নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের বিদ্যুতের উৎপাদন ঘাটতির মধ্যে ভারতের আদানি পাওয়ারের একটি ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আদানির কেন্দ্র থেকে ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে, যা গতকাল ছিল দেড় হাজার মেগাওয়াটের ওপরে। এদিকে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় সারা দেশের ন্যায় যশোরেও লোডশেডিং বেড়ে গেছে।
যশোর শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং ভয়াবহ আকার দারণ করেছে। শহরাঞ্চলে দিনে কমপক্ষে ৪-৫ ঘন্টা লোডশেডিং হচ্ছে। আর গ্রামে রাত-দিন মিলে ৭-৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে করে তীব্র গরমে মানুষ হাফিয়ে ওঠেছে। বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন।
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রোহিতা গ্রামের কৃষক আজমল হোসেন বলেন- বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে রাত ৭টার মধ্যে কমপক্ষে ৭-৮ বার লোডশেডিং হয়েছে। প্রতিবার এক থেকে দেড় ঘন্টা করে মোট ৭-৮ ঘণ্টার মতো লোডশেডিং ছিল। কয়েক দিন ধরে বিদ্যুতের এমনই পরিস্থিতি আমাদের গ্রামে।
ঝিকরগাছা উপজেলার মাটিকুমড়া গ্রামের গোলাম মোস্তফা বলেন- তাপপ্রবাহ চলছে যশোরে। গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা। এর মধ্যে ধানে সেচ দিতে হচ্ছে। সেই কাজ করতে গিয়ে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে বিড়ম্বনাতে পড়তে হচ্ছে।
লোডশেডিংয়ের বিষয়ে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-যশোরের উপ-মহাব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান বলেন- ??আদানির ৭০০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট (মেশিন) বন্ধ হয়ে গেছে। এটি পুনরায় চালু হতে আরো তিন-চারদিন সময় লাগতে পারে। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি বেড়েছে। আমাদের গতকাল চাহিদা ছিল ১৬১ মেগাওয়াট, সরবরাহ পেয়েছি ১০৩ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল ৫৮ মেগাওয়াট।
যশোর শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো)। শহরে দিন-রাতে বিদ্যুৎ গিয়ে এক ঘণ্টা থেকে দেড় ঘণ্টা লোডশেডিং হয়। ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাবার কারণে প্রচ- গরমে মানুষ কাহিল হয়ে যাচ্ছে।
শহরের বকচর হুশতলা এলাকার এসএসসি পরীক্ষার্থী আসমা জাহান জানান, আমাদের পরীক্ষা চলছে। গত কয়েকদিন ধরে প্রচ- লোডশেডিং হচ্ছে। এতে করে তীব্র গরমে ঠিকমত লেখাপড়া করতে পারছিনা।
এ বিষয়ে ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন বলেন- যশোর শহরে বিদ্যুতের মোট চাহিদা ৫৬ মেগাওয়াট। বৃহস্পতিবার আমরা পেয়েছি ৪৫ মেগাওয়াট। এতে করে লোডশেডিং বেশি হচ্ছে। তবে আদানি কেন্দ্রটি সচল হলে আশা করছি লোডশেডিং কমে আসবে।
বিপিডিবি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার মধ্যরাতের পর ভারতে আদানির বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিটের বিয়ারিং থেকে সতর্কসংকেত পাওয়া যায়। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে ওই ইউনিটটির উৎপাদন বন্ধ করে দেয়া হয়।
ভারতের ঝাড়খ- রাজ্যে নির্মিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার। ২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করে পিডিবি। ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট আছে সেখানে।
বিপিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘??আদানির ৭০০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট (মেশিন) বন্ধ হয়ে গেছে। এটি পুনরায় চালু হতে আরো তিন-চারদিন সময় লাগতে পারে। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি বেড়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিকল্প হিসেবে জ্বালানি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সিরাজগঞ্জ ও খুলনার বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো চালু রেখে ঘাটতি কিছুটা পূরণ করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে চলমান তাপপ্রবাহের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় চাপ আরো বেড়েছে।
২০১৭ সালে আদানি পাওয়ার লিমিটেডের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করে পিডিবি। চুক্তি অনুসারে আদানির কেন্দ্র থেকে ২৫ বছর ধরে বিদ্যুৎ কিনবে বাংলাদেশ।