বিল্লাল হোসেন : এবার যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে টাকার বিনিময়ে রোগীর ছাড়পত্র দিচ্ছে আয়া সোনিয়া খাতুন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি প্রতি ছাড়পত্র বাবদ ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ওয়ার্ড ইনচার্জ নিলিমা খাতুনের ইন্ধনে সোনিয়া নিয়মবর্হিভূত বাণিজ্য করছেন। এর আগে শিশু ওয়ার্ডে ছাড়পত্র বাণিজ্যের সময় সোনিয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিলো। সোনিয়ার রোগী জিম্মি বাণিজ্যের কারণে ফলে দেশসেরা হাসপাতালটি সুনাম হারাচ্ছে। জানা গেছে, গত ২৯ এপ্রিল যশোর সদর উপজেলার রহমতপুর গ্রামের আখিতারাকে হাসপাতালের মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে (৮ নম্বর) ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর থেকে ওয়ার্ডে দায়িত্বর কর্মীরা নানা অজুহাতে টাকা আদায় শুরু করেন। চিকিৎসাসেবায় কিছুটা সুস্থ হলে শনিবার (২ মে) রোগীকে রিলিজ দেন চিকিৎসক। স্বজনেরা ছাড়পত্র নিতে গেলেই বাঁধে বিপত্তি। ছাড়পত্রের জন্য ওয়ার্ডে দায়িত্বরত স্বেচ্ছাসেবী সোনিয়া ৫০ টাকা দাবি দাবি করে বসেন। টাকা দিতে আপত্তি জানালে রোগীর স্বজনদের ওপর ক্ষুব্ধ হন তিনি। রোগীর মা পারভিনা খাতুন জানান, তার মেয়েকে ৮ নম্বর মেডিসিন ওয়ার্ডে আনার পর ওয়াশ করা বাবদ ১ হাজার টাকা দাবি করা হয়। এরপর নাকে নল লাগাতেও টাকা আদায় করেন। এজন্য দায়িত্বরতরা ৩০০ টাকার কম নিতে চাননি। বাগডাঙ্গা গ্রামের মহব্বত হোসেন জানান, মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের আয়া সোনিয়া তার রোগীর নাকে নল লাগানোর পর ৩০০ টাকা দাবি করেন। ১০০ টাকা দিতে গেলে তার সাথে খারাপ ব্যবহার করা হয়। পারভিনা খাতুন ও মহব্বত হোসেনের মতো আরও অনেকে একই অভিযোগ করেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালের মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে টাকা ছাড়া কোনো রোগীর ছাড়পত্র দেয়া হয়না। ওয়ার্ড ইনচার্জদের ইন্ধনে কৌশলে ছাড়পত্র বাবদ প্রতি রোগীর স্বজনের কাছ থেকে ৫০ থেকে ১০০ করে টাকা আদায় করা হয়। রোগীর কয়েকজন স্বজন জানান, ছাড়পত্র দেয়ার সময় আয়া সোনিয়া খাতুন সরাসরি টাকা আদায় করেন। টাকা না দিলে রোগী ও স্বজনদের গালমন্দ শুনতে হয়। এই অনিয়মে ওয়ার্ড ইনচার্জের মদদ আছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিদিন রোগীদের ছাড়পত্র দেয়া বাবদ আদায় করা টাকা ওয়ার্ড ইনচার্জ, সকালে দায়িত্বরত সেবিকা ও কর্মচারীরা ভাগাভাগি করে নেন। রোগীর স্বজনদের জিম্মি করে টাকা নেয়ার কারণে দেশসেরা এই হাসপাতালের বদনাম হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে এসে রোগীর স্বজনেরা কতিপয় সেবিকা ও কর্মচারীদের কাছে জিম্মি হয়ে যান। তারা অনিয়ম জেনেও বাধ্য হয়ে তাদের টাকা দেন। কেননা টাকা না দিলে ছাড়পত্রের সিরিয়ালের দুর্ভোগ ও চোখ রাঙানির শিকার হতে হয়। রোগী ও স্বজনদের অসহায়ত্ব মুহুর্তের কথা ভেবে এসব অনিয়ম বন্ধ করা উচিৎ। রোগীর স্বজনদের ভাষ্যমতে, স্বেচ্ছাসেবি আয়া সোনিয়ার ব্যবহার খুব খারাপ। ছাড়পত্র দেয়ার আগে দম্ভের সাথে বলেন টাকা দেন তারপর ছাড়পত্র পাবেন। ফলে টাকা দিয়ে ছাড়পত্র নিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। ছাড়পত্র বাণিজ্য ছাড়াও সোনিয়া দায়িত্ব পালনের সময় নানা অজুহাতে টাকা আদায় করেন। টাকা না দিলে ছাড়পত্রের সিরিয়ালের দুর্ভোগ ও চোখ রাঙানির শিকার হতে হয়। রোগী ও স্বজনদের অসহায়ত্ব মুহুর্তের কথা ভেবে এসব অনিয়ম বন্ধ করা উচিৎ। হাসপাতালের জমাদ্দার সর্দার ইমরান হোসেন জানান, সোনিয়া ছাড়পত্র বাণিজ্যের বিষয়টি জানার সাথেই ওয়ার্ড ইনচার্জের সাথে তিনি কথা বলেছেন। ওয়ার্ড ইনচার্জ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছেন বলে জানান। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, স্বেচ্ছাসেবী আয়া সোনিয়ার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। ছাড়পত্র বাণিজ্যের কারণে তাকে শিশু ওয়ার্ড থেকে সরিয়ে মেডিসিন ওয়ার্ডে দেয়া হয়েছিল। সেখানেও রোগী জিম্মি করে বাণিজ্যের বিষয়টি দুঃখজনক। রোগীর ছাড়পত্র নিতে টাকা আদায়ের কোন নিয়ম নেই। সোনিয়ার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।