Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

অভয়নগরে ২৫ গ্রাম প্লাবিত, বাড়িঘর ছেড়ে স্কুলে আশ্রয় নিয়েছে অসংখ্য পরিবার

এখন সময়: রবিবার, ৩১ আগস্ট , ২০২৫, ০৬:২১:৪৭ পিএম

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের দুঃখখ্যাত ভবদহ অঞ্চলে আবারও ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাতে অভয়নগর উপজেলার অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও মাছের ঘের। বসতবাড়ির উঠানে কোথাও হাঁটু পানি, কোথাও কোমরসমান। চরম দুর্ভোগে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ। অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে স্থানীয় স্কুল-মাদ্রাসায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে- কোটা, বাগদাহ, আন্ধা, চলিশিয়া, বলারাবাদ, বেতভিটা, সরখোলাসহ ২৫ গ্রামের হাজার হাজার বাড়িঘর পানিতে নিমজ্জিত। গবাদি পশু- গরু ও ছাগলগুলোকে উঁচু সড়কে বেঁধে রাখা হয়েছে। বসবাস অনুপযোগী ঘরবাড়ি ছেড়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছেন পানিবন্দি পরিবারগুলো।
ডুমুরতলা ও বেতভিটা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, অনেক পরিবার রাস্তার পাশে পলিথিন দিয়ে অস্থায়ী ঘর বানিয়ে বসবাস করছে। এদিকে টেকারঘাট, বয়ারঘাট ও ভাটাডাঙ্গি এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে অবৈধ নেট-পাটা অপসারণের কাজ চলছে।
তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, এখনো পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসন কিংবা কোনো বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে ত্রাণ বা সহায়তা পৌঁছায়নি। জরুরি ভিত্তিতে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং চিকিৎসা সহায়তা না পেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
কোটা সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা ও কোটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, পাঁচটি কক্ষে মোট ২০টি পরিবারের শতাধিক মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছেন। অনেক বাড়িতে রান্না করার মতো শুকনো জায়গাও নেই। ফলে অনেকেই খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আমেনা বেগম জানান, “তিন দিন আগে বাড়ি ছেড়ে স্কুলে এসেছি। কখন বাড়ি ফিরতে পারব, সেটাও জানি না। ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি।”
একই গ্রামের মৎস্যচাষি কাওসার গাজী বলেন, “আমার ৭ বিঘার ঘেরসহ আশপাশের সব ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। কোটি কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। এখন আমাদের আর কোনো উপায় নেই, পথে বসা ছাড়া।”
যশোর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জি জানান, “অতিবৃষ্টির কারণে ভবদহ অঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে দ্রুত পানি অপসারণে আমডাঙ্গা খাল ও ভবদহের ২১ ভেন্ট স্লুইস গেট দিয়ে পানি নিঃসরণ করা হচ্ছে। আশা করছি, গত বছরের মতো দীর্ঘস্থায়ী ভোগান্তি এবার হবে না।”

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)