কাদা মাটি দিয়ে শহিদ মিনার বানিয়ে শ্রদ্ধা

এখন সময়: শুক্রবার, ২১ জুন , ২০২৪, ১১:১৫:১৫ পিএম

বাবুল আক্তার, চৌগাছা: বাঁশ, মাটি আর কাদার প্রলেপ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী এক শহিদমিনার। চারপাশে রং করা হয়েছে। শহিদমিনারের প্রবেশমুখে আঁকা হয়েছে আল্পনা। কয়েকদিন ধরে নিজেরোই পরিশ্রম করে গড়ে তুলেছে শহিদ মিনারটি। মঙ্গলবার সেই শহিদ মিনারে ভাষার জন্য জীবন বির্সজন দেয়া শহিদের স্মরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে কোমলমতি শিশুরা।

যশোরের চৌগাছা উপজলোর নারায়নপুর ইউপির বাদেখানপুর গ্রামের একটি বাড়ির সামনরে জায়গায় নির্মাণ করা হয় মাটির ওই শহীদ মিনারটি। ঝরে পড়া শিমুল ফুল দিয়ে শহিদদের শ্রদ্ধা জানায় তারা। শ্রদ্ধা বেদিতে বনফুল দিলেও তাদের ভক্তি ও শ্রদ্ধার কোনো কমতি ছিল না।

একুশে ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকালে দেখাগেছে বাদেখানপুর গ্রামের শিশু কিশোররা তাদের তৈরি করা শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করছে। শিশুরা তাদের মাটির তৈরি শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে।

বাঁশ, মাটি আর কাদার প্রলেপ দিয়ে শহিদ মিনারটি তৈরি করেছে তারা। লোহার রডের মতো প্রতিটি খন্ডের মাঝখানে বাঁশ দেয়া হয়েছে। দেখে মনে হচ্ছে নিপুন হাতে তৈরি করা হয়েছে।

বাদেখানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ম শ্রেণির ছাত্র আলফিন, ২য় শ্রেণির ছাত্র আলিফ,৫ম শ্রেণির ছাত্র মিঠুন, রাহুল, ৩য় শ্রেণির ছাত্র রাহুল জানায় শহিদ দিবসে সবাই ফুল দেিত যায়। তাদের বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার না থাকায়  শ্রদ্ধা জানাতে পারেনা তারা। তাই কয়কেজন মিলে সিন্ধান্ত নিয়ে গত কয়েকদিন পরিশ্রম করে মাটি, বাঁশ ও তাতে কাদার প্রলেপ দিয়ে শহিদ মিনার নির্মান করেছে তারা।

রাহুল ও মিঠুনের বাবা উপজেলার বাদেখানপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর ও মহাসিন বলেন, ‘বেশ কয়েকবছর ধরেই এই গ্রামের শিশু কিশোররা কাদা-মাটি দিয়ে শহিদ মিনার বানিয়ে ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জনিয়ে আসছে। এখানে আশেপাশে অনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার আছে। কিন্তু এখানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার নেই। তার পরেও একুশে চেতনা তাদের কাছে পৌছে গেছে এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে করছে এজন্য অভিভাবক হিসেবে গর্বিত’।