ডার্ক হর্স- তিউনেশিয়ার বিদায়, নকআউটে অস্ট্রেলিয়া

এখন সময়: বুধবার, ১ ফেব্রুয়ারি , ২০২৩ ০৯:৩১:৩৫ am

ক্রীড়া ডেস্ক : গত বছরের ইউরোতে দারুণ ফুটবল উপহার দিয়েছিল ডেনমার্ক। কাতার বিশ্বকাপে সেজন্য তাদের ‘ডার্ক হর্স’ বলা হচ্ছিল। কেউ কেউ ফেবারিটও বলছিলেন। কাসপার স্মাইকেল, ক্রিস্টিয়ান এরিকসন, ডেমসগার্ডদের মতো খেলোয়াড় তাদের দলে। ওই ডেনিসরা আসরে কোন জয়ই পায়নি। গ্রুপের শেষ ম্যাচে এশিয়া অঞ্চল থেকে বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়া অস্ট্রেলিয়ার কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে তারা। গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে নকআউট নিশ্চিত করেছে সকারুরা।
অপর ম্যাচে তিউনেশিয়ার বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরেই গেলো ফ্রান্স। তাতে অবশ্য ডি গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলে তেমন হেরফের হয়নি। শীর্ষে থেকেই শেষ ষোলোতে গেলো ফ্রান্স।
এদিকে, ফ্রান্সের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হেরে আসর শুরু করেছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে পরের ম্যাচে জয় তুলে নিয়েছিল সকারুরা। ডেনমার্কের বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে ড্র করলেই শেষ ষোলো নিশ্চিত হতো অস্ট্রেলিয়ার। হারলে নিতে হতো বিদায়। ওই ম্যাচ প্রথমার্ধে গোল শূন্য সমতায় শেষ হয়। তবে দ্বিতীয়ার্ধে গোল করে জয় তুলে নিয়েছে গ্রাহাম অরনাল্ডের দল।
ম্যাচের ৬০ মিনিটে দলের হয়ে গোল করে ম্যাথু লেকি। অস্ট্রেলিয়ার নাম্বার সেভেনকে বল বানিয়ে গোল করান ম্যাকগ্রি। ওই গোল ডেনমার্ক শোধ করতে পারেনি। ৬৮ ভাগ বলের পজিশন রাখলেও গোল হওয়ার মতো তেমন সুযোগ ডেনিসরা তৈরি করতে পারেনি। বরং অল্প বলের দখল রেখেও পোস্টে ডেনমার্কের চেয়ে বেশি শট নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
এই জয়ে তিন ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে শেষ ষোলোয় নাম তুলেছে অস্ট্রেলিয়া।

ফ্রান্সকে হারিয়ে দিলো তিউনেশিয়া

শেষ ষোলোয় আগেই উঠে গিয়েছিল ফ্রান্স। সে কারণেই কিনা তিউনেশিয়ার বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দ্বিতীয় সারির দল মাঠে নামিয়ে দেন ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম। তাতে তিউনেশিয়ার বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরেই গেলো ফ্রান্স।
তিউনেশিয়ার পক্ষে গোলটি করেন ওহাবি খাজরি। তাতে অবশ্য ডি গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলে তেমন হেরফের হয়নি। শীর্ষে থেকেই শেষ ষোলোতে গেলো ফ্রান্স। অন্য ম্যাচে ডেনমার্ককে ১-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়াও।
বুধবার তিউনেশিয়ার বিপক্ষে আগের ম্যাচে খেলা মাত্র দুজনকে খেলিয়েছেন দেশম। রাফায়েল ভারানে এবং অরেলিয়ে চুয়ামেনি। ছিলেন না কিলিয়ান এমবাপ্পে, অলিভিয়ার জিরুদ, আন্তোনিও গ্রিজম্যানরা।
খেলার শুরু থেকে ফরাসি শিবিরে আক্রমণে যাচ্ছিল আফ্রিকার দেশটির। দুই মিনিটের মধ্যে তারা বলও পাঠিয়েছিল ফ্রান্সর জালে। কিন্তু অফসাইডের কারণে সেটা গোল হয়নি। তবে ধীরে ধীরে ফ্রান্স খেলায় ফিরে আসে। শুরুতে বল পজেশনে তিউনিসিয়া এগিয়ে থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ফ্রান্সও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে থাকে।
১৭ মিনিটে তিউনিসিয়ার সামনে গোলের প্রথম সুযোগ এসেছিল। তবে বক্সের সামনে একাধিক ডিফেন্ডারের বাধার কারণে ঠিকমতো শট নিতে পারেননি বেনসিলমানে। ২৫ মিনিটে ফ্রান্সের ডান দিক থেকে আসা একটি ক্রস থেকে হেড নিয়েছিলেন কিংসলে কোম্যান। কিন্তু বল চলে যায় বাইরে।
৩০ মিনিটে বেল সিলমানের হেড আটকে দেন ফরাসি গোলরক্ষক স্টিভ মানডানডা। ১০ মিনিট পর আবার ফ্রান্সের ত্রাতা  গোলরক্ষক। এবার তিনি ফিস্ট করেন তিউনিসিয়ার ওয়াহবি খাজরির শট। প্রথমার্ধে গোল পায়নি কোনও দলই।
বিরতির পর ৫৮ মিনিটে গোলের দেখা পায় তিউনেশিয়া। গোল করেন খাজরি।
গোল খেয়ে ৬৫ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে বদলি হিসেবে মাঠে নামান ফরাসি কোচ। তাতেও খুব একটা সুবিধা হচ্ছিল না। আক্রমণ বাড়াতে ৭৪ মিনিটে মাঠে নামেন আন্তোনিও গ্রিজম্যান। ৮০ মিনিটে নামানো হয় ডেম্বেলেকেও।
ইনজুরি টাইমের একবারে শেষ মুহূর্তে (৯৮ মিনিট) দেখা দেয় নাটকীয়তা। ফ্রান্সের হয়ে গোল করেন আন্তোনিও গ্রিজম্যান। কিন্তু ভিএআর-এ দেখা যায় অফসাইড ছিলেন তিনি। গোলটি বাতিল হয়। ফলে ১-০ গোলের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় ফরাসিদের।