শেখ কাজিম উদ্দিন, বেনাপোল : বেনাপোল স্থলবন্দরে কাস্টমসের কার্গো শাখায় কথিত ভুল ফাইল এন্ট্রিকে কেন্দ্র করে সিএন্ডএফ এজেন্টদের সঙ্গে কাস্টমস কর্মকর্তার উত্তেজনা, বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার জেরে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে কিছু সময়ের জন্য বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে কার্গো ইয়ার্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে কার্গো শাখায় আমদানিকৃত পণ্যের ফাইল এন্ট্রির সময় ট্রাক নম্বর, প্রতিষ্ঠানের নাম বা পণ্যের বিবরণে ইচ্ছাকৃত ভুল সংযোজন করা হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে বলা হচ্ছে-গাড়ির নম্বরে ‘ডব্লিউবি’ থাকলেও তা ‘ডব্লিউসি’ লেখা বা ‘রহিম ট্রেডার্স’-এর পরিবর্তে ‘রহিম এন্টারপ্রাইজ’ এন্ট্রি দেয়া।
সিএন্ডএফ এজেন্টদের দাবি, ম্যানিফেস্ট অনুযায়ী সঠিক তথ্য জমা দেয়ার পরও এসব ভুল করা হয়। পরে পণ্য ছাড়ের প্রক্রিয়ায় অসঙ্গতি ধরা পড়লে সংশোধনের জন্য কার্গো শাখায় গেলে নানা অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়।
জানা যায়, বেনাপোল কাস্টমস ক্লিয়ারিং এন্ড ফরওয়ার্ডিং (সিএন্ডএফ) এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আলহাজ্ব শামসুর রহমান বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য কার্গো শাখার কাস্টমস অফিসে কর্মরত সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মোঃ শাহিন আলীর সাথে কথা বলেন। এ সময় শাহিন আলীসহ সেখানে কর্মরত দুইজন সিপাহী দায়িত্ব পালন করছিলেন। তারা সিএন্ডএফ এজেন্ট সভাপতির সাথে খুবই দুর্ব্যবহার করেন।
অভিযোগ রয়েছে, তাকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা হয়নি-এমন অভিযোগ তুলে তিনি অফিস কক্ষ ত্যাগ করেন।
পরবর্তীতে তার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী নজরুলসহ আরও কয়েকজন বিষয়টি জানতে পেরে কাস্টমস অফিস কক্ষে গিয়ে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শাহিন আলীর সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর কাস্টমস কর্মকর্তারা কাজ বন্ধ রেখে হাউসে চলে যান। এতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে। ঘটনার পর কার্গো শাখার সামনে অবস্থান নিয়ে সিএন্ডএফ কর্মচারীরা হয়রানি ও জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলে স্থায়ী সমাধান দাবি করেন। তবে কিছু সময় পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং পরিবেশ স্বাভাবিক হয়।
কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার বিষয়টি অবগত হয়ে সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শামসুর রহমানের সঙ্গে কথা বলেন। বুধবার উভয়পক্ষকে নিয়ে বৈঠকের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বেনাপোলের সিএন্ডএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠান এন ইসলামের প্রতিনিধি ও বর্ডারম্যান রেজাউল করিম বলেন, “সঠিক তথ্য দেয়ার পরও ভুল এন্ট্রি করা হচ্ছে। সংশোধনের জন্য গেলে হয়রানি ও অর্থ দাবির মুখে পড়তে হয়।”
মঙ্গলবার এসব অভিযোগের প্রতিবাদে সিএন্ডএফ মালিক পক্ষ ও কর্মচারী ইউনিয়নের সদস্যরা কার্গো শাখায় গেলে কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) শাহিন আলীর সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শাহিন আলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সাময়িকভাবে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বন্দরে পণ্যজটের আশঙ্কা দেখা দেয়। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা দ্রুত সমস্যার সমাধান করে বন্দর কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।