মাগুরায় কৃষকের ফসল মাঠে কর্তন, মাঠেই বিক্রি

এখন সময়: মঙ্গলবার, ২১ মে , ২০২৪, ০৬:৩৮:২২ এম

 

শাহীন আলম তুহিন, মাগুরা  : মাগুরায় আধুনিক প্রযুক্তির মেশিন হারভেস্টার ব্যবহার করে চলছে ফসল কর্তন ও মাড়াইয়ের কাজ। এ কাজে স্বল্প পরিশ্রম ও কম সময়ের মধ্যে ক্ষেতের ফসল ক্ষেতে কর্তন ও মাড়াইয়ের কাজ করা যায়। চলতি গম মৌসুমে মাগুরা সদরের বিভিন্ন মাঠে গিয়ে দেখা গেছে এ চিত্র।

সরেজমিনে শনিবার সকালে সদরের হাজীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, হারভেস্টার ব্যবহার করে বিভিন্ন মাঠে চলছে গম কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ। এ এলাকার অধিকাংশ কৃষক এখন এ মেশিনের সাহায্যে ফসল কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ করছেন।

মাগুরা সদরের হাজিপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের কৃষক ওহিদুর ইসলাম লিটু বলেন,আমার এবার চলতি মৌসুমে ৫ বিঘা জমিতে গমের আবাদ করেছি। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলেও মাঝে মাঝে বৃষ্টি হওয়ায় গমের ফলন একটু কম হয়েছে। আগে গম কাটতে প্রতি বিঘা জমিতে আমার ৪ জন শ্রমিক লাগতো। এ শ্রমিক বাবদ আমার ২ হাজার টাকা খরচ হতো। সারাদিন ধরেই চলতো গম কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ  কিন্তু বর্তমানে  আধুনিক প্রযুক্তির মেশিন হারভেস্টার ব্যবহার করে আমি স্বল্প সময়ের মধ্যেই গম কাটতে সক্ষম হচ্ছি। ক্ষেতের ফসল ক্ষেতেই কর্তন ও মাড়াইয়ের সুবিধা থাকার কারণে আমাদের ফসল খুব তাড়াতাড়ি ঘরে তুলতে পারছি। প্রতি বিঘা জমিতে এ মেশিনে খরচ হচ্ছে ৭০ টাকা। আগে আমার শ্রমিক বাবদ যে টাকা খরচ হতো এখন স্বল্প খরচে আমি কম পরিশ্রমে ফসল ঘরে তুলতে পারছি। এ বছর আমি ২৫-৩০ মণ গম পাব বলে আশা রাখছি।

সদরের লক্ষ্মীপুর গ্রামের কৃষক বলেন, এবছর আমি ৩ বিঘা জমিতে গম চাষ করেছি। এবার গমের ফসল ভালো। আশা করি ভালো ফসল পাব। বর্তমানে আমরা মেশিনের সাহায্যে গম কর্তন ও মাড়াইয়ের কাজ করছি। পূর্বে গম কাটার জন্য শ্রমিকের মজুরি ছিল বেশি। আর সারাদিন কর্তন শেষে বাড়িতে নিয়ে চলতো মাড়াইয়ের কাজ ফলে বেশি দিন ও পরিশ্রম হতো খুব। বর্তমানে মেশিনের সাহায্যে গম কাটার ফলে আমরা খুব সুফল ভোগ করছি।

সদরের কেষ্টপুর গ্রামের কৃষক তোজাম, হারেজ, বকুলসহ অন্যান্য কৃষকরা বলেন,এখন আমাদের ক্ষেতের ধান, গম, মুশুরি কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ করছি মেশিনের সাহায্যে। এ কাজে আমাদের সময় ও শ্রম বাচঁছে। শ্রমিকের মজুরি বর্তমানে খুবই বেশি। তাই আমরা ক্ষেতেই ফসল ক্ষেতেই কর্তন ও মাড়াইয়ের কাজ করে সুবিধা পাচ্ছি। আমাদের গ্রামের অধিকাংশ কৃষকই এখন মেশিনের সাহায্যে ফসল কর্তন ও মাড়াইয়ের কাজ করছে। মেশিনে মাড়াইয়ের সুবিধা থাকায় অনেক সময় আমরা ব্যাপারীদের কাছে ক্ষেত থেকে ফসল বিক্রি করতে পারছি।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জেলায় ৫ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে গম চাষ হয়েছে। যার মধ্যে সদরে ১ হাজার ৩৭৫ হেক্টর, শ্রীপুরে ২ হাজার ৫০ হেক্টর, শালিকায় ৩৩৫ হেক্টর ও মহম্মদপুর উপজেলায় ১৬৯০ হেক্টর জমিতে গমের চাষ হয়েছে। এবার গমের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০ হাজার ২শত ৮৪ মেট্রিক টন।