নিজস্ব প্রতিবেদক: মণিরামপুর উপজেলার ১২ নম্বর শ্যামকুড় ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ঠাকুরপাড়া থেকে বুজতলা বাজার পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার দৈর্ঘ একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে পাকা হয়নি। বর্ষা এলেই কাদামাটিতে ভরে যায় পুরো রাস্তাটি। সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা আর বড় বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি রূপ নেয় মৃত্যু ফাঁদে।
এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করেন স্কুল-মাদরাসার ছাত্রছাত্রী, কৃষক, দিনমজুর, অসুস্থ রোগী, এমনকি গর্ভবতী নারীরাও। শ্যামকুড় বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শ্যামকুড় মাদানীয়া নূরানী ও এবতেদায়ী মাদরাসা,শ্যামকুড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শ্যামকুড় ইউসুফিয়া এতিমখানাসহ চার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ হাজার ৫শ-২ হাজার শিক্ষার্থী ঝুঁকি নিয়ে এ পথেই যাতায়াত করতে বাধ্য হয়।
এই রাস্তাটির গুরুত্ব শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, এটি এলাকার কৃষিজ অর্থনীতির প্রধান চলাচলপথ। এখানকার চাষিরা কৃষিপণ্য সরবরাহ করার জন্য বুজতলা, চিনাটোলা বাজার কিংবা মণিরামপুর বাজারে পৌঁছাতে এই রাস্তাই ব্যবহার করেন। অথচ বছরের একটি বড় সময় সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী থাকায় পণ্য পরিবহণ ব্যাহত হয়, ক্ষতির মুখে পড়েন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের কারণে এই রাস্তার উন্নয়ন থমকে আছে। এলাকাবাসীর প্রায় ৯৫ শতাংশ সরকার পক্ষের না হাওয়ায় দেড় যুগে তাদের উন্নয়ন প্রাপ্যতা পাইনি বলে দাবি করেছেন অনেকেই। নির্বাচনের সময় কেবল আশ্বাস মেলে, কিন্তু নির্বাচনের পর আর কেউ ফিরেও তাকায় না।
প্রবীণ শিক্ষক দিনেশ কুমার চট্রোপাধ্যায় বলেন, আমাদের সন্তানরা প্রতিদিন স্কুলে যেতে গিয়ে কাদা-মাটিতে পড়ে যায়, রোগীকে নিয়ে বের হলে ভ্যানও চলতে চায় না এই কষ্ট কেবল আমাদেরই সইতে হয়। আমরা কি মানুষ নই?” অথচ এ ৪ কিলোমিটার রাস্তাটি পাকা করলেই একসঙ্গে উপকৃত হবে অন্তত ৮ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। সাবেক ইউপি সদস্য ফজুল রহমান মোল্ল্যা বলেন, আমি উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল গফুর সাহেবের সাথে বলেছি। তিনি জানিয়েছেন, এখন অর্থ বরাদ্দ নেই, অর্থ বরাদ্দ আসলেই কাজ হবে।’
এলাকাবাসী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সড়ক ও জনপথ বিভাগের সুদৃষ্টি কামনা করছে।