যশোরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

এখন সময়: রবিবার, ৪ জুন , ২০২৩ ১০:৩৭:২০ am

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: নানা আয়োজনে যবিপ্রবিসহ যশোরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও শিক্ষা বোর্ডে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল আলোচনাসভা,পুরস্কার বিতরণ ও দোয়া মাহফিল।

যবিপ্রবি

আলোচনাসভা, যশোর শহরস্থ বিজয় স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনসহ নানা কর্মসূচিতে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৩ উদযাপন করা হয়েছে।

যবিপ্রবির মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় সূর্যোদয়ক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে। এরপর সকাল ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। সকাল সোয়া ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একাডেমিক ভবনের গ্যালারিতে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এঁর ঐতিহাসিক নেতৃত্ব এবং দেশের উন্নয়ন’ শীর্ষক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যবিপ্রবির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ ইকবাল কবীর জাহিদ।

যবিপ্রবির ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. আলম হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন যবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আব্দুল মজিদ, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. আহসান হাবীব, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গালিব, এ্যগ্রো প্রডাক্ট টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস, উপ-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ এমদাদুল হক, পিএ কাম কম্পিউটার অপারেটর আতিকুর রহমান প্রমুখ। আলোচনা সভায় বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, বিভাগের চেয়ারম্যানবৃন্দ, দপ্তরপ্রধানবৃন্দ, শিক্ষার্থী-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের সহকারী পরিচালক তানভীর আহমেদ।  

পরে সকাল সাড়ে ৯টায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে নিয়ে যবিপ্রবির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ ইকবাল কবীর জাহিদ যশোর শহরের মণিহার অবস্থিত বিজয় স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। একইসঙ্গে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তাবৃন্দ ও কর্মচারীবৃন্দ বিজয় স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপরে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ, সাংবাদিক সমিতিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনও বিজয় স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। এর আগে সকাল ৯টায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকস্থ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন যবিপ্রবির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ ইকবাল কবীর জাহিদ। অনুরূপভাবে যবিপ্রবির শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তাবৃন্দ ও কর্মচারীবৃন্দ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া-মোনাজাত করা হয়। এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষ্যে ক্যাম্পাসের প্রধান সড়ক ও বিভিন্ন ভবনে আলোকসজ্জা করা হয়েছে।  

সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ

সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজে আলোচনাসভা ও পুরস্কার বিতরণের অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়েছে।

কলেজের হল রুমে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন অধ্যক্ষ প্রফেসর মর্জিনা আক্তার। এ সময় বক্তব্য রাখেন কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আবু বক্কর সিদ্দিকী, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক প্রফেসর এসএম শফিকুল ইসলাম, অনুষ্ঠানের আহবায়ক প্রফেসর জিল্লুল বারী, প্রফেসর আখতার হোসেন,সহযোগী অধ্যাপক মুকুল হায়দার, সহকারী অধ্যাপক শাহাদৎ হোসেন,প্রভাষক অনুপ কুমার দত্ত, কলেজ ছাত্রলীগের সদস্য তৌফিক হাসান পারভেজ প্রমুখ।

আলোচনা শেষে আবৃত্তি ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ১২ জনের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

শিক্ষা বোর্ড সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজ

শিক্ষা বোর্ড সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আহসান হাবীব। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম। অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন প্রভাষক কল্যাণ সরকার।

আলোচনা শেষে চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ১১ জনের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ৮ম শ্রেণির ছাত্রী তানিশা রায় ও রওফুন জাহান নির্ঝর।

জিলা স্কুল

জিলা স্কুলে আলোচনাসভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়েছে।

প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা শিক্ষা অফিসার একেএম গোলাম আযম। প্রধান শিক্ষক শোয়াইব হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সহকারী প্রধান শিক্ষক প্রভাতী সেখ সফিযার রহমান, সহকারী প্রধান শিক্ষক দিবা মোহাম্মদ মহিউদ্দীন, সিনিয়র শিক্ষক নজরুল ইসলাম খান প্রমুখ। আলোচনা শেষে চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ৩৬ জনের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। একই অনুষ্ঠানের ৩৬ জন ছাত্রের মাঝে স্টুডেন্ট অব দ্যা মানথের মেডেল ও সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়। সার্বিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সিনিয়র শিক্ষক জামাল উদ্দীন।

যশোর শিক্ষা বোর্ড  : স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা , মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আহসান হাবীব।

বিশেষ অতিথি ছিলেন বিদ্যালয় পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম । হিসাব শাখার উপপরিচালক ড. এএসএম রফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা  আব্দুল খালেক, মুক্তিযোদ্ধা  উসমান গণি,সহকারী সচিব প্রশাসন মুজিবুল হক, ক্রীড়া অফিসার আ ফ ম আশাফুদ্দৌলা টিটো, উপসহকারী প্রকৌশলী কামাল হোসেন, সহকারী মূল্যায়ন অফিসার আবুল কালাম, কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল মান্নান প্রমুখ। আলোচনা শেষে মুক্তিযোদ্ধা  আব্দুল খালেক, মুক্তিযোদ্ধা  উসমান গণিকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। একই অনুষ্ঠানে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা,কর্মচারী জিপিএ-৫ প্রাপ্ত সন্তানদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। সার্বিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শিক্ষা বোর্ড কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাকিব হাসান।

বিসিএমসি ও বিটিসি :

বিজয়স্তম্ভে ফুল দেয়াসহ কর্মসূচির মধ্যে ছিল জাতীয় পতাকা উত্তোলন, র‌্যালি, আলোচনা, দোয়া ও মোনাজাত। এছাড়াও ‘বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ’ বিষয়ক রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিসিএমসি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. আশরাফুল কবির প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিসিএমসি অধ্যক্ষ প্রকৌশলী এস এম রেজাউল কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিটিসি অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামান।

সহাকারী অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান ও জাহিদুল ইসলাম যাদুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতেই কোরআন তেলোয়াত ও দোয়া মোনাজাত করেন বিসিএমসি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব ও পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা মো. মাহবুবুর রহমান। বক্তব্য রাখেন  বিসিএমসি রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান রাজা, মেরিন অ্যান্ড মেকানিক্যাল বিভিাগের প্রধান আসাদুজ্জামান, বিটিসির ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী বুলবুল আহমেদ, প্রকৌশলী রুনা খাতুন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কম্পিউটার ৫ম পর্বের আব্দুল্লাহ আল নোমান, কম্পিউটার ১ম পর্বের নয়ন হুসাইন, টেক্সটাইল ১ম পর্বের মেহজাবিন আহমেদ কনা, কম্পিউটার ৩য় পর্বের সানজিদা আক্তার, কম্পিউটার ১ম পর্বের আল মাহমুদ আহাদ, কম্পিউটার ১ম পর্বের সামিয়া নুহ শোভা।

রচনা প্রতিযোগিতায় কম্পিউটার ৩য় পর্বের সানজিদা আক্তার ১ম, টেক্সটাইল ১ম পর্বের মেহজাবিন আহমেদ কনা ২য় ও কম্পিউটার ৩য় পর্বের রাজশ্রী ভদ্রকে ৩য় পুরস্কার প্রদান করা হয়।