ম.ম.রবি ডাকুয়া, মোংলা " বাগেরহাট-৪ সংসদীয় আসন বিলুপ্ত করে মোংলা থেকে রামপাল পৃথক করে মোড়েলগঞ্জ শরণখোলা যুক্ত করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে মোংলার বিএনপির সকল অঙ্গসংগঠন। নির্বাচন কমিশনের এ ধরনের খসড়া সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বিএনপি বিক্ষোভ মিছিল করে। পরে পৌর মার্কেটের সামনে সমাবেশ করেন স্থানীয় নেতারা।
এ সময় পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক বলেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সরকার ও নির্বাচন কমিশন পরিকল্পিতভাবে এটি করেছে। এটি বাগেরহাট-৩ আসন তথা জেলাবাসী কোনোভাবেই মেনে নেবে না। সরকারের নীলনকশা কখনোই বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না। বিশেষ করে বাগেরহাট-৩ আসন ভাঙার চেষ্টা করলে সর্বস্তরের জনতাকে নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাগেরহাটে চারটি আসন থেকে একটি কমানোকে আমরা ষড়যন্ত্র মনে করছি। সুন্দরবন, মোংলা বন্দর, ষাট গম্বুজের মতো বিশ্ব ঐতিহ্য যেখানে রয়েছে, সেই জায়গাটাকে দুর্বল করার জন্য একটি ষড়যন্ত্র চলছে। আমরা এটাকে অন্যায় মনে করছি, আমরা এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সরকারকে এই সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসার দাবি জানাচ্ছি। বাগেরহাটের জন্য এটি অপমানের ব্যাপার। এটি একটি প্রাচীন শহর, এখানে দিন দিন আরও আসন বাড়ানো উচিত। সামনে সংসদ নির্বাচন আছে, এই নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য এগুলো করা হচ্ছে। এই দাবি না মানা হলে ভবিষ্যতে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে।’
এ সময় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক তালুকদার মো. নাসির উদ্দিন, মো. গোলাম নুর জনি ও উপজেলা বিএনপি নেতা শেখ রুস্তম আলী।
নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে চারটি আসন করার দাবি জানান তারা। বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন চারটি আসন পুনর্বহাল না করলে দোকানপাট বন্ধসহ মোংলা বন্দর অচল করে দেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, সংবিধানের ১১৯-১২৪ ধারা অনুযায়ী জাতীয় সংসদের আসন সীমানা পুনর্র্নিধারণের অংশ হিসেবে এমন সিদ্ধান্ত এসেছে। বাগেরহাট-২ ও বাগেরহাট-৩ আসনের সীমানা নতুন করে নির্ধারণের সম্ভাবনার কথা জানানো হয়। নতুন বিন্যাসে বাগেরহাট-১ (চিতলমারী, ফকিরহাট, মোল্লাহাট), বাগেরহাট-২ (বাগেরহাট সদর, কচুয়া ও রামপাল) এবং বাগেরহাট-৩ (মোংলা, মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা)।
২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, বাগেরহাট জেলার আয়তন ৩,৯৫৯.১১ বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যা প্রায় ১৬ লাখ ১৩ হাজার। জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক বিস্তৃতি বিবেচনায় এই জেলায় এখনও চারটি আসন রাখার যোগ্য বলে মনে করছেন স্থাণীয় আপামর সাধারণসহ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।