মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: চেক জালিয়াতি মামলায় মণিরামপুরের চাঁদপুর-মাঝিয়ালি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন মুন্নার ১ বছরের কারাদন্ড ও ১২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে আদালত। গত ৪ মে যশোর আদালতের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ শান্তনু কুমার মন্ডল এ রায় প্রদান করেন। দন্ডপ্রাপ্ত জামাল উদ্দিন মুন্না উপজেলার মাঝিয়ালি গ্রামের সুজা উদ্দিনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন স্থানীয় চাঁদপুর-মাঝিয়ালি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে চাকরি করছেন। মামলার আর্জি ও রায়ের বিবরণী সূত্রে জানাযায়, বিভিন্ন ছলচাতুরী করে মণিরামপুর পৌর এলাকার হাকোবা গ্রামের আলতাফ হোসেনের স্ত্রী নাজমা বেগমের কাছ থেকে জামাল উদ্দীন মুন্না কয়েক দফায় ১২ লাখ ধার নেন। টাকা পরিশোধের নির্দিষ্ট সময়ে অতিক্রান্ত হবার পরও সে টাকা দিতে ব্যর্থ হয়। পরে তিনি বাদী নাজমা বেগমকে পূবালী ব্যাংক লিমিটেড, মণিরামপুর শাখার নিজ সঞ্চয়ী হিসাব নং-৪৯২৪৯০১০০৫১৮৫ এর অনুকুলে ১২ লাখ টাকার একটি চেক প্রদান করেন। যার চেক নং-এএসএসও-এ-৪৯৪৬৪৭৬-(অঝঝঙ-অ-৪৯৪৬৪৭৬). কিন্তু এ হিসাব নম্বরে টাকা না থাকায় গত ২০২৩ সালের ৫ মে চেকটি ডিজঅনার হয়। পরবর্তীতে ১৪ এপ্রিল টাকা পরিশোধের জন্য নাজমা বেগম আইনজীবীর মাধ্যমে জামাল উদ্দীন মুন্নাকে উকিল নোটিশ পাঠান। কিন্তু জামাল উদ্দীন টাকা পরিশোধ না করায় ২০২৩ সালের ২২ জুন জামাল উদ্দীন মুন্নার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী নাজমা বেগম বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিট্রেট আমলী মণিরামপুর, যশোর আদালতে মামলা করেন। যার মামলা নং-সেসন ৮২৭/২৪। মামলায় আসামী উদ্দীন মুন্না হাজির না হওয়ায় আদালত তাঁর অনুপস্থিতিতে অভিযোগ গঠন করেন। এরপর চলতি বছরের ৪ মে যশোর আদালতের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজের তৃতীয় আদলতের বিচারক শান্তনু কুমার মন্ডল আসামী জামাল উদ্দীন মুন্নাকে ১ বছরের কারাদন্ড ও ১২ লাখ টাকা জরিমান করে রায় প্রদান করেন। এ বিষয়ে জামাল উদ্দীন ব্যবহারিত মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি ওই দিনই ( রায়ের দিন) নাজমার সাথে সব কিছু মিটিয়ে নিয়েছি। কোন সমস্যা নেই। উল্লেখ্য ২০২২ সালেও একটি চেক জালিয়াতি মামলায় তার ১ বছরের সাজাসহ ৮ লাখ করে জরিমান করে রায় দিয়েছিল আদালত।