খাজুরা (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের খাজুরার সেচ পাম্পের ৫টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটার চুরি হয়েছে। এতে জমিতে রোপণ করা ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। এরই মধ্যে জমিতে ফাটল দেখা দিয়েছে। সময়মতো পানি না পেলে মারা যাবে অন্তত ৩০০ বিঘা ধান।
গত ২৬ আগস্ট রাতে স্থানীয় বন্দবিলা ইউনিয়নের নিমটা মাঠে এ ঘটনা ঘটে। তবে এখনো পর্যন্ত একটি ট্রান্সমিটারও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
বিএডিসি বলছে, সেচ মালিককে নিজ অর্থে ট্রান্সমিটার কিনতে হবে। এতে বিপাকে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত সেচ মালিক ও কৃষকরা।
এদিকে, খবর পেয়ে অসহায় কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক শামীম আকতার। শুক্রবার সকালে সরেজমিনে কৃষকদের দুর্দশার কথা শোনের এবং বিষয়টি মুঠোফোনে ঊর্ধ্বতন মহলকে জানান তিনি। পাশাপাশি আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেন সাবেক ছাত্রনেতা শামীম। এ সময় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদুর রহমান, বাঘারপাড়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফরিদুজ্জামান, ইউপি সদস্য মফিজুর রহমান ও শিউলি খাতুনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, গত ২৬ আগস্ট দিবাগত রাতে বিএডিসির আওতায় পরিচালিত সেচ পাম্পের ৫টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটার চুরি হয়েছে। এর মধ্যে ৫ কেভিএ ধারণক্ষমতা সম্পন্ন প্রতিটি ট্রান্সমিটারের দাম ৪৫ হাজার টাকা ও ১০ কেভিএ-এর দাম ৭৫-৭৭ হাজার টাকা।
মাঠে ঘুরে দেখা গেছে, যতদূর চোখ পড়ে শুধুই ধানের আবাদ। মাঠের নিচের ধান খেতে হালকা কাদাপানি থাকলেও ওপরের খেতের প্রায়ই শুকিয়ে মাটি ফেটে গেছে। কিছুদিন পরেই ধানের শীষ বের হবে। এখন সময়মতো জমিতে সেচ দিতে না পারায় চিন্তিত কৃষকরা।
অচিন্ত ঘোষ নামে এক কৃষক বলেন, দুই বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। কয়েক দফায় জমিতে পানি দিয়েছি। হঠাৎ করে সেচ পাম্পের ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ায় জমিতে পানি দেওয়া নিয়ে চিন্তার মধ্যে আছি।
ক্ষেতের পাশে মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকা কৃষক সুমন বিশ্বাস বলেন, আজকালের মধ্যে আমার জমিতে পানি দিতে না পারলে বেড়ে ওঠা ধান মরে যাবে।
কৃষক মিহির ঘোষ বলেন, আমনের ধান আমরা সারাবছর রেখে চাল বানিয়ে খাই। এবারের ধান মরে গেলে আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে।
পল্লী বিদ্যুৎ খাজুরা সাব-জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) মাসুম বিল্লাহ জানান, বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। এখনো পর্যন্ত কোনো মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি। গ্রাহক ট্রান্সমিটার কিনতে টাকা জমা দিলে দ্রুত সময়ের মধ্যে সংযোগ চালু করে দেয়া হবে।
বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান বলেন, ট্রান্সমিটার চোরদের ধরতে আমরা জোরালোভাবে অভিযান চালাচ্ছি। খুব দ্রুতই চোর চক্রটি গ্রেপ্তার করা হবে।
যশোর বিএডিসির (সেচ) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল রশিদ বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। নতুন ট্রান্সমিটারের জন্য আমাদের কোনো সরকারি সহায়তা নেই। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক ও কৃষকদের নিজ অর্থে ট্রান্সমিটার কিনতে হবে