সিরাজুল ইসলাম, কেশবপুর : কেশবপুরে সাগরদাঁড়িতে জেলা পরিষদের বাংলোর পার্শে কপোতাক্ষ নদের উপরে বাঁশের ব্রিজটি কচুরিপানার চাপে গত দুই দিন আগে ভেঙে গেছে। স্কুলগামী শিক্ষার্থীসহ দু’পারের মানুষের পারাপারে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তারা পড়েছে মহাবিপাকে।
কেশবপুর উপজেলার দীর্ঘদিন যাবৎ বৃষ্টি-পানি না থাকায় কপোতাক্ষ নদের নাব্যতা একেবারে হারিয়ে গিয়েছিলো। যার ফলে কপোতাক্ষ নদের কেশবপুর অংশের ভিতরে প্রচুর পরিমাণে কচুরিপানায় ভরাট হয়ে যায়। কিন্তু গত জুলাই মাসের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সপ্তাহে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে অতিবর্ষণ জনিত কারণে কপোতাক্ষ নদে শ্রোতের তীব্রতা দারুণভাবে বৃদ্ধি পায়। আর এই করণে কপোতাক্ষ নদের শ্রোতের তীব্রতা বেড়ে গিয়ে শ্রোতের সাথে কচুরিপানা অপসারণ হয়ে ভেসে গিয়ে সাগরদাঁড়ি কপোতাক্ষ নদের উপরে বাঁশের ব্রীজের বাঁশের সাথে বেঁধে কচুরিপানা ভরাট হয়ে চাঁপ বাড়তে থাকে। এক পর্যায় নদের শ্রোত ও কচুরিপানার চাপে বাঁশের ব্রীজের একটি অংশ ভেঙে গিয়ে নদে ভেসে যায়। যার কারণে দুই পাড়ের মানুষে যাতায়াতের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে কপোতাক্ষে ওপারে পাটকেলঘাটা থানার শারসা গ্রামের প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী সাগরদাঁড়ি মাইকেল মধুসূদন ইন্সটিটিউটের পড়াশোনা করে। তাদের জন্য চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সাগরদাঁড়ি গ্রামের রাজ্জাক আহমেদ রাজু বলেন কপোতাক্ষ নদের উপরে বাঁশের সাঁকোটি দুই পাড়ের মানুষের জন্য সেতুবন্ধন। ব্রীজটি ভেঙ্গে পড়ার কারণে সাগরদাঁড়ি বাজারে, স্কুলে ও বিভিন্ন প্রয়োজনে যাতায়াতের অসুবিধা হচ্ছে।
সাগরদাঁড়ি মাইকেল মধুসূদন ইন্সটিটিউটের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গৌতম দত্ত দৈনিক স্পন্দনকে বলেন কপোতাক্ষ নদের উপরে বাঁশের ব্রীজটি ভেঙে গিয়ে তার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদে খুব ক্ষতি হয়েছে। কপোতাক্ষের ওপারে পাটকেল ঘাটা থানার শারসা গ্রামের প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী সাগরদাঁড়ি মাইকেল মধুসূদন ইন্সটিটিউটের পড়াশোনা করে। তাদের নদের ভাঙা ব্রীজ পার হয়ে স্কুলে আসতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেক সময় ঝুঁকি নিয়ে নদ পার হতে যেয়ে অনেকেই নদের শ্রোতে ভেসে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেখসোনা খাতুন দৈনিক স্পন্দনকে বলেন আমি সরেজমিনে গিয়ে দেখে আসার পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বীজটি মেরামতের জন্য বলেছি। তারা খুব তাড়াতাড়ি ব্রীজটি মেরামতের কাজ শুরু করবে।
কেশবপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সুমন শিকদার দৈনিক স্পন্দনকে বলেন কপোতাক্ষ নদের উপরে বাঁশের ব্রীজটি ভেঙে দুপারের মানুষের পারাপারের জন্য দারুণ ক্ষতি হয়েছে। ব্রীজটি মেরামত করার আগে নদে যে প্রচুর পরিমাণে কচুরিপানা রয়েছে সেই গুলো আগে অপসারণ করতে হবে। তারপর ব্রীজটি মেরামত করতে হবে। গত বুধবার থেকে কচুরিপানা অপসারণের কাজ শুরু করা হয়েছে।