নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরে ভোট পরবর্তী হামলায় বিএনপির তিন কর্মী আহত হয়েছেন। শুক্রবার চৌগাছার ফুলসারা ইউনিয়নের রায়নগর, বাঘারপাড়ার দয়ারামপুর ও মণিরামপুর উপজেলার জালঝাড়ায় এসব ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন ফুলসারা ইউনিয়নের ৩নম্বর নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও চারাবাড়ি গ্রামের খলিল বিশ্বাসের ছেলে মোহাম্মদ বাবু (৪৫), দয়ারামপুর গ্রামের মোন্তাজ মোল্যার ছেলে ইবাদুল ইসলাম (৩৫) ও জালঝাড়া গ্রামের আজিজার সর্দারের ছেলে মঈন সর্দার। তারা যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আহত মোহাম্মদ বাবু জানান, শুক্রবার সকালে তিনি মোটরসাইকেলযোগে রায়নগর বাজারে যান। এ সময় রায়নগর গ্রামের মৃত আহসান আলীর ছেলে সাইফুল্লাহর নেতৃত্বে কাউসার আলী, ইমদাদুল, মনির মেম্বার ও রহমানসহ জামায়াত- শিবিরের একদল কর্মী তার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে কিল ঘুষি মারতে থাকে। এ সময় সাইফুল্লাহ তার পিঠে ছুরিকাঘাত করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হামলার কারণ সম্পর্কে বাবু জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি ছিলেন ধানের শীষের পক্ষের কর্মী। রায়নগর প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটার ১৭৬৭। এরমধ্যে ধানের শীষ ৬৭১ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীক পেয়েছে ৫৬১ ভোট। সেখানে দাঁড়িপাল্লার পরাজয় হওয়ায় জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা ক্ষুব্দ হয়ে তার ওপর হামলা করেছে।
দয়ারামপুর গ্রামের ইবাদুল ইসলাম জানান, ভোটে তিনি বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। এতে জামায়াতের কর্মীরা তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। শুক্রবার সকাল ১০ টার দিকে তিনি পুনিয়ার বাজারে ছিলেন। এ সময় জামায়াতের সমর্থক সাকিদুলের নেতৃত্বে ৭/৮ জন হামলা চালিয়ে তাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। পরে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
একই দিন বেলা ১১ টার দিকে মণিরামপুরের জালঝাড়া মাদরাসার সামনে মঈন উদ্দিন নামে বিএনপির এক সমর্থক প্রতিপক্ষের হামলায় জখম হন। মঈন উদ্দিন জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াতের সমর্থক ওয়াদুদের নেতৃত্বে শহীদ, বোরহান ও এনামুল হামলা চালিয়ে তাকে লাঠিপেটায় জখম করেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে আনেন।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. বিচিত্র মল্লিক জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে বাবুর অবস্থা গুরুতর। অন্য দুইজন ইবাদুল ও মঈন উদ্দিন আশঙ্কামুক্ত। পুরুষ সার্জারী ওয়ার্ডে তাদের চিকিৎসাসেবা চলমান।