যশোরে ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’ নিয়ে আলোচনা ও পাঠ-প্রতিক্রিয়া অনুষ্ঠান

এখন সময়: মঙ্গলবার, ২১ মে , ২০২৪, ০৪:২৮:৫৪ এম

নিজস্ব প্রতিবেদক : মানিক বন্দোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’ নিয়ে যশোরে আলোচনা ও পাঠ-প্রতিক্রিয়া অনুষ্ঠান হয়েছে। শনিবার বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমির মুক্তমঞ্চে ‘সপ্তাহে একটি বই পড়ি’র উদ্যোগে ছিল এই আয়োজন । 

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহ্জাহান কবীর এতে সভাপতিত্ব করেন। এ সময় মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে একই কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আখতার হোসেন বলেন, লিবিডো চেতনায় জর্জরিত মানবীয় প্রেম তাড়না ও মধ্যবিত্তের সংকটের এক গভীর অভিনিবেশ ঘটেছে এ উপন্যাসে। সমাজে বসবাসরত সকল মানুষের মাঝেই কিছু প্রবণতা থাকে; যেটা বিভিন্নভাবে তাকে তাড়িত করে অসম কোনো এক দ্ব›েদ্বর দিকে। যেটা আপাতদৃষ্টিতে কষ্টের। তবে এটাই স্বাভাবিক। এবং এর মাধ্যমে মানুষ আত্ম-শোধনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। 

সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শেখ আমানুল্ল্যাহ আমান বলেন, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় শশী চরিত্রের মাধ্যমে গ্রামীণ কুসংস্কার চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। 

যশোর সরকারি মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির টানাপোড়েন ও অস্তিত্বের সংকট প্রতিফলিত হয়েছে এ উপন্যাসে।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুমন রেজার সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সদস্য হরিদাস বিশ্বাস। মানিক বন্দোপাধ্যায়ের জীবনী পাঠ করেন বায়জিদ হোসেন। আলোচনায় অংশ নেন মুরাদ হোসেন, আব্দুল কাদের, স্বপ্না খাতুন, নাজমা খাতুন, শিরিন সুলতানা, খন্দকার রুবাইয়া, অনিক হোসেন, ফয়সাল হোসেন, সামিউল আলম, উৎস, সুরাইয়া, জাকির, সাদিয়া, রুদাইবা প্রজ্ঞা। 

অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে গান পরিবেশন করেন লাবণ্য এবং রাতুল হাসান খান। কবিতা আবৃত্তি করেন খন্দকার রুবাইয়া ও স্বপ্না খাতুন। সন্ধ্যায় মোমবাতি প্রজ্বালন করে সৃষ্টি করা হয় এক অন্যরকম আবহ। সেই সঙ্গে পরিবেশিত হয় রবীন্দ্রসঙ্গীত। 

সঙ্গীত পরিবেশন করেন অর্পিতা রায় লাবণ্য, রাতুল হাসান খান। গিটার বাজিয়ে রবীন্দ্র সঙ্গীত পরিবেশন করেন পৃথিলা জেসমিন। কবিতা আবৃত্তি করেন লুবনাম ফারিয়া স্বপ্না, সুরাইয়া ইয়াসমিন ও খন্দকার রুবাইয়া।