নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরে শুক্রবার দুপুরে ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। হঠাৎ এই কম্পনে পুরো শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই মসজিদ ও ভবন থেকে বের হয়ে খোলা স্থানে আশ্রয় নেন। কেশবপুরে দোতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে দুই শিশু আহত হয়েছে। এছাড়া এ অঞ্চলে ভূমিকম্প হয়েছে বলে জানান প্রতিনিধিরা।
বিমান বাহিনীর আবহাওয়া দপ্তরের জানিয়েছে, শুক্রবার দুপুর ১টা ৫২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডে যশোরে ৫.৪ মাত্রার মাঝারি থেকে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি। ভূমিকম্পে দড়াটানা বড় বাজারে এইচবি ৭ তলা টাওয়ার হেলে পড়ে পূর্ব পাশের ভবনের উপর। আতঙ্কে বিভিন্ন এলাকার মানুষ হাসপাতাল, ক্লিনিকের রোগীরা বাইরে বেরিয়ে আসে।
সেবিকা নাসরিন সুলতানা জানান- জুম্মার নামাজের সময় হঠাৎ করে ভবন নড়ে উঠলে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। ওয়ার্ড থেকে সবাই বাইরে বের হয়ে আছে। বাইরে বেরিয়ে জানতে পারলাম ভূমিকম্প হয়েছে। কুইন্স হাসপাতালের গার্ড শরিয়ত উল্লাহ জানান-ভূমিকম্পে কুইন্স হাসপাতালের ভবন ব্যাপক নড়ে ওঠে। এতে আতঙ্কে সবাই বাইরে বের হয়ে আসে। মিলন নামে এক ব্যক্তি জানান, মসজিদের নামাজ শেষে মোনাজাত করার সময় ভূমিকম্পে মসজিদ কেঁপে ওঠে। এতে সবার মাঝে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। জিয়াউর রহমান নামে উপশহর এফ ব্লক বাসিন্দা, ট্রাফিক সদস্য আশরাফুল আলম জানান- তিনি এর আগে এধরণের ভূমিকম্প দেখেনি।
যশোর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক জাহাঙ্গীর আহম্মেদ জানান, ভূমিকম্পে যশোরে বড় ধরনের তেমন কোন ঘটনা ঘটেনি। বড় বাজারের ভেতরে এইচবি টাওয়ার হেলে পড়েছে।
পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মোরাদ আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বড় বাজারের ভেতরে এইচবি টাওয়ার হেলে পড়ার বিষয়টি জানেন না বলে জানান।
কেশবপুর প্রতিনিধি জানান-জুম্মা নামাজ আদায় শেষ না হতেই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। মসজিদে জুম্মার নামাজরত মুসল্লীসহ জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত হয়ে মসজিদের মুসল্লীরা দোতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে। এসময় দুই শিশু আহত হয়েছে।
শুক্রবার দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে জুম্মার নামাজরত অবস্থায় কেশবপুর উপজেলাসহ আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। হঠাৎ কম্পনে অনেকেই ঘর-বাড়ি ও অফিস থেকে বাইরে বের হয়ে আসেন। এখন পর্যন্ত কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভাল্লুকঘর ওয়াডের সদস্য মোঃ ফারুক হোসেন জাকারিয়া বলেন-মসজিদে জুম্মার নামাজরত অবস্থায় ভালুকঘর ফাজিল সিনিয়র মাদ্রাসার প্রাঙ্গনে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের দোতলা থেকে আতঙ্কিত হয়ে দুই শিশু ভাল্লুকঘর গ্রামের খলিলুর রহমানের পুত্র সিয়াম (১২) ও শাহাজাহান আলীর পুত্র খলিলুর রহমান (১১) লাফিয়ে টিনের চালের উপর পড়ে আহত হয়েছে। এদিকে মঙ্গলকোট ইউনিয়নের বংশির বটতলা এলাকায় জনৈক ব্যক্তির বসত বাড়ির দেয়াল ধ্বসে পড়েছে।
এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেখসোনা খাতুন দৈনিক স্পন্দনকে বলেন- ভূমিকম্প অনুভূত হয়ে এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় সবাইকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি জানান- দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে কম্পনে আতঙ্কিত মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। প্রাথমিকভাবে বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
উৎপত্তিস্থল আশাশুনি উপজেলার পাশে পাইকগাছা উপজেলা অবস্থিত। ভূমিকম্পে পাইকগাছা পৌর বাজারের যশোর লিবার্টি গ্যালারী রত্না সু-স্টোর, স্বর্ণপট্টী সংলগ্ন সাবেক সরদার ডিপো, সরদার মিজানের বিল্ডিংসহ বিভিন্ন বিল্ডিং-এ ফাঁটল দেখা গেছে। বিভিন্ন স্থানে মানুষজনের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে স্মরণকালের ঘটে যাওয়া সবচেয়ে তীব্র ভূমিকম্প। বেশিরভাগ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল দেশের বাইরে। এছাড়া দেশের ভিতরেও ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল সাধারণত সিলেট ও ঢাকা বিভাগ কেন্দ্রিক হয়ে থাকে। উপকূলীয় জনপদের অধিবাসীদের জন্য জানান দিচ্ছে ভয়ঙ্কর এক বার্তা।