কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে অর্ধ শতাব্দির বেশি সময়ের মাছের ঘের জবরদখল ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। মাছের ঘের ফিরে পেতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলার কাঁকশিয়ালী গ্রামের মাস্টার আব্দুল ওহাবের ছেলে নাহিন আহম্মেদ।
বুধবার বিকেল ৪ টায় কালিগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নাহিন আহম্মেদ (৩৮) লিখিত বক্তব্যে জানান, আমার ভাই ফিরোজ কবির (৪৭) প্রায় তিনবছর পূর্বে কাঁকশিয়ালি গ্রামের এন্তাজ আলী গাজীর ছেলে আব্দুল খালেক গাজীর নিকট থেকে তার ৫০ বছরের অধিক সময় ভোগদখলকৃত উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বাথুয়াডাঙ্গা মৌজায় ৪০ শতক জমিতে অবস্থিত মাছের ঘের ক্রয় করেন। ওই মাছের ঘেরসহ জমি ক্রয়ের পর থেকে আমার ভাই ফিরোজ কবির মাছ চাষ করে আসছিলেন। আমার ভাই চাকরি সংক্রান্ত প্রয়োজনে খুলনায় অবস্থান করার কারণে তার মাছের ঘেরটি দেখাশুনা করি। ওই ঘেরের পশ্চিম পাশে আমার প্রতিবেশী কাঁকশিয়ালি গ্রামের বিলায়েত বিশ্বাসের ছেলে গণিয়ার রহমান ওরফে গণির (৫৬) মাছের ঘের রয়েছে। গণিয়ার রহমান গণি দীর্ঘদিন যাবত আমার ভাইয়ের মাছের ঘেরটি জবরদখলের চক্রান্ত চালাতে থাকে। এক পর্যায়ে গত ২৬ জুন সকাল আনুমানিক ১০ টার দিকে অতর্কিতভাবে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী নিয়ে আমার ভাইয়ের মাছের ঘেরটি জবরদখল করে নেয়। ওই বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে লক্ষাধিক টাকার বাগদা চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ লুট করে নেয়। ঘের দখলের বিষয়টি লোক মারফত জানতে পেরে ঘটনাস্থলে যেয়ে এর কারণ জানতে চাইল গণিয়ার রহমান গণি ও তার ভাড়াটিয়া বাহিনী বলে, সরকারি খাস জায়গা তাই আমরা এখন থেকে দখল করে খাবো। অন্যের ৫০ বছরের দখলকৃত জায়গা জবরদখলের বিষয়টি জানালে তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারমুখী আচরণের পাশাপাশি খুন জখম করার হুমকি ধামকি দিতে থাকে। পরবর্তীতে বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালেও জবরদখলকারি গণিয়ার রহমান গণি প্রভাবশালী হওয়ায় কোন কার্যকর সমাধান করতে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। এমতাবস্থায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের সহায়তায় পূর্বমালিকানার ৫০ বছরের অধিককাল যাবত শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলকৃত মাছের ঘেরটি ফিরে পেতে দাবি করেন।