেয়ারের ব্যবস্থা করে তিনি মানসিকভাবে শান্তি পেয়েছেন। রোগীর স্বজনেরা দাঁড়িয়ে থাকার দুর্ভোগ থেকে রেহাই পেয়েছেন।