নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের অসাম্প্রদায়িক চেতনার বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব মাস্টার নূর জালাল আর নেই। সোমবার দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে জেলার একটি বেসরকারি হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন তিনি। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। তিনি ৩ ছেলে নাতি নাতনি সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মঙ্গলবার বাদ জোহর জানাজা শেষে কারবালা কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক দীর্ঘদিন ন্যাপ (মোজাফ্ফর) এর কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও যশোর জেলা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি যশোর পৌরসভার ( পুরাতন কসবা) নির্বাচিত সদস্য ছিলেন এবং দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের এই অঞ্চলের বাম রাজনীতির একজন বলিষ্ঠ নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
মাস্টার নূর জালালের বড় ছেলে নূর আরাফাত সেতু জানান-তার বাবা মাস্টার নূর জালাল বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। সপ্তাহ আগে গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে একটি বেসরকারি হসপিটালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরলেও একদিন বাদে আবারো অসুস্থ হয় এবং পুনরায় তাকে হসপিটালে নেয়া হয়। সেখানে ২ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকের সকল চেষ্টা ব্যর্থ করে না ফেরার দেশেই পাড়ি জমান তিনি।
এদিকে তার মৃত্যু সংবাদ জানাজানি হলে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া । বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শহরের বিমান বন্দর সড়কস্থ তাঁর বাড়িতে ছুটে যান এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
তাঁর মৃত্যুর খবর শুনে তার বাসভবনে ছুটে যান বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম।
জানাজার পূর্বে জেলা ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাড এনামুল হক, পৌর নাগরিক আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব মাসুদুজ্জামান মিঠু ও মাস্টার নূর জালালের মেজ ছেলে নূর শাহদাত সূর্য সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।
জানাজা শেষে তাকে মসজিদ প্রাঙ্গণে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁর মরদেহে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। এর মধ্যে ছিল জাসদ, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট, ন্যাপ, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন পরিচালনা কমিটি।
জানাজায় অংশনেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলম, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান আব্দার, উপাধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ, জেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, সাবেক পৌর কাউন্সিল হাবিবুর রহমান চাকলাদার মনি, মোস্তাফিজুর রহমান মুস্তা, মোকসিমুল বারি অপু, জাতীয় পার্টির নেতা অ্যাড মাহাবুব আলম বাচ্চু, গ্রামের কাগজ সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন, এনজিও ব্যক্তিত্ব আজিজুল ইসলাম মনি, ব্যারিস্টার কাজী রিফাত রেজওয়ান সেতু , রাজনৈতিক নেতা অ্যাড হাজি আনিসুর রহমান মুকুল, অ্যাড. আবুল কাসেম, তসলিম উর রহমান প্রমুখ।
মাস্টার নূর জালাল তার জীবনের দীর্ঘ সময় মুসলিম একাডেমি স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন। তিনি শিক্ষক সমিতির যশোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। কমিউনিস্ট মতাদর্শে বিশ্বাসী এই নেতা ১৯৭১ সালের পূর্বে কৃষক সমিতির সঙ্গে গ্রামে সংগঠন গড়ে তোলেন এবং মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
শিক্ষকতা থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি ঠিকাদারি ব্যবসা শুরু করেন। এছাড়া তিনি ন্যাপ (মোজাফ্ফর) যশোর জেলা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দীর্ঘদিন পালন করেন। যশোর শহরের নাগরিক সমস্যার সমাধান ও উন্নয়নের জন্য তিনি পৌর নাগরিক আন্দোলন কমিটি গঠন করে অসংখ্য সফল আন্দোলন পরিচালনা করেন। এছাড়াও বিমানবন্দর সড়ক সার্বিক উন্নয়ন কমিটির সভাপতি ছিলেন তিনি। তিনি জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের যশোর জেলা কমিটির কোষাধ্যক্ষ শফিকুর জালাল নান্নুর বড় ভাই।
এদিকে মাস্টার নূর জালালের মৃত্যুতে জেলা জাসদের পক্ষ থেকে গভীর শোক এবং শোকশন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।