যশোরে এমপি আফিল উদ্দিনসহ ২৮ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ, ১৮জনের বাতিল

এখন সময়: শনিবার, ২ মার্চ , ২০২৪, ০৭:৪৮:১৮ পিএম

মিরাজুল কবীর টিটো: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোরের ৬টি আসনে ২৮ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা হয়েছে। রোববার কালেক্টরেট সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মনোনয়ন বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদার ওই সংখ্যক প্রার্থীর মনোননয়পত্র বৈধ ঘোষণা করেন। এদিন ৪৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাছাই করা হয়।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সম্বলিত তালিকায় ক্রুটি, ঋণ খেলাপী, টিন নাম্বার না থাকা ও আয়কর রিটার্ন দাখিল না করাসহ বিভিন্ন কারণে ১৮ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

যশোর-১ (শার্শা) আসনে মনোনয়নপত্র বৈধ প্রার্থী হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এমপি আলহাজ শেখ আফিল উদ্দিন। এ ছাড়া আসনটিতে মনোনয়নপত্র বৈধ  জাকের পার্টির সবুর খানসহ দুইজনের।

যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী তৌহিদুজ্জামানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা হয়েছে। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম মনির, বাংলাদেশ কংগ্রেসের আব্দুল আওয়াল, জাকের পার্টির  সাফারুজ্জামান ও জাতীয় পার্টির  ফিরোজ শাহ্’র মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা হয়েছে।

সদর-৩ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এমপি কাজী নাবিল আহমেদ, বিকল্পধারা বাংলাদেশের মারুফ হাসান কাজল, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুব আলম ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির অ্যাডভোকেট সুমন কুমার রায়ের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা হয়েছে।

যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এনামুল হক বাবুল, স্বতন্ত্র প্রার্থী এমপি রণজিৎ কুমার রায়, জাকের পার্টির লিটন মোল্ল্যা, জাতীয় পার্টির জহরুল হক, তৃণমূল বিএনপির লে.কর্নেল শাব্বির আহমেদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সুকৃতি কুমার মন্ডল ও ইসলামী ঐক্যজোটের ইউনুছ আলী মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা হয়েছে।

যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য, স্বতন্ত্র প্রার্থী ইয়াকুব আলী, ইসলামী ঐক্যজোটের হাফেজ মাওলানা নুরুল্লাহ আব্বাসী, তৃণমূল বিএনপির আবু নসর মোহাম্মদ মোস্তফা ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী এমএ হালিমের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা হয়েছে।

যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে আওয়ামী লীগের এমপি প্রার্থী শাহীন চাকলাদার, স্বতন্ত্র প্রার্থী এইচ এম আমির হোসেন,  জাতীয় পার্টির জিএম হাসান ও জাকের পার্টির প্রার্থী সাইদুজ্জামানের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যশোর-১ (শার্শা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সোহরাব হোসেনের ও নাজমুল হাসানের দাখিল করা ১ শতাংশ ভোটারের সাক্ষর সম্বলিত তালিকায় সমস্যা থাকায় তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ঋণ খেলাপী ব্যক্তি জামিনদার হওয়ায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী আক্তারুজ্জামানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এসএম হাবিবুর রহমানের দাখিল করা ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সম্বলিত তালিকায় সমস্যা থাকায় তার মনোনয়পত্র বাতিল করা হয়েছে।  বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফএর) প্রার্থী শামছুল হকের দাখিলকৃত কাগজপত্রে টিন নম্বর না থাকা ও আয়কর রির্টান দাখিল না করায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

যশোর-৩ (সদর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথের দাখিলকৃত ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সম্বলিত তালিকায় ক্রুটি থাকায় তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। জাকের পার্টির প্রার্থী মহিদুলের হলফনামায় ও আয় করের তথ্যে গরমিল, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রার্থী শেখ নুরুজ্জামান বিদ্যুৎ বিল খেলাপী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী তৌহিদুজ্জামানের হলফনামা ও আয়করের তথ্যে গরমিল, তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী কামরুজ্জামানের হলফনামা ও আয় করের তথ্যে গরমিল থাকায় মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনে স্বতন্ত্র সন্তোষ কুমার অধিকারীর দাখিল করা ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সম্বলিত তালিকায় ক্রুটি থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আমজাদ হোসেন লাভলু, হুমায়ুন সুলতান ও কামরুল হাসান বারীর দাখিল করা ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সম্বলিত তালিকায় ক্রটি থাকায় মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। জাকের পার্টির প্রার্থী হাবিবুর রহমানের সমর্থনকারী অন্য আসনের ভোটার হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হোসাইন মোহাম্মদ ইসলামের দাখিলকৃত ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সম্বলিত ভোটার তালিকায়  ক্রটি থাকায় ও আজিজুল ইসলাম আয়করের ফরম-১০ বি জমা না দেয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

কালেক্টরেট সভা কক্ষে মনোনয়নপত্র বাছাই করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদার। উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম শাহীন, অতিরিক্ত পুলিশ (সুপার ক্রাইম ও অপস) বেলাল হোসাইন, জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান প্রমুখ।

আগামী ৬ থেকে ১৫ ডিসেম্বর আপিল দায়ের ও নিষ্পত্তি। ঢাকায় নির্বাচন কমিশন বরাবর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীদের আবেদন করতে হবে। সেখানে মনোনয়ন ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। ১৭ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে ১৮ ডিসেম্বর।