নিজস্ব প্রতিবেদক : দুই দিনেও কোনো ক্লু উদ্ধার হয়নি রিকশা চালক আলমগীর হোসেন (৫৩) হত্যার। তাকে কে বা কারা হত্যা করে তার রিকশা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে এই বিষয়ে কোনো তথ্য পাইনি পুলিশ। শুধু আলমগীর হোসেন নয়, ঘটনাস্থলে এই রকম আরো ঘটনা ঘটলেও কারা এই ঘটনার সাথে যুক্ত তার কোনো তথ্য পুলিশের কাছে নেই।
এদিকে আলমগীর হোসেন হত্যার ঘটনায় কোতয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী সাজেদা বেগম বাদি হয়ে গত সোমবার (১৬ মার্চ) রাতে অজ্ঞাত আসামি করে মামলাটি করেছেন। এর মামলায় পুলিশ কাউকে সন্দেহ পর্যন্ত করতে পারেনি।
পুলিশ বলছে,ঘটনাটি ক্লুলেস। বিষয়টি নানাভাবে তদন্ত করছে পুলিশ।
নিহতের স্ত্রী সাজেদা বেগম এজাহারে উল্লেখ করেছেন, তিনি তার স্বামীর দ্বিতীয় স্ত্রী। একমাত্র ছেলে আলিফ হোসেনকে (১৫) নিয়ে শহরতলীর ঝুমঝুমপুর বাবলাতলা এলাকার চঞ্চলের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। তার স্বামী রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। গত ১৫ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাবলাতলা থেকে রিকসা নিয়ে ভাড়ায় চালানোর জন্য বের হন। রাত পৌনে ৮টার দিকে যশোর-মণিরমাপুর সড়কের কানাইতলার অদূরে ভাটপাড়া গ্রামের প্রাইম ইটভাটার প্রবেশমুখের রাস্তায় তার রক্তাক্ত দেহ দেখতে পায় লোকজন। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সযোগে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু জরুরী বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা নীরিক্ষা করে তার স্বামী আলমগীর হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। সংবাদ পেয়ে তিনি হাসপাতালে যান এবং তার স্বামীর মরদেহ দেখতে পান। এই ঘটনায় তিনি থানায় মামলা করেছেন।
সাজেদা জানিয়েছেন,তার স্বামীর কোনো শত্রু ছিলো না। ছিনতাইকারী বা দুর্বৃত্তরা রিকশা ছিনিয়ে নেয়ার জন্য তার স্বামীর রিকশা ভাড়া করে ভাটপাড়ায় নিয়ে যায় এবং সুযোগ বুঝে পেছনে বসে মাথায় লোহা জাতীয় কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে তার রিকসা নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
তিনি বলেছেন,এই ঘটনার আরো দুইদিন আগে একই স্থানে আরো একজন রিকশা চালকের মাথায় আঘাত করে দুর্বৃত্তরা তার রিকশা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে বলে তিনি শুনেছেন। একই স্থানে তিন চারদিনের ব্যবধানে এই রকম ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয় না। তিনি বলেছেন,ঈদের সময় চালকরা রিকশা নিয়ে বের হবেন। কিন্তু দুর্বৃত্তরা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে থাকে। এই শহরে যারা এই ধরনের কাজের সাথে যুক্ত তাদের পরিচয় পুলিশকে শনাক্ত করতে হবে। তিনি তার স্বামীর হত্যার বিচার দাবি করেছেন। হত্যাকারীদের আটক ও রিকশা উদ্ধারেরও দাবি করেন।
এ বিষয়ে কোতয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন বলেছেন, ঘটনার পর তিনি নিজে পুলিশ নিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন। রাস্তার ওপর রক্ত দেখতে পান। স্থানটি নির্জন। ফলে খুব সহজেই সেখানে রিকসা চালকদের নিয়ে তাদের ক্ষতি করে অপরাধীরা পালিয়ে যেতে পারে। এই ঘটনার ৩/৪ দিন আগেও অপর এক রিকশা চালকের মাথায় আঘাত করে রিকশা ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনাটি উল্লেখ করা হলে তিনি বলেছেন, দুইটি ঘটনারই তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশ ক্লুলেস এই হত্যার তদন্ত করছে।