শার্শার ব্যাপক উন্নয়নের নায়ক এমপি শেখ আফিল উদ্দিন

এখন সময়: বুধবার, ৩০ নভেম্বর , ২০২২ ২২:৩৭:০১ pm

 

ইয়ানূর রহমান,শার্শা: আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গত ১৪ বছরে শার্শায় ব্যাপক মাত্রার উন্নয়ন হয়েছে। আর এই উন্নয়নের রূপকার ও নায়ক হলেন যশোর-১ (শার্শা) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ শেখ আফিল উদ্দিন। তার সময়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষিসহ সব ক্ষেত্রে বহুমাত্রিক উন্নয়ন হয়েছে। ধূলো-কাদায় ভরা গ্রামীণ সব রাস্তা পিচঢালা হয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুত পৌঁছে যাওয়ায় গ্রামগুলো আলোকিত হয়েছে। অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়নের ফলে বিকশিক হয়েছে উপজেলার অর্থনীতিও। এক সময়ের উন্নয়ন বঞ্চিত এই উপজেলার সব কিছুতে উন্নয়নের চমক দেখিয়েছেন তিনি।  

যশোরের ৮টি উপজেলার মধ্যে ভৌগলিক ও রাজনৈতিকসহ নানা কারণে আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ শার্শা উপজেলা। ১১ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই উপজেলাটি। স্বাধীনতার পর থেকে এ উপজেলা ছিলো উন্নয়ন বঞ্চিত। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে শেখ আফিল উদ্দিন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তারপর থেকে এমপি শেখ আফিল উদ্দিন এলাকায় উন্নয়নের চমক দেখিয়েছেন। স্বাধীনতার পর এত বছরেও আগের কোন উন্নয়ন চোখে পড়ার মত ছিল না।

উপজেলার একসময়ের ভুতুড়ে পল্লীর ছোট ছোট বাড়িগুলো সন্ধ্যার পর এখন বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত থাকে। যেখানে একসময় সন্ধ্যা নামলেই হারিকেন বা কুপি বাতি জ্বালিয়ে রাত্রি কাটাতে হতো। অবহেলিত সেই উপজেলাকে উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে দিয়েছেন এমপি শেখ আফিল উদ্দিন। উপজেলার অন্যসব বাসিন্দাদের মত বিরোধী দলেরও নেতা-কর্মীরাও তার উন্নয়নের কথা অকপটে স্বীকার করেন। 

উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়ন হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যে সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছে এই জনপদ। এ উন্নয়নমূলক কর্মকা- মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটিয়েছে ও স্বস্তি এনে দিয়েছে। উপজেলার স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসগুলো শিক্ষা বান্ধব করে গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোয় বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন।

উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে গড়ে তুলেছেন আধুনিক ও দৃষ্টিন্দন উপজেলা প্রশাসনিক ভবন। নির্মাণ করেছেন উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন, আবাসিক ডর্মেটরি, আধুনিক ডাক বাংলো, উপজেলা মৎস্য ভবন ও শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র। নির্মাণ করেছেন উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, বেনাপোল পোর্ট থানা ভবন (নির্মাণাধীন), বাগআঁচড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ভবন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স  ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। 

গত ১১ বছরে তিনি এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূূচি হাতে নেন। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ, ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৪টি পাকা বাড়ি নির্মাণ। ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের মাজার সংস্কার, ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে জামতলার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গণকবর সংরক্ষণ, ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে কাগজপুকুর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গণকবর সংরক্ষন, ৪তলা বিশিষ্ট শার্শা উপজেলা কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ কলেজ নির্মাণ ও সরকারিকরণ, পাকশিয়া আইডিয়াল কলেজ, বেনাপোল ডিগ্রি কলেজ, গোগা ইউনাইটেড কলেজ, নাভারন ফজিলাতুন্নেছা মহিলা কলেজ, লক্ষণপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কেরালখালী-পাড়ীয়ার ঘোপ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পাকশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ধান্যখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বেনাপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ধান্যখোলা মাদ্রাস, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গাতিপাড়া মাদ্রাস, নাভারণ ফজিলাতুন্নেছা মহিলা কলেজ, শিকারপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কায়বা-বাইকোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়। 

এছাড়া শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ  ও ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ভবন নির্মাণ করেছেন। যা থেকে দুটি উপজেলার মানুষ সুবিধা ভোগ করছেন।    

সরকারিকরণ করেছেন শার্শা পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এছাড়া ৪ তলা বিশিষ্ট করেছেন সামটা মাদ্রাসা, বসতপুর মহিলা মাদ্রাসা, আমলাই মহিলা মাদ্রাসা ও টেংরা মহিলা মাদ্রাসা। বেনাপোল পৌরসভা প্রথম শ্রেণিতে উন্নীতকরণ হয়েছে তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়। 

