মনিটরিং ও অভিযান নেই!

যশোরে কেনা দামের দ্বিগুণ মূল্যে কেজি দরে তরমুজ বিক্রি

এখন সময়: বুধবার, ১৭ এপ্রিল , ২০২৪, ০৬:২৬:৩৩ পিএম

মারুফ কবীর: যশোরে আড়ত থেকে পিস হিসেবে কেনা তরমুজ কেজি দরে দ্বিগুণ দামে বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা। মনিটরিং ও প্রশাসনিক কোনো তৎপরতা না থাকায় সিন্ডিকেট গড়ে এভাবে ক্রেতার পকেট কাটা চলছে। আড়ত থেকে ১২০ টাকায় কেনা এক পিস তরমুজ কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকায়।

পাইকারি তরমুজ বিক্রেতারা বলছেন, পিস হিসেবে কেনা তরমুজ অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছে খুচরা বিক্রেতারা। এক্ষেত্রে দ্বিগুণ দাম নেয়া হচ্ছে।

শহরের মণিহার সিনেমা হল এলাকার ফলের বাজারের আড়ৎদার মেসার্স শহিদুল এন্টারপ্রাইজের মালিক শহিদুল ইসলাম বলেন, এখনো ১৫ দিন পর তরমুজের মৌসুম শুরু হবে। তরমুজ এখনো ভালোভাবে পরিপক্ক হয়নি। রমজানের বাজার ধরতে চাষিরা আগেভাগে তরমুজ বিক্রি করছেন।

তিনি জানান, ৩ কেজি ওজনের তরমুজ ১০০টি ১২ হাজার টাকা বিক্রি করছেন। ৪ থেকে ৫ কেজি ওজনের তরমুজের ১০০টির দাম ২১ থেকে ২৪ হাজা টাকা পর্যন্ত। ৬ থেকে ৭ কেজির ওজনের তরমুজের শ’ প্রতি দাম ৩৩ থেকে ৩৪ হাজার টাকা।

ক্রেতারা জানান, প্রশাসনের তদারকি না থাকায় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ক্রেতাদের পকেট কাটছে। জোট বেঁধে তারা কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করছে। প্রশাসনের উচিত এই সিন্ডিকেট ভেঙে দেয়া।

যশোর জেলা ফল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এসএম সাইফুল ইসলাম লিটন জানান, পিস হিসেবে তরমুজ বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। সমিতির পক্ষ থেকে কেজি দরে তরমুজ বিক্রি না করতে ব্যবসায়ীদের চিঠি দেয়া হয়েছে। এরপরেও কেউ কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করলে সমিতি দায়ভার নেবে না।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক সৈয়দা তামান্না তাসনীম জানান, পিস হিসেবে কিনলে অবশ্যই পিস হিসেবে দাম ধরে তরমুজ বিক্রি করতে হবে। কেজি দরে কিনলে কেজি দরে বিক্রি করা যাবে। এর ব্যত্যয় হলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

যশোর শহরের মণিহার, চৌরাস্তা ও দড়াটানা ঘুরে দেখা যায়, খুচরা ব্যবসায়ীরা কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করছেন। একেক কেজি তরমুজের দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা। এতে একেকটি তরমুজের দাম ওজন ভেদে দাম পড়ছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা। কিন্তু ব্যবসায়ীরা আড়ত থেকে এর চেয়ে অর্ধেক দামে তরমুজ কিনছেন।

জামসেদ নামে এক ক্রেতা জানান, রোজার মাস ঘিরে তরমুজের দাম বাড়িয়েছে ব্যবসায়ীরা। ৩/৪ বছর আগে যে তরমুজের দাম ছিলো ১০০ টাকা; এখন সেই একই সাইজের তরমুজ ৩০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেজিতে বিক্রির কারণে তরমুজের দাম কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

তিনি জানান, কেজি দরের বদলে পিস হিসেবে কিনতে চাইলে  ৪ থেকে ৫ কেজি ওজনের একটি তরমুজের দাম চাওয়া হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। এক্ষেত্রে কেজি দরের চেয়েও দাম বেশি পড়ছে।

শহরের দড়াটানা ব্রিজ সংলগ্ন ফল ব্যবসায়ী ওলি জানান, ক্রেতা কেজিতে চাইলে কেজিতে; আর পিস হিসেবে কিনতে চাইলে পিস হিসেবে বিক্রি করি। এ বছর তরমুজের দাম অনেক বেশি।