নিজস্ব প্রতিবেদক : টানা বৃষ্টিপাতে যশোরের চৌগাছা উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের ৪ হাজার বিঘার বেশি কৃষি জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন না থাকায় এই জলাবদ্ধতা বলে কৃষকরা দাবি করেছেন। জলাবদ্ধতার কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এবার ক্ষতির পরিমাণ ৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে ভুক্তভোগীরা ধারণা করছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নারায়নপুর ইউনিয়নের চাদপাড়া, গোয়াতুলি, বড় খানপুর, কেসমত খানপুর, বাদেখানপুর, নারণপুর, বন্দলীতলা, বাটিকামকলি গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে এই সোনাবেলে ও ফাসতলা মাঠ অবস্থিত। পুরো মাঠ জুড়ে এখনো বৃষ্টির পানি থৈ থৈ করছে। জলাবদ্ধতার কারণে ধান, কলা, পাট, ড্রাগন ও পেয়ারা বাগানসহ বিভিন্ন ধরনের মৌসুমি সবজি নষ্ট হয়ে গেছে।
ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, বর্ষা মৌসুম আসলেই এই মাঠে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বিগত ৩০ বছর ধরে কৃষকরা জলাবদ্ধতার যন্ত্রণায় ভুগছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মফিজুল ইসলাম জানান, এখানে আমরা ধান, ভুট্টা, পাটের চাষ করি। কিন্তু ফসল তোলার ঠিক আগ মুহূর্তে প্রতি বছরই পানিতে সব তলিয়ে যায়। এভাবে বছরের পর বছর আমাদের চাষাবাদ হুমকির মুখে পড়েছে।
কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, মাঠে পানি না থাকলে আমরা বছরে তিন থেকে চার বার ফসল ঘরে তুলতে পারতাম। কিন্তু এখন এই জমিগুলো একফসলি জমিতে পরিণত হয়েছে। এতে শুধু কৃষকদেরই ক্ষতি হচ্ছে না, বরং এই অঞ্চলের সামগ্রিক কৃষিখাতেও ব্যাপক প্রভাব পড়ছে।
স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য ভুক্তভোগী কৃষক তরিকুল ইসলাম ডাবলু সম্প্রতি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও চৌগাছা উপজেলা পরিষদে লিখিত আবেদন করেছেন। তিনি জানান, প্রতি বছর জমিগুলো পানিতে তলিয়ে গেলেও স্থানীয় প্রশাসন কোনো উদ্যোগ নেয়নি। অথচ মাত্র আধা কিলোমিটারের একটি ড্রেন নির্মাণ করে এই পানি চৌগাছা কপোতাক্ষ নদে ফেলতে পারলে কৃষকদের এই কষ্ট লাঘব হত।
তরিকুল ইসলাম ডাবলু আরও জানান, ৩০ বছর আগে একজন ইউপড চেয়ারম্যান ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও অজ্ঞাত কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে আর কেউ তাদের কথা ভাবেনি। দ্রুত একটি ড্রেন নির্মাণ করে ৪ হাজার বিঘা ফসলি জমির পানি স্থায়ীভাবে নিষ্কাশনের জন্য তিনি উপজেলা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি করেছেন।
চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হোসাইন জানান, এ বছর অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে নারায়নপুর ইউনিয়নে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এই ইউনিয়নের ১ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান হয়। এ বছর প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে ধান রোপণ হয়েছে এবং ৫০০ হেক্টর জমি এখনও জলাবদ্ধ আছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে।
চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা ইসলাম জানান, স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য কৃষকদের লিখিত আবেদন পেয়েছি। তাদের সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।