Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

ভাইয়ের লাশ নিতে লন্ডন থেকে বাংলাদেশে মীর ওয়াসী

এখন সময়: রবিবার, ২৬ এপ্রিল , ২০২৬, ০৪:৫২:২৪ এম

চৌগাছা প্রতিনিধি : ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতি নদী থেকে উদ্ধার হওয়া লাশটি আফগানিন্তানের নাগরিক হাশমত মোহাম্মাদির। লাশের ছবি দেখে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার আমেরিকা প্রবাসী ভাই মোহাম্মাদ ইরি। এবং ভাইয়ের লাশ নিতে লন্ডন প্রবাসী আরএক ভাই মীর ওয়াসী বাংলাদেশে এসেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ এপ্রিল মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতি নদীতে একটি লাশ ভেসে থাকতে দেখে স্থানীয়রা বিজিবি ক্যাম্প ও মহেশপুর থানায় খবর দেয়।
পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। পুলিশ ও পিবিআই লাশের পরিচয় সনাক্তের জন্য আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে জাতীয় পরিচয় পত্র খোঁজার চেষ্টা করে কিন্তু কোথাও ম্যাচ না করায় শেষ পর্যন্ত লাশটি বেওয়ারিশ হয়ে যায়।
নিয়ামানুযায়ী লাশটি দাফনের জন্য ঝিনাইদহ আন্জুমানে মফিদুল ইসলামের নিকট হস্তান্তর করে। সংস্থাটি ১৪ এপ্রিল লাশটি দাফন করে ফেলে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাওয়া লাশের ছবি দেখে নিহত হাশমত মোহাম্মাদীর ভাই আমেরিকা প্রবাসী মোহাম্মাদ ইরা লাশটি তার ভাইয়ের বলে শনাক্ত করে। এসময় তিনি আমেরিকায় তার পরিচিত বাংলাদেশের বগুড়ার সন্তান আহসান এর সাথে যোগাযোগ করেন। আহসান লাশটির অবস্থান সঠিকভাবে শনাক্ত না করতে পারলেও এটি যশোরের চৌগাছা সীমান্ত হতে পারে বলে অনুমান করেন। সেই হিসেবে তিনি ইন্টারনেট ব্যবহার করে চৌগাছা হাসপাতালের ডাক্তার সাইদুর রহমান ইমনের সাথে যোগাযোগ করেন। ডা. ইমন তাকে সাংবাদিক রহিদুল ইসলাম খানের মোবাইল নম্বর দিয়ে যোগাযোগ করতে বলেন। নিহতের ভাই জানান, তার ভাই হাশমত সর্বশেষ ইটালিতে বসবাস করতো। সে ইটালির পাসপোর্ট নিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আংটির পাথরের ব্যবসা করতো।
সর্বশেষ ১০ এপ্রিল (০১৭৯০৮৫১৭৮৫/+৯১৯৩৩০০৮৫৮৫৩) মোবাইল নম্বরে তার ভাইয়ের সাথে কথা হয় বাংলাদেশের দালাল কথিত মাসুদ নামের একজনের মাধ্যমে। সে জানায় তার ভাই বাংলাদেশের ভারত সীমন্তে আছে। ১১ তারিখে হাসমত তার আমেরিকা প্রবাসী ভাইকে জানায়-সে বাংলাদেশ সীমন্তে ইছামতির নদীর পাশে অবস্থান করছে।
মোহাম্মদ ইরা আরো জানান-এরপর থেকে তাদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তারা এসময় মাসুদের ফোনও বন্ধ পায়। কয়েকদিন পর মাসুদের সাথে তার একবার কথা হয় মাসুদ তাকে জানায় আপনার ভাই মারা গেছে, বাংলাদেশে পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেন। এসময় মাসুদ তার মোবাইল ফোন থেকে মৃতদেহের দুটি ছবিও পাঠায়। এরপর থেকে তার সাথে আর যোগাযোগ করা যায়নি।
পরবর্তীতে ২২ এপ্রিল বাংলাদেশী আহসানের মাধ্যমে সাংবাদিক রহিদুল ইসলাম খানের সহযোগিতায় মহেশপুর থানার এসআই টিপু সুলতানের সাথে কথা বলে লাশটি তার ভাইয়ের বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হন। এর পরে তিনি ২৪ এপ্রিল লন্ডন থেকে ভাইয়ের লাশ নিতে বাংলাদেশে পৌছান।
এদিকে বৃহস্পতিবার উদ্ধার হওয়া লাশ নিয়ে পত্রিকায় নিউজ প্রকাশ হয়। নিউজ প্রকাশ হওয়ার পরে প্রশাসনের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা গুরুত্বের সাথে তদন্ত শুরু করে।
মীর ওয়াসী ঢাকা এসেই সাংবাদিক রহিদুল ইসলাম খান এর সাথে যোগাযোগ করেন। রহিদুল খানের দেয়া দিক নির্দেশনা অনুযায়ী তারা পরবর্তীতে মহেশপুর থানায় গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেন।
এসময় ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সায়েম ইউসুফসহ সাংবাদিক বাবুল আক্তার, আসাদুজ্জামান, আজিজুর রহমান, ডিজিএফআইরে সদস্য ও ডিএসবির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ সুপার সায়েম ইউসুফ তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন এবং তাদেরকে লাশ নেয়ার প্রক্রিয়াগুলো বলেন।
এবং তাদেরকে আফগান দূতাবাসের মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিলে তারা শুক্রবার বিকেলে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)