যশোর বিভাগীয় আঞ্চলিক ফিজিক্স অলিম্পিয়াড

‘তোমরাই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ’

এখন সময়: মঙ্গলবার, ২১ মে , ২০২৪, ০৪:২১:১২ এম

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাদু বা ম্যাজিক অলৌকিক কিছু নাকি সবটাই বিজ্ঞান/আপেক্ষিকতা তত্ত্ব কি নিজেই আপেক্ষিক/আমরা জানি, আলো প্রতি সেকেন্ডে তিন লাখ কিলোমিটার যায়, এটা আবিষ্কৃত হলো কিভাবে এবং এগুলো যে সত্যি তার প্রমাণ কি?
এমন অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চার শতাধিক ‘খুদে বিজ্ঞানী’ ফিজিক্স অলিম্পিয়াডের যশোর বিভাগীয় আঞ্চলিক পর্বের অনুষ্ঠানে যোগ দেয়।
শুক্রবার যশোর জিলা স্কুল মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীদের অজানা প্রশ্নের উত্তর দেন চারজন পদার্থ বিজ্ঞানী। তারা হলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক গোলাম দস্তগীর আল কাদেরী, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলমগীর বাদশা ও একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুর রশিদ ও বাংলাদেশ ফিজিক্স অলিম্পিয়াড কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ আহাম্মেদ জাহাঙ্গীর মাসুদ।
প্রশ্নোত্তর পর্বের শুরুতে যশোর বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক সংগীত ও সোনার কাঠি-রুপার কাঠি দূরন্ত জাদুকর খ্যাত চট্টগ্রামের রাজীব বসাক ম্যাজিক দেখিয়ে মিলনায়তন ভরা শিক্ষার্থীদের মুগ্ধ করেন।
প্রশ্নোত্তর পর্বের অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর যশোর প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের ভেন্যু স্মারক গ্রহণ করেন যশোর জিলা স্কুল প্রধান শিক্ষক শোয়াইব হোসেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বন্ধুসভার সভাপতি লাকি রানী কাপুড়িয়া।
এরপর বাছাই পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হয়। চার ক্যাটাগরি থেকে ৮০ জনের গলায় মেডেল পরিয়ে হাতে সনদপত্র তুলে দেয়া হয়। তারা জাতীয় ফিজিক্স অলিম্পিয়াডে অংশ গ্রহণ করবে।
এর আগে সকাল সাড়ে নয়টায় রঙিন বেলুন ও ফেস্টুন আকাশে উড়িয়ে বিভাগীয় আঞ্চলিক পর্বের অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান।
এ সময় যশোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা, আন্তর্জাতিক ফিজিক্স অলিম্পিয়াড ও বাংলাদেশ ফিজিক্স অলিম্পিয়াড কমিটির পতাকা উত্তোলন করা হয়।
উদ্বোধনী পর্বে যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান বলেন, যে কোনো ধরণের জ্ঞান অর্জনের জন্যে গণিত ও পদার্থ বিজ্ঞানের চর্চা করতেই হবে। কারণ জ্ঞানের কেন্দ্র বিন্দু হচ্ছে গণিত এবং পদার্থ বিজ্ঞান। ফিজিক্স অলিম্পিয়াডের মত কঠিন বিষয়ে উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রথম আলো শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের সোপান রচনা করে দিচ্ছে। এ জন্যে প্রথম আলোকে ধন্যবাদ।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তোমরাই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ। আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে যে নেতৃত্ব দরকার, তোমরাই আমাদের সেই নেতা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক গোলাম দস্তগীর আল কাদেরী বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে পদার্থ বিজ্ঞান চর্চার বিকল্প নেই। কারণ, পদার্থ বিজ্ঞান ছাড়া বিজ্ঞান চলে না।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ফিজিক্স অলিম্পিয়াড কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ আহাম্মেদ জাহাঙ্গীর মাসুদ বলেন, তোমরা স্বপ্ন দেখো এটা নিশ্চিত। সেই স্বপ্নটা অনেক দূর এগিয়ে নিতে হবে। শুধু বাংলাদেশ না তোমাদেরকে সারা বিশ্ব দাপিয়ে বেড়াতে হবে।
শুধু অনলাইন বাছাইপর্বে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা এই আঞ্চলিক পর্বে অংশ নিয়েছে। অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে জাতীয় অলিম্পিয়াড পর্বে অংশ নেয়ার জন্যে এক ঘণ্টা ১৫ মিনিটের একটি বাছাই পরীক্ষা হয়।
পরীক্ষা শেষে একদিকে খাতা মূল্যায়নের কাজ চলে অন্যদিকে মিলনায়তনে প্রশ্নোত্তর পর্বের অনুষ্ঠান চলতে থাকে।
চারটি ক্যাটাগরিতে অন্তত ৪০০ জন শিক্ষার্থী এই অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।
আঞ্চলিক পর্বের বিজয়ীদের নিয়ে আয়োজিত হবে জাতীয় উৎসব। পরে জাতীয় উৎসবের বিজয়ীদের নিয়ে ক্যাম্প আয়োজন করা হবে। ক্যাম্প শেষে বাছাই করা শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত হবে বাংলাদেশ ফিজিক্স অলিম্পিয়াড দল। ওই দলটিই জাপানের টোকিওতে অনুষ্ঠেয় ৫৩তম ফিজিক্স অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।
আয়োজকেরা জানান, শিক্ষার্থীদের পদার্থবিজ্ঞানে দক্ষ করে তুলতে ২০১১ সাল থেকে আয়োজিত হচ্ছে ফিজিক্স অলিম্পিয়াড। এ অলিম্পিয়াডের আয়োজন করছে বাংলাদেশ ফিজিক্স অলিম্পিয়াড কমিটি। আয়োজনের পৃষ্ঠপোষকতা করছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক। ব্যবস্থাপনায় রয়েছে প্রথম আলো। অনুষ্ঠান আয়োজনে সহযোগিতা করছে বন্ধুসভা। এছাড়া ম্যাগাজিন পার্টনার হিসেবে থাকছে কিশোর আলো ও বিজ্ঞানবিষয়ক মাসিক ম্যাগাজিন বিজ্ঞান চিন্তা।