নিজস্ব প্রতিবেদক: চৌগাছার একটি চাঁদাবাজি মামলার চার্জশিট গ্রহণ করে আওয়ামী লীগের ১৭ নেতাকর্মীর জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে যশোরের একটি আদালত। একই সাথে অপর অনুপস্থিত ৯ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেয়া হয়েছে। সোমবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শান্তুনু কুমার মন্ডল এ আদেশ দিয়েছেন।
আসামিরা হলো, চৌগাছার আফরা গ্রামের তোতা মিয়া, মফিজুর রহমান, চৌগাছা কারিকরপাড়ার আব্দুল মজিদ, পাশাপোল গ্রামের ফারুক হোসেন, শহিদুল ইসলাম, চারাবাড়িয়া গ্রামের আবুল বাশার, আব্দুল লতিফ, হযরত আলী, ইসরাফিল হোসেন, চাকলা গ্রামের নুর ইসলাম, পাতিবিলা গ্রামের মাহবুর রহমান লিটন, তবীজপুর গ্রামের রিপন আলী, মাধবপুর গ্রামের রাজিবুল ইসলাম, মাশিলা গ্রামের আবুল কাশেম, জাহিদুল ইসলাম, জগদীশপুর গ্রামের আইয়ুব আলী, লস্করপুর গ্রামের এম উজ্জল হোসের রনি ও কোমরপুর গ্রামের ফজলুর রহমান।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, চৌগছার ফুলসারা ইউনিয়ন বিএনপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক নান্নু মিয়া। আসামিরা আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী। রাজনৈতিক বিরোধের জেরে আসামিরা ২০১৯ সালের ১০ জানুয়ারি আসামিরা নান্নু মিয়ার বাড়ির সামনে পেয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে মারপিট করে জখম করে। আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় ঘটনার পর আইনগত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হওয়ায় ২ অক্টোবর ২৬ জনের নাম উল্লেখসহ অপরিচিত ১৫/২০ জনকে আসামি করে চৌগাছা থানায় চাঁদাদাবি ও মারপিটের অভিযোগে মামলা করেন।
এ মামলার তদন্ত শেষে আসামিদের দেয়া তথ্য ও সাক্ষীদের বক্তব্যে ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় এজাহারনামীয় ২৬ জনকে অভিযুক্ত করে গত ৩১ মে আদালতে চার্জশিট জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মেহেদী হাসান মারুফ।
সোমবার ছিল চার্জশিটের উপর শুনানির ধার্য দিন। এ দিন এ মামলায় অভিযুক্ত ২৬ আসামির মধ্যে ১৭ জন আদালতে উপস্থিত ছিল। বিচারক শুনানি শেষে চার্জশিট গ্রহণ উপস্থিত ১৭ আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ ও অনুপস্থিত ৯ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ দিয়েছেন।