নিজস্ব প্রতিবেদক : বেনাপোলে চাঞ্চল্যকর নিরাপত্তা কর্মী ইউনুস আলী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই। এ হত্যাকা-ে জড়িত অভিযোগে দুই আসামিকে আটক ও হত্যাকা-ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
আটককৃতরা হলো-বেনাপোলের রহমতপুর গ্রামের মহিউদ্দিন শেখের ছেলে তরিকুল ইসলাম ও একই গ্রামের আরাফাতের ছেলে সবুজ হোসেন।
মঙ্গলবার আটক দুইজনকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা হত্যার সাথে জড়িত ও অপর জড়িতদের নাম উল্লেখ করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল আসামিদের জবানবন্দি গ্রহণ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
পিবিআই’র পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান জানান, নিহত ইউনুস আলী ছোট আচড়া গ্রামের মৃত মোস্তাব আলীর ছেলে ও বেনাপোল স্থলবন্দরের একটি ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন। পারিবারিক জটিলতা ও পূর্বের দাম্পত্য বিরোধকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকা- সংঘটিত হয়। নিহতের স্ত্রী তাসলিমা খাতুনের সঙ্গে একই এলাকার আনোয়ার হোসেনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। পরবর্তীতে বিয়ে, বিচ্ছেদ ও পুনরায় সংসার এসব ঘটনার বিরোধের জেরে ইউনুসকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। গত ২২ এপ্রিল কৌশলে আসামি তরিকুল ইসলাম বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে রহমতপুরের একটি বাড়িতে নিয়ে যায় ইউনুসকে। সেখানে আনোয়ারসহ আরও কয়েকজন মিলে তাকে আটকে রেখে মারধর ও নির্যাতন করে। ইউনুস আলীকে একপর্যায়ে আসামিরা শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
পরে সবুজের অ্যাপাচি মোটরসাইকেলে মরদেহ নিয়ে বেনাপোল-পুটখালী সড়কের পাশে ফেলে রেখে যায়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই ইউসুফ আলী অপরিচিত ব্যক্তিদের আসামি করে বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ পরে তদন্তের দায়িত্ব পায়। তদন্তকালে পিবিআই যশোরের এসআই রতন মিয়া তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত ও ২৭ এপ্রিল রাতে গোপালগঞ্জ থেকে তরিকুল ইসলামকে আটক করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আটক করা হয় সবুজ হোসেনকে। তাদের স্বীকারোক্তিতে হত্যাকা-ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মামলার মূল পরিকল্পনাকারী আনোয়ার হোসেনসহ আরও কয়েকজন এখনো পলাতক রয়েছে। তাদের আটকের অভিযান অব্যাহত আছে।