মিরাজুল কবীর টিটো : পোড়া তেলে যাতে বারবার ইফতারি তৈরি বন্ধ ও ভেজাল খাদ্য নিয়ন্ত্রণে যৌথ অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই সাথে এলপি গ্যাস ও গরুর মাংসের দাম কমাতেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ যশোর ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মঙ্গলবার সকালে কালেক্টরেট সভাকক্ষ অমিত্রাক্ষরে অনুষ্ঠিত জেলা নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইরুফা সুলতানা বলেন- হোটেল ও রেস্টুরেন্টে একই পোড়া তেলে বারবার ইফতারি তৈরি করা হয়। যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এটা বন্ধে অভিযান চালানো হবে। এর আগে মাইকিং করে সতর্ক করা হবে। প্রতিদিনই কৃষি বিপণন কর্মকর্তা বাজারের মূল্য তালিকা দেন। সেই তালিকা অনুযায়ী ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে বাজার মনিটরিং করতে হবে। এলপি গ্যাস ও গরুর মাংসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ক্ষেত্রেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন বলেন- যেসব হোটেলে বারবার পোড়া তেলে ইফতারি তৈরি করে তাদের আগে মাইকিং করে সতর্ক করতে হবে। পরে করতে হবে জরিমানা। সারা বছর পৌরসভা জোরালোভাবে উচ্ছেদ অভিযান করে না। রোজার মধ্যে উচ্ছেদ করা ঠিক হয়নি।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান বলেন- এখন স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করে গরু-ছাগল জবাই করে বিক্রি করা হচ্ছে। আমরা কি ধরনের মাংস খাচ্ছি সেটা জানি না। পৌরসভার কোনো কসাইখানা না থাকায় পশু জবাইয়ের বিষয়টি মনিটরিং করা হয় না। যদি মনিটরিং করা হতো তাহলে পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে কসাইরা সতর্ক হতো।
জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার আব্দুর রহমান বলেন- রোজার আগে ৩০টি হোটেল, রেস্টুরেন্টের বাবুর্চিদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। কালো তেলে ইফতারি তৈরি করলে স্বাস্থ্যের কি ক্ষতি হয় সেটা প্যারামিটার দিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। তাই পোড়া তেলে ইফতারির খাদ্য ভাজার বিষয়ে অভিযান চালানো জরুরী হয়ে পড়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন পুলিশ পরিদর্শক শহীদ তিতুমীর, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেফাউর রহমান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ইকরামুল কবীর, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক জাহিদ হাসান, চেম্বার অব কমার্সের যুগ্ম সম্পাদক এজাজ উদ্দিন টিপু প্রমুখ।