Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

❒লাপাত্তা ঠিকাদার

রাস্তা খুঁড়ে রাখায় মাঠের পাকা ধান পরিবহনে বিপাকে কৃষকেরা

এখন সময়: রবিবার, ১৭ মে , ২০২৬, ০১:৩৩:৫৭ এম

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : কয়েক মাস আগে রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য খুঁড়ে রাখা হয়। এরপর কাজের আর কোনো অগ্রগতি না করেই লাপাত্তা হয়েছে ঠিকাদার। তবে. কবে বা কতদিনের মধ্যে সড়কটির নির্মাণ সম্পন্ন হবে তাও জানেনা গ্রামবাসী। এদিকে বিকল্প কোনো রাস্তাও নেই। ফলে, সড়কের দুধারে মাঠের হাজার বিঘা জমির পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে বিপাকে পড়েছে কৃষকেরাা। এমন অবস্থা ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার জামাল ইউনিয়নের ডাউটি গ্রামের একটি গ্রামীণ সড়কের।
কৃষকদের অভিযোগ, গত কয়েক মাস হল তাদের গ্রামের মাঠের একমাত্র রাস্তাটি খুঁড়ে ফেলে রেখেই চলে গেছে ঠিকাদার। এখন তাদের মাঠ ভরা পাকা ধান। প্রতিদিনই ঝড় বৃষ্টি হচ্ছে। সড়ক খুঁড়ে রাখাতে কেউই ধান ঘরে তুলতে পারছেন না। কিন্তু, এখনই ধান ঘরে তুলতে না পারলে ক্ষেতেই নষ্ট হবার আশংকা রয়েছে। এ নিয়ে এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার হচ্ছে তাদের।
কালীগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১ কোটি ৮৯ লাখ ২৩ হাজার ৯১২ টাকা ব্যয়ে উপজেলার বড় ডাউটি গ্রামের মাঠের মধ্যদিয়ে হুদাডাউটি সড়কের ১৯৫০ মিটার কাচা সড়কটি পাকা করনের বরাদ্ধ হয়। কাজটি করছেন ঝিনাইদহ শৈলকুপার মেসার্স এম এম ফার্নিচার নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। গত ১৯-১১-২০২৫ থেকে শুরু হয়ে কাজটি ১৮-০৮-২০২৬ তারিখে কাজটি শেষ করার কথা। কয়েক মাস আগে রাস্তাটি খোঁড়া হলেও আর এগোইনি।
ডাউটি গ্রামের কৃষকরা জানান, কাঁচা রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য অনেক আগেই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেন। কিন্ত পুরো রাস্তা খুঁড়ে রেখেই ঠিকাদার লাপাত্তা হয়েছে। এখন ওই রাস্তায় কোনো গাড়ীই চলাচল করতে পাচ্ছে না। তারা জানান, সড়কটির দু’ধারে মাঠের সব ধান পেকে গেছে। রাস্তার বেহাল দশাতে তারা মাঠের ধান কাটতে না পারায় বিপাকে পড়েছেন।
জাহিদুল ইসলাম নামে আরেক কৃষক জানান, এ বছর রাস্তার পাশে মাঠেই তার ২০ বিঘা ধান রয়েছে। প্রায় সব ধানই পেকে গেছে। প্রতিবছর পাওয়ার টিলারে করে ধান বাড়িতে আনতেন। কিন্ত এবারে রাস্তা খোঁড়ার কারণে পরিবহন চলাচলে সমস্যায় ক্ষেতের ধান কাটতে পারেছন না। তিনি বলেন, আবহাওয়াও খারাপ চলছে। এমন অবস্থায় ধান বাড়ি আনতে হলে মাথায় করে টানতে হবে। এতে খরচও বেড়ে যাবে কয়েকগুন।
মনিরুল ইসলাম নামে আরেক কৃষক জানান, বেহাল রাস্তার কারনে পরিবহন না চলাতে কৃষি শ্রমিক দিয়ে মাথায় করে ধান আনতে হবে। এতে প্রতিবিঘায় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা বেশি খরচ হচ্ছে। তারপরও বৃষ্টি ঝড়ে ক্ষতির সাম্ভাবনা দেখা দেয়ায় তারা দুঃশ্চিন্তায় আছেন।
একই গ্রামের নজরুল ইসলাম বলেন, রাস্তাঘাট নির্মাণ হয় জনগণের কল্যাণের জন্য। কিন্ত সেই রাস্তাই এখন আমাদের অকল্যাণ বয়ে আনছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শুকনো মৌসুমে কাজ না করে রাস্তা খুঁড়ে ফেলে রেখে গেছে। এখন আমরা কি করে মাঠের ধান ঘরে তুলবো এ নিয়ে দুঃশচিন্তায় আছি।
কালীগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি অফিসের প্রকৌশলী শাহরিয়ার আকাশ জানান, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি প্রথমে কাজ শুরু করলেও বিটুমিন সংকট জানিয়ে কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি। যে কারণে কৃষকেরা সমস্যায় পড়েছে। ইতিমধ্যে তার অফিস থেকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটিকে দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদ দিয়েছেন বলে যোগ করেন তিনি।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)