নিজস্ব প্রতিবেদক, মহেশপুর : হারিয়ে যাওয়া স্বাক্ষর করা চারটি ব্লাঙ্ক চেক (অলিখিত চেক) উদ্ধার করে ফেরত দেয়ার পরিবর্তে তা দিয়ে মোটা অংকের টাকা দাবি করে ব্ল্যাকমেইল এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ঝিনাইদহের বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছে নুর মোহাম্মদ নামের এক ব্যক্তি। যার মামলা নম্বর-৬৬২/২৪।
মামলার অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, ঝিনাইদহের মহেশথপুর উপজেলার আলামপুর কুলবাগান গ্রামের মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে নুর মোহাম্মদ গত ১৯ জুলাই ২০২৩ তারিখে কোটচাঁদপুর যাওয়ার পথে অসতর্কতাবশত তার স্বাক্ষর করা ৪টি অলিখিত ব্লাংক চেক হারিয়ে যায়। যার মধ্যে দুটি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড (কোটচাঁদপুর শাখা) এবং দুটি পূবালী ব্যাংক লিমিটেড (কোটচাঁদপুর উপশাখা) এর চেক। চেকগুলো হারিয়ে যাওয়ার পর তিনি কোটচাঁদপুর থানায় ২০ জুলাই ২০২৩ তারিখে আলাদা দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর-৯৯৪ ও ৯৯৭) করেন।
আদালতে দায়ের করা মামলার অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন সিরাজগঞ্জের আশুতোষ দাস (৪৭), গাইবান্ধার মোঃ নজরুল ইসলাম (৭০) এবং জামালপুরের সামসুল হক ব্যাপারী (৬০)।
ভুক্তভোগী নুর মোহাম্মদ জানান, ৪ আগস্ট ২০২৪ তারিখে তিনি জানতে পারেন যে তার হারানো চেকগুলো অভিযুক্তদের হেফাজতে রয়েছে। তিনি মহেশপুর বাজারে তাদের কাছে চেকগুলো ফেরত চাইলে তারা তা দিতে অস্বীকার করেন। উল্টো চেকগুলো ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে প্রান নাশের হুমকিও দেয়া হয়।
তিনি আরো জানান, তার স্বাক্ষর করা এই চেকগুলো ব্যবহার করে সিরাজগঞ্জের আশুতোষ দাস, গাইবান্ধার নজরুল ইসলাম এবং জামালপুরের সামসুল হক ব্যাপারী। ভুয়া পাওনা দার সাজিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি করতে পারেন। এই অবস্থায় চেকগুলো উদ্ধারের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৮ ধারা মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতের নিকট তল্লাশি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছেন।
নুর মোহাম্মদ জানান, আমার অসতর্কতায় হারিয়ে যাওয়া চেকগুলো ফিরে পাওয়ার বদলে এখন আমাকে সপরিবারে প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে। আমি আদালতের কাছে এই জালিয়াতি চক্রের হাত থেকে রক্ষা এবং আমার হারিয়ে যাওয়া চেকগুলো উদ্ধারের আবেদন জানিয়েছি। বর্তমানে বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন রয়েছে বলেও জানান নুর মোহাম্মদ।