❒যশোর জেনারেল হাসপাতাল

চাহিদাপত্র পাঠানোর পর দু’বছরেও মর্গে আধুনিক যন্ত্রপাতি মেলেনি

এখন সময়: শনিবার, ২০ জুলাই , ২০২৪, ০১:৩১:৪২ পিএম

 

বিল্লাল হোসেন : যশোর জেনারেল হাসপাতালে লাশের ময়নাতদন্তে ব্যবহারের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতির চাহিদাপত্র পাঠানোর দুই বছর পার হলেও এখনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। তাই মান্ধাতার আমলের যন্ত্রপাতি দিয়েই চলছে মৃতদেহ কাটার কাজ।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হারুন অর রশিদ জানান, আধুনিক যন্ত্রপাতি পেতে স্বাস্থ্য অধিদফতরে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে। তবে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্যক্রম চালু হলে মর্গে আর কোন সমস্যা থাকবে না। 

হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ ২০২০ সালের ১৪ জুলাই ১৪ প্রকারের ১৪৯টি যন্ত্রপাতি চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। যন্ত্রপাতির তালিকায় ছিলো গ্রাউন্ডার মেশিন ৩টি, ছেনি ৪টি, ১২ ইঞ্চি চাকু ৪টি , ৮ ইঞ্চি চাকু ৪টি, শীল ৪টি, প্লাস ৬টি,  ১২ ইঞ্চি হেসকো করাত মেশিনসহ ৮টি, ১২ ইঞ্চি হেসকো করাতের ব্লেড ৬০টি, বিপি ব্লেড ঢুকানোর জন্য চাকু ১২ টি, বিপি ব্লেড ১২ টি, স্টিল গামলা ৬টি, স্টিল বালতি ৬টি, ৫শ গ্রাম ওজনের হাতুড়ি ৬টি    ২ টনের এসি ২টি। কিন্তু উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি আমলে না নেয়ার কারণে আধুনিক যন্ত্রপাতির বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। 

হাসপাতালের মর্গের সামনে গেলেই হাতুড়ি পেটানোর শব্দ কানে ভেসে আসে। হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে লাশের মাথা ভাঙা হয়। আধুনিক যন্ত্রপাতি না থাকায় এইভাবে লাশের মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়। আবার মাথার খুলি খোলার জন্য ব্যবহৃত ছেনিও মরিচা ধরা। গায়ের জোরে ময়নাতদন্ত কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে । তারপরও এখানে সরবরাহ করা হয়নি ময়নাতদন্তের কাজে ব্যবহৃত আধুনিক কোন যন্ত্রপাতি। অথচ যশোর জেলার সকল উপজেলা যে কেউ হত্যা বা রহস্যজনক মৃত্যুর শিকার হলেই ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাঠানো হয় এই মর্গে।

ময়নাতদন্তকারী একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন, মর্গের বেহাল অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়না। কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করা হলেই বলেন চাহিদাপত্র দেন। কিন্তু বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হয়না। বর্তমানে এখানে কোন ধরণের আধুনিক সুযোগ সুবিধা এখানে নেই। অনেক পুরাতন যন্ত্রপাতি দিয়ে লাশের ময়নাতদন্তের কাজ করা হচ্ছে। পুরাতন যন্ত্রপাতি দিয়ে ময়নাতদন্তের কাজে গিয়ে চিকিৎসকরা বিব্রত হন।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হারুন অর রশিদ জানিয়েছেন, আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে দায়িত্বরতরা স্বাচ্ছন্দে ময়নাতদন্ত কার্যক্রম করতে পারেন না। উন্নতমানের যন্ত্রপাতি চেয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে বছরে অন্তত দুই বার করে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়। তারপরেও বরাদ্দ মেলেনা। তিনি আরও জানান, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্যক্রম চালু হওয়ার পর সেখানে মর্গ চলে যাবে। তখন মর্গে সকল প্রকার আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকবে।