নিজস্ব প্রতিবেদক, মণিরামপুর: মাত্র ৫ হাজার টাকার জন্য একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে ভ্যান চালক মিন্টু হোসেন (৩৮) নামে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় শুক্রবার থানায় মামলা হলে পুলিশ দুইজনকে আটক করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে মণিরামপুর পৌরশহরের হাকোবা গ্রামে।
স্থানীয়রা জানান, বছর কয়েক আগে হাকোবা গ্রামের আব্দুল আজিজের বড় ছেলে মিন্টু হোসেনের ভ্যান চুরি হয়ে যায়। সে সময় স্থানীয় মোহাম্মদ আজিম হোসেন ভ্যান কিনতে মিন্টুকে ৫ হাজার টাকা দেন। সম্প্রতি ওই টাকা ফিরিয়ে নিতে মণিরামপুর পৌর বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক সাব্বির হোসেনসহ কতিপয় ব্যক্তিরা মিন্টু পরিবারকে চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। গত বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে ৫ হাজার টাকা চাইতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বিএনপি নেতা সাব্বিরের নেতৃত্বে মিন্টুসহ তার পরিবারের ৪ সদস্যকে ধারালো অস্ত্র এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয় বলে অভিযোগ উঠে। এ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় মিন্টু হোসেন, সেন্টু হোসেন, পিকুল হোসেন ও তাদের মা আমেনা বেগমকে উদ্ধার করে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে মিন্টু, সেন্টু ও পিকুলকে নেয়া হয় যশোর মেডিকেল হাসপাতালে। তিনজনের মধ্যে মিন্টু ও সেন্টুর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ওই রাতেই নেয়া হয় ঢাকাতে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মিন্টু হোসেন মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের মা আমেনা বেগম বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২জনকে আসামি করে মনিরামপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে হাকোবা গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে সাব্বির হোসেন ওরফে ছোট সাব্বির (২০) ও একই গ্রামের বারিক সরদারের ছেলে ফারুক হোসেন (৪৫) কে আটক করে।
আহত পিকুল হোসেন জানান, ৫ হাজার টাকার জন্য বিএনপি নেতা সাব্বির ওরফে বড় সাব্বিরের নেতৃত্বে আমাদের পরিবারের উপর এ হামলা চালানো হয়েছে। এতে বড় ভাই মিন্টু হোসেন ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। অপর ভাই সেন্টুর অবস্থাও ভালো না।
মণিরামপুর থানা অফিসার ইনচার্জ বাবলুর রহমান খান বলেন, পুলিশ অভিযান চালিয়ে সাব্বির ও ফারুক নামে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যান্যদের আটকের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে শনিবার সন্ধ্যায় মিন্টু হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সকলকে আটক পূর্বক ন্যায় বিচারের দাবিতে মণিরামপুর সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয় মাঠে এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছে।