নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন ও প্রয়োজনীয় গেজেট প্রকাশের দাবিতে অন্তর্বতীকালীন সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ দাবিতে যশোর জেলার পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উদ্যোগে জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে মঙ্গলবার কর্মকর্তা, কর্মচারীরা কার্যালয় চত্বরে বিক্ষোভ করেছেন। সমগ্র সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অবিলম্বে জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় গেজেট প্রকাশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় এবং ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে যশোর জেলার পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মচারীরা দেশের অন্যান্য সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেন। দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর ও সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহন না করা হলে ঘোষিত কর্মসূচি ভবিষ্যতে আরো সুসংগঠিত ও বিস্তৃত পরিসরে বাস্তবায়িত হতে পারে বলে বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে ঘোষণা দেয়া হয়। ন্যায্য আন্দোলনে তারা দেশের সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেশাজীবী সংগঠন ও সচেতন নাগরিক সমাজের সার্বিক সহযোগিতা এবং সংহতি কামনা করা হয়। বিক্ষোভকারীরা বলেন- দেশের সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি যুগোপযোগী, ন্যায্য ও বৈষম্যহীন জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে এখনো পর্যন্ত প্রত্যাশিত অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়। জাতীয় পে-স্কেল কোনো নিদিষ্ট শ্রেণী, ক্যাডার বা একটি বিভাগের একক দাবি নয়, বরং একটি সমগ্র সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের ন্যায্য ও সাংবিধানিক অধিকার। সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বস্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসলেও দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান বেতন কাঠামো জীবন যাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি ও মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এর ফলে কর্মচারীগণের জীবনমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক দক্ষতা ও কর্মস্পৃহা নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীগণের যৌক্তিক দাবীর প্রেক্ষিতে সরকার ইতোমধ্যে একটি কমিশন গঠন করেছেন এবং কমিশণের সুপারিশ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট উপস্থাপিত হয়েছে। তবে সুপারিশ প্রণয়নের পরও জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন এবং সে-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় গেজেট প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতা দেশের প্রায় ২২ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও হতাশা সৃষ্টি করেছে। যশোর জেলার পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দৃড়ভাবে মনে করেন, সময়োপযোগী ও বাস্তবভিক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্যে দ্রুত জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হলে তা রাষ্ট্রীয় প্রশাসনকে আরও গতিশীল, দক্ষ ও কর্মচারী বান্ধব করতে সহায়ক হবে।