নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর শহরের বাবু বাজার সংলগ্ন যৌন পল্লীর কর্মী আখি মনি মুক্তাকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন আসাদুজামান (৪০) নামে এক যুবক। কিছু দিন সংসারের পর অভাবের কারনে ফের পতিতা পল্লীতে ফিরে যান মুক্তা। এটা মেনে নিতে পারেননি আসাদুজ্জামান। এই নিয়ে কথা কাটাকাটির সময় নিজের গলায় ব্লেড চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন আসাদুজ্জামান। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় পতিতা পল্লীতে এ ঘটনা ঘটে। আহত আসাদুজ্জামান যশোর সদরের ফতেপুর ইউনিয়নের ঝুমঝুমপুর ঈদগাহ এলাকার বাসিন্দা। তিনি যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় রেজাউল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি বলেছেন, স্ত্রী আখি মনি মুক্তা নিষিদ্ধ পল্লীর মেয়ে। বাবু বাজারের ওই নিষিদ্ধ পল্লীতে যাতায়াত করতেন আসাদুজ্জামান। এক পর্যায়ে ভালোবেসে আসাদুজ্জামান তাকে বিয়ে করেন মাস দুইয়েক আগে। ঝুমঝুমপুরের নিজ বাড়িতে থাকতেন আসাদুজ্জামান ও আখি মনি মুক্তা। আসাদুজ্জামান ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু পরে সে বেকার হয়ে যায়। সংসারে অভাব অনটন নিয়ে উভয়ের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকতো।
গত ২১ ফেব্রুয়ারি এই নিয়ে বিরোধে নিজ বাড়িতে আসাদুজ্জামান গলাই ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। আশেপাশের লোকজন টের পেয়ে তাকে উদ্ধার করে। অখি মনি ফের তার পল্লীতে ফিরে যান। সোমবার স্ত্রীকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে যান আসাদুজ্জামান। ইফতারির আগে একজন খদ্দেরের সাথে কথা বলতে দেখেন আসাদুজ্জামান। সে সময় মুক্তাকে বাড়িতে ফিরে যেতে বলেন তিনি। কিন্তু তিনি রাজি না হওয়ায় কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে আসাদুজ্জামান ওই পল্লীর মধ্যেই একটি ব্লেড দিয়ে নিজের গলা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
এসময় গলায় গামছা বেঁধে মুক্তা তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. বিচিত্র মল্লিক জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে
আসাদুজ্জামানের অবস্থা গুরুতর। পুরুষ সার্জারী ওয়ার্ডে তার চিকিৎসাসেবা চলছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় রেফার্ড করা হতে পারে।
যশোর সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক বসির আহমেদ জানান, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে গোলযোগের জেরে আসাদুজ্জামান আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে শুনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।