নিউজ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রে নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিলের শৈশব কাটে ঢাকার মাওনা এলাকায়। তার বাল্যবন্ধু জসিম উদ্দিন জানান, ছোটোবেলা থেকেই জামিল ছিল অত্যন্ত মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের। বর্তমানে তার পরিবার ঢাকার অন্য একটি স্থানে বসবাস করছে। শনিবার নিহত জামিলের বাবার পৈতৃক ভিটা মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচূড়া ইউনিয়নের মহিষবাতান এলাকার নলডোবা গ্রামে গিয়ে কথা হয় তার চাচা জিয়াউল হকের সঙ্গে। তিনি বলেন, বহু বছর আগে তারা গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় চলে গেছে। মাঝে মধ্যে তাদের সঙ্গে ফোনে কথা হতো। মোবাইলে কথা হয় জামিলের মা লুৎফুন নেছার সঙ্গে। তিনি বলেন, তার দুই ছেলের মধ্যে জামিল আহামেদ লিমন বড়। তার ছোট ছেলে জোবায়ের। তার বাবা জহুরুল হক ঢাকা গাজীপুরে বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করেন। ছেলে জামিলের সঙ্গে মায়ের শেষ কথা হয়েছিল গত পহেলা বৈশাখে। শোকাহত মা জানান, সেদিন সকালে ছেলে জামিল ফোন করে জানতে চায়, মা তুমি পান্তা-ইলিশ খেয়েছ। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, জামিল পড়াশোনার খুব চাপে থাকত, তেমন কথা হতো না। বাংলা নববর্ষের সকালে ফোন দিয়ে শুধু জানতে চাইলো, আমি পান্তা-ইলিশ খেয়েছি কিনা। তিনি বলেন, তার জানা মতে, জামিলের সঙ্গে কারো কোনো শত্রুতা ছিলো না। ছেলে হারানোর শোকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এর চেয়ে বেশি কিছু বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেন তিনি। নিহত জামিলের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে তারা বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন, তা প্রকাশ করতে চান না। একইসঙ্গে জামিলের বাবা জহুরুল হকও গুরুতর অসুস্থ বলে জানিয়েছেন তার মা। জামিলের আকস্মিক মৃত্যুর খবরে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রে ১০ দিন ধরে নিখোঁজের পর শুক্রবার দিবাগত রাতে জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। জামিল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। তার সঙ্গে একই দিন নিখোঁজ হওয়া আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা এস বৃষ্টির সন্ধান এখনো পায়নি পুলিশ। তবে বৃষ্টির লাশ পাওয়া না গেলেও তার পরিবার সিবিএস নিউজকে বলেছে, ‘বৃষ্টিও সম্ভবত বেঁচে নেই’ বলে মার্কিন পুলিশ তাদের জানিয়েছে। বৃষ্টির ভাই জাহিদ প্রান্ত বলেন, পুলিশ বলেছে তার বোন বেঁচে নেই। তার লাশ নাও খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। টুকরা টুকরা করা হতে পারে লাশ। বৃষ্টির লাশ উদ্ধারে তারা তল্লাশি চালিয়ে যাওয়ার কথা বলছে পুলিশ। এ ঘটনায় হিশাম আবুঘরবেহ (২৬) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি জামিলের রুমমেট। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর শুক্রবার ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে জামিলের মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের (পুলিশ) কার্যালয় জানিয়েছে।