ফরহাদ খান, নড়াইল : বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে ‘পারিবারিক পুষ্টিবাগান’ ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙিনায় পারিবারিক পুষ্টিবাগানে ভিটামিন ও জিঙ্ক সমৃদ্ধ বিভিন্ন ধরণের শাকসবজি, ফলমূল আবাদ হচ্ছে। এতে পারিবারিক পুষ্টিচাহিদা যেমন মিটছে, তেমনি অনাবাদি পতিত জমিগুলো চাষাবাদের আওতায় আসছে। এমনকি পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি শাকসবজি ও ফলমূল বিক্রি করে আর্থিক স্বচ্ছলতা আসছে ‘পুষ্টিবাগান’ থেকে। নড়াইল সদরের গোবরা গ্রামে মোরাদ ইমামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বসতবাড়ির আঙিনায় থরে থরে সাজানো-গোছানো বিভিন্ন ধরণের সবজিক্ষেত। তিনি দেড় শতক জমিতে বাধাকপি, গাজর, বেগুন, বিটরুট, লালশাক,পালংশাক ও পুইশাক আবাদ করেছেন। বিষমুক্ত সবজি নিজে খাওয়ার পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশিদের দিচ্ছেন। ব্যবসায়ী মোরাদ ইমামের মতো বসতবাড়ির আঙিনায় অনাবাদি পতিত জমিতে ‘পারিবারিক পুষ্টিবাগান’ গড়ে তুলেছেন নড়াইল পৌর এলাকার উজিরপুরের কৃষক বিষ্ণুপদ শিকদার, সরসপুর গ্রামের স্কুলশিক্ষক মিজানুর রহমান, সীমাখালী গ্রামের রনি বেগমসহ বিভিন্ন পেশার তিন শতাধিক মানুষ। সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান বলেন, প্রায় পাঁচ বছর আগে বসতবাড়ির আঙিনার আশেপাশে অনাবাদি থাকলেও সেই জমিগুলো এখন পুষ্টিসমৃদ্ধ ফসলে ভরপুর। রঙ-বেরঙের এই সবজিক্ষেতগুলো দেখলেই যে কারোর মন-প্রাণ জুড়িয়ে যায়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ বসতবাড়ির আশেপাশে গড়ে তুলেছেন এই ক্ষেতগুলো। এইসব ক্ষেতে বারো মাসই চাষাবাদ হচ্ছে বিভিন্ন ধরণের শাকসবজি ও ফলমূলসমূহ। মওসুম ভেদে ক্ষেতগুলোতে বাধাকপি, রঙিন ফুলকপি, বিটরুট, পালংশাক, লালশাক, পুইশাক, বেগুন, টমেটো, ধনেপাতা, গাজর, পিয়াজকলি, লাউ, শিম, আদাসহ বিভিন্ন ধরণের সবজি চাষাবাদ হচ্ছে। বাণিজ্যিক ভাবে চাষাবাদের তুলনায় পারিবারিক পুষ্টিবাগানগুলোর বিশেষত্ব হলো, এখানে কোনো ধরণের রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না। জমিতে জৈব বা গোবর সার প্রয়োগ করে ফসল উৎপাদন করা হয়। শতভাগ কীটনাশকমুক্ত এসব সবজি ও ফলমূল পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি প্রতিবেশি এবং আত্মীয়-স্বজনদের পুষ্টিচাহিদা যোগান দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপকারভোগীরা। অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙিনায় পারিবারিক পুষ্টিবাগান স্থাপন প্রকল্পের পরিচালক ড. আকরাম হোসেন চৌধুরী বলেন, বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে ‘পারিবারিক পুষ্টিবাগান’ গড়ে তুলতে বিভিন্ন পেশার মানুষকে নিয়মিত উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত সবজিক্ষেতগুলো পরিদর্শন করছেন, উঠান বৈঠক ও পরামর্শ দিচ্ছেন। বিনামূল্যে বীজ ও চারা সরবরাহ করছেন। কৃষকদের মাঝে পুষ্টি বিষয়ক প্লেট বা থালাসহ বিভিন্ন উপকরণ দিচ্ছেন। পুষ্টি বিষয়ক গানে গানে ‘পুষ্টিবাগান’ স্থাপনে কৃষাণ-কৃষাণীদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, নড়াইলের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, প্রকল্পের আওতায় জেলায় ৫৬টি ‘পুষ্টিবাগান’ প্রদর্শনী বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এছাড়া কৃষকেরা উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদের উদ্যোগে প্রায় ৩০০ পুষ্টিবাগান গড়ে তুলেছেন। প্রতিটি পুষ্টিবাগান দেড় শতক জমিতে গড়ে উঠেছে। কেউ কেউ বেশি জমিতেও পুষ্টিবাগান করেছেন। এ ধরণের পুষ্টিবাগান আরো বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।