নিজস্ব প্রতিবেদক : পিঠা পুলি তৈরি এবং খাওয়া আবহমান বাংলা সংস্কৃতির চিরায়ত ঐতিহ্য। বাংলাদেশি রমনীদের হাতে হরেক রকম বাহারী পিঠা তৈরি সংস্কৃতি দীর্ঘদিনের। আর এই ঐতিহ্যকে ধারণ করে নারী চিকিৎসকরা যখন পিঠা উৎসবে মিলিত হন তখন তা হয়ে ওঠে আরও মুখরোচক। এরকই নান্দনিক শীতের পিঠা উৎসব হয়ে গেল যশোর পুলেরহাটস্থ ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বুধবার সকালে হাসপাতালের ৭ম তলায় জেনারেল সার্জারি বিভাগ এই উৎসবের আয়োজন করে। উৎসবে বিভাগের দেশি-বিদেশী নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকরা নানা রকম ভিন্ন স্বাদের পিঠা পুলি তৈরি করে নিয়ে আসেন। উৎসবে অংশ নিয়ে সিনিয়র চিকিৎসকরা পিঠার স্বাদ গ্রহন করেন। ইনডোর আয়োজন হলেও আমেজ ছিল ভরপুর। উৎসবে শীতের ঐতিহ্যবাহি নানা রকম পিঠা যেমন, ভাপা পুলি, নারিকেল পুলি, পায়েস, পাটি সাপটা, পুডিং, চিতই পিঠা, পাকান পিঠা, দুধ খাজুরা, রস চিতই, পাকুড়াসহ হরেক রকম পিঠা পুলি। বাদ যায়নি ছিটরুটির সাথে মুরগির মাংসের ঝোল আয়োজন। আয়োজন ছিল নারীদের প্রিয় টক ধালের মিশেলে ফুসকা খাওয়ার। শীতে উষ্ণ চা কার না ভাল লাগে। সেটাও ছিল এই উৎসবে। আয়োজনে সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এসএম আবু আহসান। সারা দেশ প্রচন্ড শীতে জবুথবু। যশোরে তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে কম যাচ্ছে। প্রচন্ড শীতের মাঝে সবাইকে নিয়ে ভাল কিছু করার ইচ্ছা থেকেই আয়োজন বলে জানালেন তিনি। হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো: ইমদাদুল হক উৎসবে অংশ নিয়ে পিঠা ও খাবার খান। তিনি বলেন, আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি করেছে পিঠা উৎসব। এতে কাজের উদ্যাম ফিরে পাবে চিকিৎসকরা। উৎসবে অংশ নিয়ে অন্যান্য চিকিৎসকরা তাদের ভাললাগার কথা জানান। বলেন, যে রাধে সে চুলও বাধে। আমাদের নারী চিকিৎসকরা সেই মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে স্বাদের পিঠা তৈরি করে এনে। মজাদার সব শীতকালীন রসের পিঠা পায়েস তৈরি নিজেরাও সুখানুভূতি প্রকাশ করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। উৎসবে বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসক, ইন্টার্ন চিকিৎসক, নার্স, ম্যানেজার, সুপারভাইজারসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।