বেনাপোল আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল, আন্তর্জাতিক বাস টার্মিনাল, বেনাপোল বাইপাস সড়ক, শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিক, ৯৭ শতাংশ বিদ্যুত সরবরাহ, রাস্তা, ব্রিজ, কার্লভাট ইত্যাদি তারই অবদান। 

এদিকে, নির্মাণাধীন রয়েছে শার্শা সদরে বহুতল বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও বেনাপোল বড় মসজিদ। সংস্কার করেছেন উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তের কয়েক’শ মসজিদ। জমি ও ঘর নেই এ ধরণের ১৮৮ জনকে ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন। যার প্রতিটি ঘর বাবদ ব্যয় হয় ২ লাখ ৫১ হাজার ৫৩১ টাকা। গরিবদের মাঝে ১০ টাকা কেজি চাল বিতরণ করেছেন। 

উপজেলার প্রতিটি সড়ক পাকাকরণ ও কার্পেটিং করা হয়েছে তিনি এমপি থাকাকালীন। উপজেলার প্রায় সব বাজার ও সড়কে সৌর বিদ্যুত চালিত ল্যাম্প পোস্ট স্থাপন করেছেন। 

বেনাপোল পৌরসভার কাউন্সিলর কামরুন নাহার আন্না বলেন, শার্শা উপজেলার অনেক উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান। আগে এখানকার অনেক গ্রামেই সন্ধ্যার সাথে সাথে মনে হতো ভুতের পল্লী। এখন প্রতিটি গ্রামই বৈদ্যুতিক বাতির আলো ঝলমলে। গ্রামগুলো এখন যেন শহর হয়ে গেছে। রাস্তাঘাটগুলো শুকনো মৌসুমের সময় ধূলা আর র্বষার সময় কাদামাটিতে বেহাল দশায় থাকতো। এখন প্রতিটি গ্রামেরই সংযোগ সড়কগুলো পর্যন্ত পাকা হয়ে গেছে। যা কিছু হয়েছে তার সবকিছুই হয়েছে শেখ আফিল উদ্দিন এমপির দক্ষ নেতৃত্বের কারণে। 

এছাড়াও শার্শায় কৃষিখাতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এক ফসলি জমিকে দুই ফসলি ও দুই ফসলি জমিকে তিন ফসলি করতে ব্যাপক পরিকল্পনা নেন সংসদ সদস্য আলহাজ শেখ আফিল উদ্দিন। শার্শার সোনামুখি ও রুদ্রপুর বিলের জলাশয়কে কৃষির আওতায় আনতে ব্যাপক পরিকল্পনা হাতে নেন। সেখানে খাল খননের মাধ্যমে ১ থেকে ২ এবং ২ থেকে ৩ ফসলের আওতায় আনতে সফল হন তিনি। এখন আর সোনামুখি ও রুদ্রপুর বিলে জলাবদ্ধতা হয় না। এর ফলে সেখানকার চাষিরা সুফল পাচ্ছেন গত ৯ বছর ধরে। নিম্নাঞ্চল এখন মৎস খামারে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এই দুই বিলে অসংখ্য মাছের ঘের প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এখানকার মাছ শার্শার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকার চাহিদা মেটাচ্ছে। একই সাথে শার্শার উৎপাদিত মাছ বর্তমানে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। যা থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে দেশ।   

এ বিষয়ে শার্শার ১০ নম্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির উদ্দিন আহমেদ তোতা বলেন, শার্শা উপজেলায় শেখ আফিল উদ্দিন এমপি যে উন্নয়ন করেছেন তা মুখে বলে বোঝানো যাবেনা। ২০০৯ সালের পূর্বের চিত্র ছিল কেমন, আর তিনি এমপি হওয়ার পর কেমন উন্নয়ন হয়েছে তা না দেখলে বোঝা কষ্টকর। 

কথা হয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সালেহ আহমেদের সাথে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে দেশে ব্যাপক উন্নয়ন হয়। শার্শার মাটি ও মানুষের নেতা শেখ আফিল উদ্দিন তারই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার বহু পরে হলেও এমপি শেখ আফিল উদ্দিনের সুসংগঠিত নেতৃত্বের কারণে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ১১টি চেয়ারম্যান এবং ১টি পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র নির্বাচিত হয়েছে। তিনি শার্শায় যে উন্নয়ন করেছেন এগুলো তারই প্রমাণ। 

এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক মঞ্জুর বলেন, এমপি শেখ আফিল উদ্দিন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে শার্শার সার্বিক উন্নয়নের জন্য কাজ করে চলেছেন। শার্শার উন্নয়ন এখন চোখে পড়ার মত। আশপাশের উপজেলাগুলোর চেয়ে শার্শার কল্যাণকর উন্নয়ন জনগণের জন্য আর্শিবাদে পরিণত হয়েছে।